বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৮ শতাংশই তরুণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই তরুণ। এদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। জেলা সির্ভিল সার্জনের মতে, তরুণদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা দ্রুত মশাবাহিত এই রোগটি থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে চার ধরনের বা সেরোটাইপের ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই পুরুষ। ১৬-৩০ বছর বয়সী মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে। আক্রান্তদের মধ্যে এনএস১ পজেটিভি, আইজিএম পজেটিভ, আইজিএম ও আইজিজি পজেটিভ রোগী রয়েছেন।

শনিবার (১২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনেরই বয়স ৩০ বছরের নিচে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী- জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একজন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ১৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ১২৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন  মোট ১৫০ জন সুস্থ্য হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালসহ আরও দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীসহ ২২ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ জানান, ডেঙ্গুতে তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে তাদের জেলার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা যাওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া হচ্ছে ঢাকায় গিয়ে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কাজে তরুণরাই বেশি ঢাকায় যান। আর এ জন্য তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি।

তিনি আরও জানান, তরুণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলেই সুস্থ্যতার হারও বেশি জেলাতে। কারণ তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। বেশি বয়সের এমন রোগিও পাওয়া গেছে যাদের রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যায়। কিন্তু তরুণদের বেলায় সাধারণত এমনটা দেখা যায় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৮ শতাংশই তরুণ

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭৮ শতাংশই তরুণ। এদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। জেলা সির্ভিল সার্জনের মতে, তরুণদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তারা দ্রুত মশাবাহিত এই রোগটি থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে চার ধরনের বা সেরোটাইপের ডেঙ্গু ধরা পড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই পুরুষ। ১৬-৩০ বছর বয়সী মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে। আক্রান্তদের মধ্যে এনএস১ পজেটিভি, আইজিএম পজেটিভ, আইজিএম ও আইজিজি পজেটিভ রোগী রয়েছেন।

শনিবার (১২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জেলা হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনেরই বয়স ৩০ বছরের নিচে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী- জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন একজন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ১৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ১২৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন  মোট ১৫০ জন সুস্থ্য হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালসহ আরও দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীসহ ২২ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ জানান, ডেঙ্গুতে তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে তাদের জেলার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা যাওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া হচ্ছে ঢাকায় গিয়ে তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। চাকরি, ব্যবসা, পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কাজে তরুণরাই বেশি ঢাকায় যান। আর এ জন্য তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি।

তিনি আরও জানান, তরুণরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলেই সুস্থ্যতার হারও বেশি জেলাতে। কারণ তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। বেশি বয়সের এমন রোগিও পাওয়া গেছে যাদের রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যায়। কিন্তু তরুণদের বেলায় সাধারণত এমনটা দেখা যায় না।