বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে নির্মূল কমিটির শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন

যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজশাহী মহানগরের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সুর্যাস্তের পর রাজশাহী নগরীর হাদির মোড় বধ্যভূমির স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে র‌্যালি ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মহানগর সভাপতি আব্দুল লতিফ চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তামিম শিরাজী, সাবেক উপাধ্যক্ষ রইস উদ্দীন, রাজশাহী বারের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত পিপি শিরাজী শওকত সালেহীন এলেন, অতিরিক্ত জিপি অ্যাড. শামীম আক্তার হৃদয়, নির্মূল কমিটির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক রনি সরকার, সহ-প্রচার সম্পাদক মাহী ইলাহি, মহানগর নির্মূল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ওয়ালিউর শেখ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, নারী ইউনিটের সভাপতি হালিমা কুমকুম,সাধারণ সম্পাদক সাইমা খাতুন বিথী, যুব ইউনিটের সভাপতির মহিউদ্দিন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ রাকিন আবসার অর্ণবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতও হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরত্ব সম্পর্কে একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তামিম শিরাজী বলেন, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর পরিকল্পনায় জামায়াতে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয় যুদ্ধ চলাকালীন সময় তালিকা করে সারাদেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

ইসলামী ছাত্র সংঘই পরে রূপান্তরিত হয় আলবদর বাহিনীতে, চোখের ডাক্তারের চোখ উপড়ে নেয়া , হার্টের ডাক্তারের হার্ট বেনিয়েট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা, শিক্ষকের হাত কেটে ফেলা, বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষদের মগজ থেতলে দেওয়ার মতো জঘন্য নির্মমতা ইতিহাসে আর দেখা যায় না। দুঃখের বিষয় ৫৩ বছরেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সম্মান জানাতে অবিলম্বে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। জামাত শিবিরের রাজনীতি আইন করে বন্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে নির্মূল কমিটির শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন

প্রকাশিত সময় : ১১:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩

যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজশাহী মহানগরের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সুর্যাস্তের পর রাজশাহী নগরীর হাদির মোড় বধ্যভূমির স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে র‌্যালি ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মহানগর সভাপতি আব্দুল লতিফ চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তামিম শিরাজী, সাবেক উপাধ্যক্ষ রইস উদ্দীন, রাজশাহী বারের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত পিপি শিরাজী শওকত সালেহীন এলেন, অতিরিক্ত জিপি অ্যাড. শামীম আক্তার হৃদয়, নির্মূল কমিটির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক রনি সরকার, সহ-প্রচার সম্পাদক মাহী ইলাহি, মহানগর নির্মূল কমিটির দপ্তর সম্পাদক ওয়ালিউর শেখ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম,জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, নারী ইউনিটের সভাপতি হালিমা কুমকুম,সাধারণ সম্পাদক সাইমা খাতুন বিথী, যুব ইউনিটের সভাপতির মহিউদ্দিন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ রাকিন আবসার অর্ণবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিতও হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের গুরত্ব সম্পর্কে একাত্তরে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তামিম শিরাজী বলেন, মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর পরিকল্পনায় জামায়াতে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয় যুদ্ধ চলাকালীন সময় তালিকা করে সারাদেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

ইসলামী ছাত্র সংঘই পরে রূপান্তরিত হয় আলবদর বাহিনীতে, চোখের ডাক্তারের চোখ উপড়ে নেয়া , হার্টের ডাক্তারের হার্ট বেনিয়েট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা, শিক্ষকের হাত কেটে ফেলা, বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষদের মগজ থেতলে দেওয়ার মতো জঘন্য নির্মমতা ইতিহাসে আর দেখা যায় না। দুঃখের বিষয় ৫৩ বছরেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সম্মান জানাতে অবিলম্বে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। জামাত শিবিরের রাজনীতি আইন করে বন্ধ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।