শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিপিএলে না খেলার হুমকি কুমিল্লার মালিক নাফিসার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। দেশের ফ্র্যঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে ছয় আসরে খেলে চারবারই শিরোপা জিতেছে দলটি। পঞ্চম ট্রফিতে চোখ রাখা দলটি স্থানীয় ও বিদেশি তারকা নিয়ে এবারও টিম গঠন করেছে। তবে প্রতিবারের মতো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এবারও যৌক্তিক এক দাবি দিয়ে রাখছেন। যেখানে আসরের রাজস্ব আয়ের ভাগ না দিলে আগামীবার থেকে অংশগ্রহণ করবে না তারা। আইপিএল, পিএসএলের মতো আসরে রাজস্ব বণ্টনের কাঠামো রয়েছে। তবে বিপিএলে এই নিয়ম নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পুরোপুরি স্পনসর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। তাই অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিটি আসরের আগে স্পনসর জোগাড়ে হিমশিম খায়। অবশ্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অন্যবারের মতো এবারও স্পনসর নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। কাল এক দিনেই তিনটি স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে দল চালানোর সব বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক নাফিসা কামাল। নাফিসা সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা। এ নিয়ে গুলশানে ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যালয়ে বসে দেশের একটি দৈনিককে নাফিসা বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যেহেতু আমার টাকাটা উঠে এসেছে স্পনসর থেকে, এখন চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এখন একমাত্র চিন্তা ক্রিকেট।’ নাফিসার এই স্বস্তি অবশ্য সাময়িক। বিপিএলের যে অর্থনৈতিক কাঠামো, তাতে দল চালানো আসলেই বিরাট চ্যালেঞ্জ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য। এবারের ব্যবস্থা হয়ে গেলেও নাফিসা তাই বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস অংশ নেবে না। কথাটা অবশ্য প্রতি আসরের আগেই তিনি বলেন। কিন্তু দাবি পূরণ হয় না। এবার তাই পুরোনো কথাটাই বললেন জোর দিয়ে, ‘আমি আগামী বছর বিপিএল করব কি না নিশ্চিত নই। এখন যেভাবে হচ্ছে, এভাবে হলে আমার মনে হয় না আমার পক্ষে দল করা সম্ভব হবে। এ বছর একটা মিটিং করতে চেয়েছিলাম (বিসিবির সঙ্গে)। গত বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও প্রেস কনফারেন্সে আমি এটাই অনুরোধ করেছিলাম—একটা মিটিং। মিটিং হলে রংপুরের মালিকপক্ষও বসবে। চিটাগং, ঢাকা—সবাই বসবে। সবাইকে সমান সম্মান দেওয়া উচিত। তারা সবাই কমবেশি বিনিয়োগ করছে। সবাইকে সম্মান দেওয়া উচিত।’ সম্প্রচার স্বত্ব বিপিএল থেকে বিসিবির আয়ের সবচেয়ে বড় খাত। ১০৫ কোটি টাকায় গত বছর বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট থেকে আয়ের আরেকটি বড় খাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি। প্রতি মৌসুমের জন্য প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবিকে দেয় দেড় কোটি টাকা। প্রতি মৌসুমে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বাবদ বিসিবির আয় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। তিন আসরের জন্য বিপিএলের টাইটেলসহ স্পনসরশিপ বিক্রি হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, যে দলগুলোর অংশগ্রহণের সুবাদে বিসিবির এত আয়, তারা বিপিএল থেকে কিছুই পাচ্ছে না! আইপিএল, পিএসএলের মতো রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো হতে হবে বিপিএলেও, এমনই দাবি নাফিসার। সে ক্ষেত্রে বিসিবিকে সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত তিনি, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা খুবই নমনীয় হব। ওনাদের (বিসিবি) যেটা ভালো হয় সেটাই নিতে রাজি আছি। যদি আমাদের একদম কমটাও দেয়, তবু মডেলটা অন্তত তৈরি করুক। কাঠামোটা তৈরি করুক। প্রথম পদক্ষেপটা নিক।’ পরের মৌসুমে বিসিবি এই উদ্যোগ না দিলে ভিক্টোরিয়ানসকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে নাফিসা বলেছেন, টিকিট, মাঠ ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আসা রাজস্ব আয়ের ভাগ দিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। বিপিএল থেকে প্রতিবছর কত টাকা আয় হয়, সেটা অবশ্য বলা মুশকিল। বিসিবি এই একটা তথ্য কখনোই প্রকাশ করে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিপিএলে না খেলার হুমকি কুমিল্লার মালিক নাফিসার

