বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্যাম্পাসে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার রাবি শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থী মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ পত্রে তিনি লিখেন, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় আমি ক্যাম্পাসে অবস্থিত BCS কনফার্মের সামনে দিয়ে শেরে বাংলা হলে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে একটা ছেলে আমাকে ডাকে এবং স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত মাঠের নির্জন জায়গা নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষাকৃত ৫ জন ছেলে আমাকে ছুরি প্রদর্শন করে এবং আমাকে আমার ফোন দিতে বলে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয় এবং বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা ৫জন অনবরত কিল, ঘুষি, থাপ্পড় মারতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা আমাকে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে একজন আমার পকেট থেকে পড়ে যাওয়া আমার ফোন, আমার ম্যানিব্যাগ যার মধ্যে প্রায় ১৪০০ টাকা ছিল এবং আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়। তিনি আরও লিখেছেন, যাওয়ার সময় আমি চিৎকার করলে লোকজন চলে আসে তারা ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজনকে চিনতে পারে। তার নাম তাসনিম আলম সান্ত। সে শেরে বাংলা হলে থাকে। পরে হলে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে উর্দু বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, তাকে আমি চিনি না। সে কিছুদিন আগেই হলে উঠেছে। আর হুমকি দেওয়ার বিষয়টাও মিথ্যা। প্রক্টর অফিস থেকেও আমায় মামলা করার কথা বলেছে। এরপর তারা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তাসনিম আলম শান্ত বলেন, এই অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনা ঘটার সময় আমি ওনাকে দেখে বাঁচাতে চাই। কারণ তাকে ৩ বছর ধরে চিনি। কিন্তু পরে তিনি আমায় বলেন ওরা কারা ছিল। আমি তো কাউকে চিনি না। এটা বলার পর আমায় হুমকি দেওয়া শুরু করলো যে তোকে দেখে নিব। আবার হলের আমার রুমে এক ছোট ভাই এসেছে, ছিনতাইকারীদের নাম না বললে তাকেও আটকে রাখার হুমকি দিয়েছে। আগামীকাল আমার পরীক্ষা। এই অবস্থায় আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আজকে দুপুরে জুয়েল (ভুক্তভোগী) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপর সন্ধ্যায় যার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছেন সেই শান্ত পাল্টা একটি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কালকে বসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ক্যাম্পাসে মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার রাবি শিক্ষার্থী

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থী মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ পত্রে তিনি লিখেন, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় আমি ক্যাম্পাসে অবস্থিত BCS কনফার্মের সামনে দিয়ে শেরে বাংলা হলে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে একটা ছেলে আমাকে ডাকে এবং স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত মাঠের নির্জন জায়গা নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষাকৃত ৫ জন ছেলে আমাকে ছুরি প্রদর্শন করে এবং আমাকে আমার ফোন দিতে বলে। এমতাবস্থায় তাদের সাথে আমার বাকবিতন্ডা হয় এবং বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা ৫জন অনবরত কিল, ঘুষি, থাপ্পড় মারতে থাকে। মারধরের এক পর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা আমাকে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে একজন আমার পকেট থেকে পড়ে যাওয়া আমার ফোন, আমার ম্যানিব্যাগ যার মধ্যে প্রায় ১৪০০ টাকা ছিল এবং আমার ব্যবহৃত স্বর্ণের আংটি নিয়ে যায়। তিনি আরও লিখেছেন, যাওয়ার সময় আমি চিৎকার করলে লোকজন চলে আসে তারা ছিনতাইকারীদের মধ্যে একজনকে চিনতে পারে। তার নাম তাসনিম আলম সান্ত। সে শেরে বাংলা হলে থাকে। পরে হলে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে উর্দু বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, তাকে আমি চিনি না। সে কিছুদিন আগেই হলে উঠেছে। আর হুমকি দেওয়ার বিষয়টাও মিথ্যা। প্রক্টর অফিস থেকেও আমায় মামলা করার কথা বলেছে। এরপর তারা নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তাসনিম আলম শান্ত বলেন, এই অভিযোগ মিথ্যা। ঘটনা ঘটার সময় আমি ওনাকে দেখে বাঁচাতে চাই। কারণ তাকে ৩ বছর ধরে চিনি। কিন্তু পরে তিনি আমায় বলেন ওরা কারা ছিল। আমি তো কাউকে চিনি না। এটা বলার পর আমায় হুমকি দেওয়া শুরু করলো যে তোকে দেখে নিব। আবার হলের আমার রুমে এক ছোট ভাই এসেছে, ছিনতাইকারীদের নাম না বললে তাকেও আটকে রাখার হুমকি দিয়েছে। আগামীকাল আমার পরীক্ষা। এই অবস্থায় আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আজকে দুপুরে জুয়েল (ভুক্তভোগী) একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপর সন্ধ্যায় যার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছেন সেই শান্ত পাল্টা একটি দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কালকে বসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।