শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পুলিশ কমিশনারকে বিদায় দিলো আরএমপি

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো: আনিসুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)-কে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে আরএমপি।

আজ ২ই আগষ্ট সকাল বেলা ১১ টায় আরএমপি পুলিশ লাইন্স পিওএম কনফারেন্স রুমে পুলিশ কমিশনার মো: আনিসুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) -এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়।

বিদায় অনুষ্ঠানে আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ও সিভিলস্টাফবৃন্দ বিদায়ী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা তাঁর পরবর্তী কর্মস্থলে উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারের আরএমপিতে ৭ মাসের কর্মকালের কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

এসময় পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পর ৭ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এসময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে সফর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব নিরসন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-সহ বেশ কয়েকটি বড় বড় কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছি, যা আপনাদের একান্ত সহযোগিতা, পেশাদারিত্বের মনোভাব ও নিষ্ঠার কারণে সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আপনাদের সাথে একযোগে কাজ করার, প্রয়োজনে পাশে থাকার। আপনারা আমার প্রতি যে শ্রদ্ধা ও আনুগত্য দেখিয়েছেন তার জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পুলিশ কমিশনার তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে গত ২৯শে জানুয়ারি রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী’র জনসভাকে নিরাপদ করেছেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে মহাসড়ক অবরোধ ও তার সন্নিহিত এলাকাগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হলে তিনি উভয়পক্ষকে নিবৃত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।

পুলিশ কমিশনারের দূরদর্শী নির্দেশনায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩, যা একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে সর্বজনবিদিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শনকারী বিএনপি’র তথাকথিত নেতাকে পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে আইনের আওতায়, যা দেশবাসীর নিকট প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও জামিনে থাকা জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কমিশনার আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় হাজিরার ব্যবস্থা করেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তা ছাড়া সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম যেমন: শীতবস্ত্র বিতরণ, হত-দরিদদের মাঝে ইফতার বিতরণেও তিনি ব্যপৃত থেকেছেন।
পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে আরএমপি’র প্রতিটি ক্রাইম ইউনিট, ট্রাফিক বিভাগ, ডিবি, সিটিএসবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সিআরটি, বোম্ব ডিসপোজাল টিম এবং অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার অধিকতর গতিশীলতার সাথে কাজ করছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো: ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো: সাইফউদ্দীন শাহীন, ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভাগীয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: নজরুল ইসলাম, শহিদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, ড. মো: গোলাম মাওলা, অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও সিভিলস্টাফবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পুলিশ কমিশনারকে বিদায় দিলো আরএমপি

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো: আনিসুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)-কে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে আরএমপি।

আজ ২ই আগষ্ট সকাল বেলা ১১ টায় আরএমপি পুলিশ লাইন্স পিওএম কনফারেন্স রুমে পুলিশ কমিশনার মো: আনিসুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) -এর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়।

বিদায় অনুষ্ঠানে আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য ও সিভিলস্টাফবৃন্দ বিদায়ী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে কাজ করার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা শ্রদ্ধা ও ভালবাসার সাথে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা তাঁর পরবর্তী কর্মস্থলে উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারের আরএমপিতে ৭ মাসের কর্মকালের কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

এসময় পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করার পর ৭ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এসময়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে সফর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্ব নিরসন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-সহ বেশ কয়েকটি বড় বড় কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছি, যা আপনাদের একান্ত সহযোগিতা, পেশাদারিত্বের মনোভাব ও নিষ্ঠার কারণে সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আপনাদের সাথে একযোগে কাজ করার, প্রয়োজনে পাশে থাকার। আপনারা আমার প্রতি যে শ্রদ্ধা ও আনুগত্য দেখিয়েছেন তার জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পুলিশ কমিশনার তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে গত ২৯শে জানুয়ারি রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী’র জনসভাকে নিরাপদ করেছেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে মহাসড়ক অবরোধ ও তার সন্নিহিত এলাকাগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হলে তিনি উভয়পক্ষকে নিবৃত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।

পুলিশ কমিশনারের দূরদর্শী নির্দেশনায় সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২৩, যা একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে সর্বজনবিদিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শনকারী বিএনপি’র তথাকথিত নেতাকে পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে আইনের আওতায়, যা দেশবাসীর নিকট প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও জামিনে থাকা জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ কমিশনার আরএমপি’র বিভিন্ন থানায় হাজিরার ব্যবস্থা করেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তা ছাড়া সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম যেমন: শীতবস্ত্র বিতরণ, হত-দরিদদের মাঝে ইফতার বিতরণেও তিনি ব্যপৃত থেকেছেন।
পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে আরএমপি’র প্রতিটি ক্রাইম ইউনিট, ট্রাফিক বিভাগ, ডিবি, সিটিএসবি, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সিআরটি, বোম্ব ডিসপোজাল টিম এবং অপারেশন কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার অধিকতর গতিশীলতার সাথে কাজ করছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স) মো: ফারুক হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো: সাইফউদ্দীন শাহীন, ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভাগীয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো: নজরুল ইসলাম, শহিদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, ড. মো: গোলাম মাওলা, অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও সিভিলস্টাফবৃন্দ।