প্রকাশিত সময় : ১১:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। দেশের ফ্র্যঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে ছয় আসরে খেলে চারবারই শিরোপা জিতেছে দলটি। পঞ্চম ট্রফিতে চোখ রাখা দলটি স্থানীয় ও বিদেশি তারকা নিয়ে এবারও টিম গঠন করেছে। তবে প্রতিবারের মতো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এবারও যৌক্তিক এক দাবি দিয়ে রাখছেন। যেখানে আসরের রাজস্ব আয়ের ভাগ না দিলে আগামীবার থেকে অংশগ্রহণ করবে না তারা। আইপিএল, পিএসএলের মতো আসরে রাজস্ব বণ্টনের কাঠামো রয়েছে। তবে বিপিএলে এই নিয়ম নেই। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পুরোপুরি স্পনসর নির্ভর হয়ে থাকতে হয়। তাই অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিটি আসরের আগে স্পনসর জোগাড়ে হিমশিম খায়। অবশ্য কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের অন্যবারের মতো এবারও স্পনসর নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে না। কাল এক দিনেই তিনটি স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে দল চালানোর সব বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক নাফিসা কামাল। নাফিসা সদ্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা। এ নিয়ে গুলশানে ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যালয়ে বসে দেশের একটি দৈনিককে নাফিসা বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যেহেতু আমার টাকাটা উঠে এসেছে স্পনসর থেকে, এখন চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। এখন একমাত্র চিন্তা ক্রিকেট।’ নাফিসার এই স্বস্তি অবশ্য সাময়িক। বিপিএলের যে অর্থনৈতিক কাঠামো, তাতে দল চালানো আসলেই বিরাট চ্যালেঞ্জ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য। এবারের ব্যবস্থা হয়ে গেলেও নাফিসা তাই বলেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস অংশ নেবে না। কথাটা অবশ্য প্রতি আসরের আগেই তিনি বলেন। কিন্তু দাবি পূরণ হয় না। এবার তাই পুরোনো কথাটাই বললেন জোর দিয়ে, ‘আমি আগামী বছর বিপিএল করব কি না নিশ্চিত নই। এখন যেভাবে হচ্ছে, এভাবে হলে আমার মনে হয় না আমার পক্ষে দল করা সম্ভব হবে। এ বছর একটা মিটিং করতে চেয়েছিলাম (বিসিবির সঙ্গে)। গত বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও প্রেস কনফারেন্সে আমি এটাই অনুরোধ করেছিলাম—একটা মিটিং। মিটিং হলে রংপুরের মালিকপক্ষও বসবে। চিটাগং, ঢাকা—সবাই বসবে। সবাইকে সমান সম্মান দেওয়া উচিত। তারা সবাই কমবেশি বিনিয়োগ করছে। সবাইকে সম্মান দেওয়া উচিত।’ সম্প্রচার স্বত্ব বিপিএল থেকে বিসিবির আয়ের সবচেয়ে বড় খাত। ১০৫ কোটি টাকায় গত বছর বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট থেকে আয়ের আরেকটি বড় খাত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি। প্রতি মৌসুমের জন্য প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিসিবিকে দেয় দেড় কোটি টাকা। প্রতি মৌসুমে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি বাবদ বিসিবির আয় সাড়ে ১০ কোটি টাকা। তিন আসরের জন্য বিপিএলের টাইটেলসহ স্পনসরশিপ বিক্রি হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, যে দলগুলোর অংশগ্রহণের সুবাদে বিসিবির এত আয়, তারা বিপিএল থেকে কিছুই পাচ্ছে না! আইপিএল, পিএসএলের মতো রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো হতে হবে বিপিএলেও, এমনই দাবি নাফিসার। সে ক্ষেত্রে বিসিবিকে সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত তিনি, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা খুবই নমনীয় হব। ওনাদের (বিসিবি) যেটা ভালো হয় সেটাই নিতে রাজি আছি। যদি আমাদের একদম কমটাও দেয়, তবু মডেলটা অন্তত তৈরি করুক। কাঠামোটা তৈরি করুক। প্রথম পদক্ষেপটা নিক।’ পরের মৌসুমে বিসিবি এই উদ্যোগ না দিলে ভিক্টোরিয়ানসকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে নাফিসা বলেছেন, টিকিট, মাঠ ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আসা রাজস্ব আয়ের ভাগ দিতে হবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। বিপিএল থেকে প্রতিবছর কত টাকা আয় হয়, সেটা অবশ্য বলা মুশকিল। বিসিবি এই একটা তথ্য কখনোই প্রকাশ করে না।