বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন নৌকার প্রার্থী দারা

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারা।

 

সোমবার বিকেলে দারা ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ লুনা ফেরদৌসের আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দারার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুস সামাদ। লিখিত জবাবে নৌকার প্রার্থী দারা বলেছেন, ‘রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান যে অভিযোগ করেছেন তা বিদ্বেষ প্রসূত বটে। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমার দলের নেতাকর্মী যারা দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মে লিপ্ত আছেন তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কী ধরনের নির্দেশনা আছে তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম। কোনো ভোটারকে ভয়ভীতি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অপদস্ত করার উদ্দেশ্যে কখনো কোনো অশালীন, অশোভনীয় বা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করিনি।

তারপরেও আমার বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আমি দুঃখ প্রকাশ ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি’। দারার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, আদালত দারার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। তবে আগামীতে যাতে কোনোভাবেই আচরণবিধি ভঙ্গ না হয়, সে বিষয়েও সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ওবায়দুরের অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ লুনা ফেরদৌস।

ওই নোটিশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন দোষী সাব্যস্ত করা হবে না তা জানাতে দারাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘আবদুল ওয়াদুদ দারা নির্বাচনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মীদের উদ্দেশে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি নিজেই জেলার সাধারণ সম্পাদক। কাজেই থানা কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে থাকা নেতাদের এক খোঁচাতেই পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারবো। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী নেতাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো। এজন্য আমার কাউকে লাগবে না। ৩০ ডিসেম্বর তাদের শেষ দিন। এর মধ্যে নাকে খত দিয়ে নৌকার ছায়াতলে না এলে তাদের চিরতরের জন্য নৌকা থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে’। নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারা সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমানেরই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন নৌকার প্রার্থী দারা

প্রকাশিত সময় : ০৩:৪০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০২৪

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে দলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে অবশেষে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারা।

 

সোমবার বিকেলে দারা ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ লুনা ফেরদৌসের আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দারার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুস সামাদ। লিখিত জবাবে নৌকার প্রার্থী দারা বলেছেন, ‘রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওবায়দুর রহমান যে অভিযোগ করেছেন তা বিদ্বেষ প্রসূত বটে। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমার দলের নেতাকর্মী যারা দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মে লিপ্ত আছেন তাদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে কী ধরনের নির্দেশনা আছে তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম। কোনো ভোটারকে ভয়ভীতি বা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অপদস্ত করার উদ্দেশ্যে কখনো কোনো অশালীন, অশোভনীয় বা উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করিনি।

তারপরেও আমার বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে আমি দুঃখ প্রকাশ ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি’। দারার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুস সামাদ জানিয়েছেন, আদালত দারার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। তবে আগামীতে যাতে কোনোভাবেই আচরণবিধি ভঙ্গ না হয়, সে বিষয়েও সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ওবায়দুরের অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন ওই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ লুনা ফেরদৌস।

ওই নোটিশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন দোষী সাব্যস্ত করা হবে না তা জানাতে দারাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে বলা হয়েছিল, ‘আবদুল ওয়াদুদ দারা নির্বাচনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মীদের উদ্দেশে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন। যার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আমি নিজেই জেলার সাধারণ সম্পাদক। কাজেই থানা কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে থাকা নেতাদের এক খোঁচাতেই পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারবো। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী নেতাদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো। এজন্য আমার কাউকে লাগবে না। ৩০ ডিসেম্বর তাদের শেষ দিন। এর মধ্যে নাকে খত দিয়ে নৌকার ছায়াতলে না এলে তাদের চিরতরের জন্য নৌকা থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে’। নির্বাচনে রাজশাহী-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ দারা সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমানেরই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।