ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের একজন বিশ্বকাপে তাকে মিডল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন তামিম ইকবাল। বিষয়টাকে ‘নোংরামি’ মনে করে বিশ্বকাপ দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন বলে বলেছেন সাবেক অধিনায়ক। বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মনে করেন, যদি কেউ এ প্রস্তাব দিয়েও থাকেন, তাহলে তা দলের ভালোর জন্যই দেওয়া হয়েছে। দলের প্রয়োজনে যে কারও যেকোনো পজিশনে খেলতে রাজি থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। কেউ এসবের বাইরে গিয়ে যদি ভেবে থাকেন, তাহলে ‘দলের আগে নিজের কথা ভাবছেন’ বলেও মন্তব্য করেছেন সাকিব।
গতকাল বুধবার রাতে আগে রেকর্ড করা এক টিভি সাক্ষাৎকারে সাকিব তামিমের বাদ পড়া প্রসঙ্গ, মাহমুদউল্লাহর দলভুক্তি ও অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে নানা প্রশ্নের জবাবে দেন। তামিমকে মিডল অর্ডারে খেলার প্রস্তাব দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনাই হয়নি আমার সঙ্গে। কেউ যদি বলে থাকে, তিনি অথরাইজড পারসন। আগে থেকে আলাপ করে রাখতে চেয়েছিলেন, যাতে দুপক্ষের জন্যই ভালো হয়। আমি নিশ্চিত দলের কথা চিন্তা করেই বলেছেন যে ওকে, ঠিক আছে, এমন কম্বিনেশন যদি করি! এরকম বানালে কী হতো। অনেক থাকে এমন। ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনেক কিছু হয়। সে হিসেবে চিন্তা করে আগে থেকে পরিষ্কার করে রাখতে চায়, (তাহলে) আলোচনা দোষের কিছু না। নাকি প্রস্তাবই দেওয়া যাবে না? একজনকে বলা হবে যে যা ইচ্ছা তা-ই করো। দল আগে না ব্যক্তি আগে?’
সাকিব এরপর বলেন, ‘রোহিতের (শর্মা) মতো ক্রিকেটার নাম্বার সেভেন থেকে এসে ১০ হাজার করে ফেলেছে। মাঝেমধ্যে সেও যদি তিন-চারে খেলে, ব্যাটিংয়ে না নামে, খুব একটা কি সমস্যা হয়? এটা আসলে আমার কাছে মনে হয়, একদম বাচ্চা মানুষের মতো, “আমার ব্যাট আমি খেলব। আর কেউ খেলতে পারবে না”।’
কে টিমম্যান, কে টিমম্যান না, তা বোঝাতে সাকিব বলেন, ‘যখন দেখলেন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কেন দেওয়া হয়েছে? হয়তো দলের ভালো হবে। অবশ্যই আলোচনা আছে যে, না আমি পারব, আমি নিজের সেরাটা দেব। তাহলে আপনি টিমম্যান। না হলে আপনি টিমম্যান না। নিজের রেকর্ড, সাফল্য, খ্যাতির জন্য খেলছেন।’
অধিনায়ক একা যে দল নির্বাচন করেন না তা মনে করিয়ে দিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘রিয়াদ ভাইয়ের যে ডেডিকেশন ছিল, তার দলের প্রতি যে অবদান ছিল, দলের হয়ে খেলার যে ইচ্ছে ছিল, সবকিছু সবাই দেখতে পেরেছে। আমার দায়িত্ব তো পুরো দলটা নির্বাচন করার না। এমনটা হলে এশিয়া কাপের এক দিন পরই অ্যানাউন্স করে দল দিয়ে দিতে পারতাম। এটা অনেক প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক বিষয় চিন্তা করতে হয়। অনেক কিছু চিন্তা করে দলটা গড়তে হয়।’
অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ বিশ্বকাপই শেষ। এরপর একদিনও (অধিনায়কত্ব) করব না। যে কারণে আমি এশিয়া কাপের আগে নিতে চাইনি। এরপরও এটা না। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি হাসতে চাই, খেলতে চাই, পারফর্ম করতে চাই। এই একটা কারণে আমি করতে চাইনি। আর কোনো কারণ নেই। বেস্ট হয় যদি অধিনায়ক না থাকি। অধিনায়কত্ব কি আমার কোনো ভেল্যু অ্যাড করছে ক্যারিয়ারে এই স্টেজে এসে? আমি তো মনে করি না।’
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে সব ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা বলেন সাকিব।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























