রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ডাবল সিটের একটি রুম একাই দখল করে থাকতেন হল শাখা ছাত্রলীগ নেতৃ নাশরাত আর্শিয়ানা ঐশী। ওই কক্ষে হল প্রাধ্যক্ষ অন্য শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দিলে তিনি উঠতে দিতেন না। এ নিয়ে হল প্রশাসন তাকে তিনবার নোটিশ দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এমনকি নিজেকে রাষ্ট্রপতির নাতনী বলে হুমকি দিয়েছেন। তাই ওই নেত্রীর কক্ষ সিলগালা করে দিয়েছে হল প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে তার কক্ষটি সিলগালা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারজানা কাইয়ুম কেয়া।
ঐশী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তিনি হলের ২৮৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রাবি ছাত্রলীগের ২৬তম সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।
কক্ষ সিলগালা করার বিষয়ে আবাসিক শিক্ষক মণি কৃষ্ণ বলেন, হলের ২৮৮ নম্বর কক্ষটি ডাবল সিটের। কিন্তু শুরু থেকে ঐশী ওই কক্ষে একা থাকেন। তাঁর কক্ষে কাউকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হলে তিনি উঠতে দেন না। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন থেকে মাসখানেক আগে চিঠি ইস্যু করা হয়। তিনি চিঠির কোনো জবাব দেননি। এ ছাড়া তিনি হলের নিয়মনীতিও মানেন না। রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখাতে চান। বিষয়গুলো নিয়ে হল প্রশাসন ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর তথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কক্ষটি সিলগালা করা হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেত্রী ঐশী বলেন, ‘প্রথমে প্রভোস্ট ম্যাম রাগের বশে এ রকম কাজ করেছিলেন। তারপর আমাদের বড় ভাইয়েরা প্রভোস্ট ও ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করেছেন।’
এ বিষয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাজরিন মেধা বলেন, ‘আমাদের হলে কোনো সিঙ্গেল রুম নেই। ঐশী তাঁর রুমে একা থাকেন। ওই রুমে অন্য কাউকে সিট বরাদ্দ দিলে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রাধ্যক্ষ ম্যাম একাধিকবার তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি ডাবল সিটের রুমে একা থাকতে চান। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর কক্ষে সিলগালা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারজানা কাইয়ুম কেয়া বলেন, ওই কক্ষে কাউকে আবাসিকতা দিলে ওই ছাত্রলীগ নেত্রী কাউকে উঠতে দিত না। বিভিন্ন হুমকি দিতেন শিক্ষার্থীদের। এনিয়ে তাকে তিনবার নোটিশ দিলেও সে সাড়া দেননি। পরবর্তীতে তার কক্ষ সিলগালা করতে গেলে সে আমাদের হুমকি দিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতির নাতনী বলে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তার কক্ষটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

রিপোর্টারের নাম 






















