বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবি ছাত্রলীগের ৬ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার করল প্রশাসন

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয় ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ৫ ছাত্রলীগ নেতাসহ ২১ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই মাসের ২২ তারিখে ৫২৫ তম সিন্ডিকেট সভায় তা গৃহীত হয়। পরে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে ১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহ। তিনি ইতিমধ্যে বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০২২ সালের জুনে একই বিভাগের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে। সেসময় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগেই তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাকি ৮ জন সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির বহিস্কৃত সহ-সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম শান্ত, সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সম্পাদক মো.স্বপন হোসাইন, আইবিএ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সিনহা, শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহাম্মেদ, কর্মী মো. শাকোয়ান সিদ্দিক, মহিবুল মমিন সনেট। চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হাসিবুল ইসলাম শান্তকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইবিএ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আবু সিনহাকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য ২ বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সানজিদ হাসান আরিফ এবং একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. হাফিজুর রহমানকে ১ বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২১-২২ সালের ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন, আল শামস তামিম, ইয়াসির আরাফাত, নজরুল ইসলাম, ফজলুল করিম মাহিন, শাফিউল্লাহ, আলিফ হোসেন ও শিশির। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রায় হলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকার পরও শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ভাস্কর সাহাকে সতর্ক করেছে প্রশাসন। এছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে চলতি বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে মারধর ও ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই দুই নেতা হলেন ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান। এছাড়া ১ জনকে হল থেকে বহিষ্কার ও ২১জনকে সতর্ক এবং ২জনকে ক্ষমা করতে বলা হয়েছে অফিস আদেশে।

সার্বিক বিষয়ে শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারো আবাসিকতা বাতিল, সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিল ও সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে৷ সিন্ডিকেট সভায় সুপারিশগুলো গৃহীত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাবি ছাত্রলীগের ৬ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার করল প্রশাসন

প্রকাশিত সময় : ০৮:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছয় ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া ৫ ছাত্রলীগ নেতাসহ ২১ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার (২২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। একই মাসের ২২ তারিখে ৫২৫ তম সিন্ডিকেট সভায় তা গৃহীত হয়। পরে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাদের বিরুদ্ধে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে ১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থায়ী বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী হলেন, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহ। তিনি ইতিমধ্যে বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ২০২২ সালের জুনে একই বিভাগের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহর বিরুদ্ধে। সেসময় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগেই তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বাকি ৮ জন সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির বহিস্কৃত সহ-সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম শান্ত, সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সম্পাদক মো.স্বপন হোসাইন, আইবিএ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সিনহা, শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাজু আহাম্মেদ, কর্মী মো. শাকোয়ান সিদ্দিক, মহিবুল মমিন সনেট। চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হাসিবুল ইসলাম শান্তকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স বিভাগের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইবিএ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আবু সিনহাকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য ২ বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, গণিত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সানজিদ হাসান আরিফ এবং একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মো. হাফিজুর রহমানকে ১ বছরের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২১-২২ সালের ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন, আল শামস তামিম, ইয়াসির আরাফাত, নজরুল ইসলাম, ফজলুল করিম মাহিন, শাফিউল্লাহ, আলিফ হোসেন ও শিশির। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। রায় হলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকার পরও শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ভাস্কর সাহাকে সতর্ক করেছে প্রশাসন। এছাড়া হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে চলতি বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে মারধর ও ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতাকে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই দুই নেতা হলেন ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান। এছাড়া ১ জনকে হল থেকে বহিষ্কার ও ২১জনকে সতর্ক এবং ২জনকে ক্ষমা করতে বলা হয়েছে অফিস আদেশে।

সার্বিক বিষয়ে শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারো আবাসিকতা বাতিল, সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিল ও সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে৷ সিন্ডিকেট সভায় সুপারিশগুলো গৃহীত হয়েছে।