বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইন্টার্ন নার্সদের অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি

অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এ্যান্ড মিডওয়াইফারি পাশ করা ইন্টার্ন নার্সরা। ইন্টার্ন ভাতার দাবিতে রবিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে তারা এই কর্ম বিরতি শুরু করে। এ সময় জেলা হাসপাতালের ৪৮ জন ইন্টার্ন নার্স কর্মবিরতি করেন। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য ও ইন্টার্ন নার্সরা এই কর্মবিরতি করেন। অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি বিষয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমরা তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করে জেলা হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্স হিসাবে কর্মরত আছি। কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশীপ করার সময় ইন্টার্ন ভাতা বরাদ্দ ও মঞ্জুরি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের ইন্টার্ন ভাতা বাবদ কোনো বরাদ্দ পাইনি। এ বিষয়ে ইন্টার্ন নার্সরা আরও বলেন, আমাদের লগবুকের ১৪নং পৃষ্ঠার কোড অব কন্ডাক্টের ইন্টার্ন ভাতার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনো ইন্টার্ন ভাতা পাচ্ছি না। নার্সিংয়ে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মেয়ে। আমাদের সপ্তাহে দুই দিন করে মর্নিং, দুই দিন করে ইভেনিং এবং দুই দিন করে নাইট ডিউটি করতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কোনো হোস্টেলের সুবিধা নাই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজার, বাসা ভাড়া, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, হাত খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে মাসে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কখনো কখনো তারও বেশি খরচ হয়ে যায়। কিন্তু ইন্টার্ন ভাতা না পাওয়ায় আমাদেরকে নিম্নমানের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নশীপ করা অবস্থায় বাসা থেকে টাকা এনে ইন্টার্নশীপ করাটাও আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতির পথ বেছে নিতে হচ্ছে। আর তাই যতদিন পর্যন্ত দাবী আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান ইন্টার্ন নার্সরা। এদিকে কর্মবিরতি ছাড়াও সকালে জেলা হাসপাতালের সামনের চত্ত্বরে এক মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. রিয়াল, মিজানুর রহমান, সুমন আলী, সাধারণ সম্পাদক সানজিদা বৃষ্টি, সহ-সাধারণ সম্পাদক সবনম মুস্তারিসহ অন্যান্যরা। কর্ম বিরতি ও মানববন্ধন বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ জানান, ইন্টার্ন নার্সরা তাদের নিজেদের দাবিতে কর্মবিরতি করছে। এতে স্বাস্থ্য সেবায় কোন ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না বা এতে কোন প্রভাব পড়বে না। বিকল্প ব্যবস্থায় নার্সের ব্যবস্থা করে জরুরি সেবা ও হাসপাতালের চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইন্টার্ন নার্সদের অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০২৩

অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এ্যান্ড মিডওয়াইফারি পাশ করা ইন্টার্ন নার্সরা। ইন্টার্ন ভাতার দাবিতে রবিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে তারা এই কর্ম বিরতি শুরু করে। এ সময় জেলা হাসপাতালের ৪৮ জন ইন্টার্ন নার্স কর্মবিরতি করেন। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য ও ইন্টার্ন নার্সরা এই কর্মবিরতি করেন। অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতি বিষয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, আমরা তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করে জেলা হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্স হিসাবে কর্মরত আছি। কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশীপ করার সময় ইন্টার্ন ভাতা বরাদ্দ ও মঞ্জুরি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়ে পত্র প্রেরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত আমরা আমাদের ইন্টার্ন ভাতা বাবদ কোনো বরাদ্দ পাইনি। এ বিষয়ে ইন্টার্ন নার্সরা আরও বলেন, আমাদের লগবুকের ১৪নং পৃষ্ঠার কোড অব কন্ডাক্টের ইন্টার্ন ভাতার কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও আমরা কোনো ইন্টার্ন ভাতা পাচ্ছি না। নার্সিংয়ে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মেয়ে। আমাদের সপ্তাহে দুই দিন করে মর্নিং, দুই দিন করে ইভেনিং এবং দুই দিন করে নাইট ডিউটি করতে হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কোনো হোস্টেলের সুবিধা নাই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজার, বাসা ভাড়া, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, হাত খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে মাসে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কখনো কখনো তারও বেশি খরচ হয়ে যায়। কিন্তু ইন্টার্ন ভাতা না পাওয়ায় আমাদেরকে নিম্নমানের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নশীপ করা অবস্থায় বাসা থেকে টাকা এনে ইন্টার্নশীপ করাটাও আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে আমাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কর্মবিরতির পথ বেছে নিতে হচ্ছে। আর তাই যতদিন পর্যন্ত দাবী আদায় না হবে ততদিন পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান ইন্টার্ন নার্সরা। এদিকে কর্মবিরতি ছাড়াও সকালে জেলা হাসপাতালের সামনের চত্ত্বরে এক মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. রিয়াল, মিজানুর রহমান, সুমন আলী, সাধারণ সম্পাদক সানজিদা বৃষ্টি, সহ-সাধারণ সম্পাদক সবনম মুস্তারিসহ অন্যান্যরা। কর্ম বিরতি ও মানববন্ধন বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ জানান, ইন্টার্ন নার্সরা তাদের নিজেদের দাবিতে কর্মবিরতি করছে। এতে স্বাস্থ্য সেবায় কোন ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না বা এতে কোন প্রভাব পড়বে না। বিকল্প ব্যবস্থায় নার্সের ব্যবস্থা করে জরুরি সেবা ও হাসপাতালের চিকিৎসা প্রদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং থাকবে।