মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে মারধর ও হল থেকে নেমে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নবাব আব্দুল লতিফ হলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে গতকাল হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর অফিস বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরাপত্তা দাবি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগে তিনি লেখেন, ১৮ ডিসেম্বর আমি ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট নিতে যাওয়ার পথে হল গেইটে ছাত্রলীহ নেতা তাসকিফ আল তৌহিদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেন কোথায় যাচ্ছি? আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি শুনে তিনি আমার রিপোর্টটা নেন এবং বাবা কি করেন জানতে চান। বাবা রিকশা চালায় জানার পর তিনি বলেন, বাবা রিকশা চালায়, অছচ তুই এতো টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাস কি করে। এমনকি বাবাকে হেয় করে বিভিন্ন  কথা বলতে থাকেন। তখন আমি জানাই আমি একটি সামাজিক সংগঠন থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করছি। এটা শোনার পর তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, তুই দশজনকে রান্না করে খাওয়াবি। তখন আমি প্রতিবাদ করলে তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন, অমুক নাকি তিন হাজার টাকা পায়। আমার কাছে কেউ টাকা পায় না- এটা বললে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

তিনি আরও লিখেন, এক পর্যায়ে তৌহিদ ও তার কয়েকজন অনুসারি মিলে আমাকে গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে পিঠে আঘাত করেন। তারপর গালিগালাজ করে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তারা আমাকে ডাক্তারের কাছে যেতে দিচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় হলের প্রহরীরা এগিয়ে আসলে তারা আমাকে ছেড়ে দেন। এরপর আমি ডাক্তারের কাছে গেলে তৌহিদ আমাকে কল দিয়ে তার কক্ষে দেখা করতে বলেন। এ অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তাসকিফ আল তৌহিদ নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও আরবী বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মো. মফিজুর রহমান পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নবাব আব্দুল লতিফ হলের ১০৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে হলের প্রহরী মো. রতন বলেন, ‘হলের সামনে তর্কাতর্কি দেখে আমি গিয়ে ওদের ছুটিয়ে দিয়েছি, মারতে দিইনি। আর হুমকির বিষয়টা আমি জানি।’

ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান বলেন, ‘তার সঙ্গে দেখা হলে আমকে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। আমার উপর তিন হাজার টাকা ঋণের দোষ চাপিয়ে তর্ক করে। তারপর গালিগালাজ করে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। গতকাল ডাক্তারের চেম্বারে থাকা অবস্থা থেকে শুরু করে কয়েকবার ফোন করেও হুমকি দিয়েছে। তাই আমি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন। মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেউ করার জন্য এসব অভিযোগ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছেলের সঙ্গে  শিবিরের সম্পৃক্ততার তথ্য থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো। আমি সাংগঠনিক সফরে ঢাকায় আছি। ফিরে এসে বিষয়টা দেখবো।’

নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ হলেন ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে উভয়কেই ডেকে মিমাংসা করে দিয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আর কোনো সমস্যা যেন না হয়, হল প্রশাসন সেটা খেয়াল রাখবে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাবি ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ১১:০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে মারধর ও হল থেকে নেমে যাওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নবাব আব্দুল লতিফ হলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে গতকাল হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টর অফিস বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরাপত্তা দাবি করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগে তিনি লেখেন, ১৮ ডিসেম্বর আমি ডাক্তারের কাছে রিপোর্ট নিতে যাওয়ার পথে হল গেইটে ছাত্রলীহ নেতা তাসকিফ আল তৌহিদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেন কোথায় যাচ্ছি? আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি শুনে তিনি আমার রিপোর্টটা নেন এবং বাবা কি করেন জানতে চান। বাবা রিকশা চালায় জানার পর তিনি বলেন, বাবা রিকশা চালায়, অছচ তুই এতো টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখাস কি করে। এমনকি বাবাকে হেয় করে বিভিন্ন  কথা বলতে থাকেন। তখন আমি জানাই আমি একটি সামাজিক সংগঠন থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করছি। এটা শোনার পর তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, তুই দশজনকে রান্না করে খাওয়াবি। তখন আমি প্রতিবাদ করলে তিনি কারো নাম উল্লেখ না করে বলেন, অমুক নাকি তিন হাজার টাকা পায়। আমার কাছে কেউ টাকা পায় না- এটা বললে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

তিনি আরও লিখেন, এক পর্যায়ে তৌহিদ ও তার কয়েকজন অনুসারি মিলে আমাকে গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে পিঠে আঘাত করেন। তারপর গালিগালাজ করে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তারা আমাকে ডাক্তারের কাছে যেতে দিচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় হলের প্রহরীরা এগিয়ে আসলে তারা আমাকে ছেড়ে দেন। এরপর আমি ডাক্তারের কাছে গেলে তৌহিদ আমাকে কল দিয়ে তার কক্ষে দেখা করতে বলেন। এ অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তাসকিফ আল তৌহিদ নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও আরবী বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর অনুসারী বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মো. মফিজুর রহমান পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নবাব আব্দুল লতিফ হলের ১০৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে হলের প্রহরী মো. রতন বলেন, ‘হলের সামনে তর্কাতর্কি দেখে আমি গিয়ে ওদের ছুটিয়ে দিয়েছি, মারতে দিইনি। আর হুমকির বিষয়টা আমি জানি।’

ভুক্তভোগী মফিজুর রহমান বলেন, ‘তার সঙ্গে দেখা হলে আমকে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। আমার উপর তিন হাজার টাকা ঋণের দোষ চাপিয়ে তর্ক করে। তারপর গালিগালাজ করে হল থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। গতকাল ডাক্তারের চেম্বারে থাকা অবস্থা থেকে শুরু করে কয়েকবার ফোন করেও হুমকি দিয়েছে। তাই আমি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ স্যার বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন। মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেউ করার জন্য এসব অভিযোগ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই ছেলের সঙ্গে  শিবিরের সম্পৃক্ততার তথ্য থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো। আমি সাংগঠনিক সফরে ঢাকায় আছি। ফিরে এসে বিষয়টা দেখবো।’

নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ হলেন ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে উভয়কেই ডেকে মিমাংসা করে দিয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আর কোনো সমস্যা যেন না হয়, হল প্রশাসন সেটা খেয়াল রাখবে।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ।’