রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বেগম রোকেয়া দিবস : পদক পাচ্ছেন ৫ বিশিষ্ট নারী

বেগম রোকেয়া দিবস আজ ৯ ডিসেম্বর। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ দেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ বছর নারী জাগরণের মহীয়সী ব্যক্তিত্ব বেগম রোকেয়া পদক যারা পাচ্ছেন তারা হলেন- নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় চিকিৎসক হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেত্রকোনার কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর), পল্লি উন্নয়নে ঠাকুরগাঁওয়ের রনিতা বালা এবং নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার। আজ বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন ও বেগম রোকেয়া পদক প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে। সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোকেয়া পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করবেন। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যককে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণনির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, ৪ লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মস্থলে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের সমান করার (ফিফটি ফিফটি বা ৫০: ৫০) ঘোষণা দিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৫টি বিভিন্ন ট্রেডে ৭ লাখ নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থান- সব ক্ষেত্রে নারীরা আজ সফল অগ্রযাত্রায়। নারীরা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নারী-পুরুষের সমতার দাবি নিয়ে কলম আন্দোলনের মাধ্যমে উপমহাদেশের নারীদের জীবন পরিবর্তনের ধারার সূচনা করেছিলেন মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। দিবসটি উপলক্ষে নারী জাগরণের অগ্রদূত ও মানবমুক্তির অগ্নিশিখা মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়ার জীবনাচরণ ও নারী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সমাজ তথা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। তার এই উপলব্ধি ও আদর্শ আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আমি বাঙালি নারী শিক্ষার প্রসার ও নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এ বছর যারা ‘বেগম রোকেয়া পদক’ পেয়েছেন, আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ বেগম রোকেয়া দিবস : পদক পাচ্ছেন ৫ বিশিষ্ট নারী

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

বেগম রোকেয়া দিবস আজ ৯ ডিসেম্বর। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচজন বিশিষ্ট নারীকে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৩ দেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ বছর নারী জাগরণের মহীয়সী ব্যক্তিত্ব বেগম রোকেয়া পদক যারা পাচ্ছেন তারা হলেন- নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম নারী উপাচার্য খালেদা একরাম (মরণোত্তর), নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় চিকিৎসক হালিদা হানুম আখতার, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেত্রকোনার কামরুন্নেছা আশরাফ দিনা (মরণোত্তর), পল্লি উন্নয়নে ঠাকুরগাঁওয়ের রনিতা বালা এবং নারী জাগরণে উদ্বুদ্ধকরণে নিশাত মজুমদার। আজ বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন ও বেগম রোকেয়া পদক প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান হবে। সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোকেয়া পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করবেন। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যককে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম স্বর্ণনির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, ৪ লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মস্থলে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের সমান করার (ফিফটি ফিফটি বা ৫০: ৫০) ঘোষণা দিয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৫টি বিভিন্ন ট্রেডে ৭ লাখ নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থান- সব ক্ষেত্রে নারীরা আজ সফল অগ্রযাত্রায়। নারীরা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’ দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নারী-পুরুষের সমতার দাবি নিয়ে কলম আন্দোলনের মাধ্যমে উপমহাদেশের নারীদের জীবন পরিবর্তনের ধারার সূচনা করেছিলেন মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। দিবসটি উপলক্ষে নারী জাগরণের অগ্রদূত ও মানবমুক্তির অগ্নিশিখা মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেগম রোকেয়ার জীবনাচরণ ও নারী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বেগম রোকেয়া ছিলেন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন আধুনিক নারী। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সমাজ তথা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। তার এই উপলব্ধি ও আদর্শ আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আমি বাঙালি নারী শিক্ষার প্রসার ও নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। এ বছর যারা ‘বেগম রোকেয়া পদক’ পেয়েছেন, আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’