শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাড়ির আঙ্গিনার ১০ ফুট গভীরে মিলল প্রেমিকের মরদেহ, প্রেমিকা আটক

নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর নাটোরের বড়াইগ্রামে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ির আঙ্গিনায় মাটির ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা প্রেমিক মো. শাহীন শাহ’র (৪০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রেমিকা হুসনেয়ারা খাতুনকে (৩২) আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জলন্দা গ্রামের ওই বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহটি ওঠানো হয়। পরকীয়া প্রেমের জেরে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত শাহীন শাহ নাটোর সদর উপজেলার দস্তানাবাদ গ্রামের মোজাহার আলী শাহ’র ছেলে। তিনি নাটোর কোর্টে উকিলের মুহুরি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আর আটক হুসনেয়ারা খাতুন বড়াইগ্রাম উপজেলার জলন্দা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আইয়ুব আলীর স্ত্রী। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, গত সোমবার (০৭ আগস্ট) থেকে শাহীন শাহ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (০৮ আগস্ট) তার বড় ভাই আক্তার হোসেন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া র‌্যাব-৫ সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় অভিযোগ পাওয়ার পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম জলন্দা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হুসনেয়ারা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাহীনের খোঁজ পাওয়া যায়। তার তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙ্গিনায় টিউবওয়েলের গোড়ায় গর্ত খুঁড়ে শাহীনের মুখ, হাত ও পা বাঁধা এবং গলায় দড়ি লাগানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ৩ সন্তানের জননী হোসনে আরার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন শাহিন শাহ। গত ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে এ সস্পর্ক চলছিল। গত সোমবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে আসেন শাহিন। এক পর্যায়ে হুসনে আরার মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার সঙ্গে শারিরীক মেলামেশার চেষ্টা করেন। পরে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শাহিন শাহকে অচেতন করেন হুসনে আরা। এরপর তার প্যান্টের সঙ্গে থাকা বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শাহিন শাহ’র মরদেহটি বাড়ির আঙ্গিনায় নলকুপ মেরামতের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তে ১০ ফুট মাটির নিচে ফেলে চাপা দেওয়া হয়। ওসি বলেন, পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ওই নারীকে হত্যার কাজে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাড়ির আঙ্গিনার ১০ ফুট গভীরে মিলল প্রেমিকের মরদেহ, প্রেমিকা আটক

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৬:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩

নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর নাটোরের বড়াইগ্রামে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়ির আঙ্গিনায় মাটির ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা প্রেমিক মো. শাহীন শাহ’র (৪০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রেমিকা হুসনেয়ারা খাতুনকে (৩২) আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জলন্দা গ্রামের ওই বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহটি ওঠানো হয়। পরকীয়া প্রেমের জেরে ফোন করে বাড়িতে ডেকে এনে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত শাহীন শাহ নাটোর সদর উপজেলার দস্তানাবাদ গ্রামের মোজাহার আলী শাহ’র ছেলে। তিনি নাটোর কোর্টে উকিলের মুহুরি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আর আটক হুসনেয়ারা খাতুন বড়াইগ্রাম উপজেলার জলন্দা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আইয়ুব আলীর স্ত্রী। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, গত সোমবার (০৭ আগস্ট) থেকে শাহীন শাহ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার (০৮ আগস্ট) তার বড় ভাই আক্তার হোসেন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া র‌্যাব-৫ সিপিসি-২, নাটোর ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় অভিযোগ পাওয়ার পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ টিম জলন্দা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হুসনেয়ারা খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শাহীনের খোঁজ পাওয়া যায়। তার তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙ্গিনায় টিউবওয়েলের গোড়ায় গর্ত খুঁড়ে শাহীনের মুখ, হাত ও পা বাঁধা এবং গলায় দড়ি লাগানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ৩ সন্তানের জননী হোসনে আরার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন শাহিন শাহ। গত ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে এ সস্পর্ক চলছিল। গত সোমবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে আসেন শাহিন। এক পর্যায়ে হুসনে আরার মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার সঙ্গে শারিরীক মেলামেশার চেষ্টা করেন। পরে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শাহিন শাহকে অচেতন করেন হুসনে আরা। এরপর তার প্যান্টের সঙ্গে থাকা বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শাহিন শাহ’র মরদেহটি বাড়ির আঙ্গিনায় নলকুপ মেরামতের জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তে ১০ ফুট মাটির নিচে ফেলে চাপা দেওয়া হয়। ওসি বলেন, পরকীয়া প্রেমের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ওই নারীকে হত্যার কাজে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।