মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বশেমুরবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ পালন করা হয়ছে।

দিবসটি উপলক্ষে ২০শে ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বশেমুরবিপ্রবি পরিবার, বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন , বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগ,বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি এবং কর্মচারী সমিতি। এছাড়াও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সেই সাথে তাদের স্মরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলে মিলে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি গাওয়া হয়। এরপর ২১শে ফেব্রুয়ারী সকাল ৭:৩০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে প্রভাতফেরি করা হয়। সকাল ৮:০০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, জেলা এ্যাসোসিয়েশন ও সামাজি সংগঠন গুলো।

এরপর সকাল ৯:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব বলেন, “ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার শিকড়। কারণ ভাষার জন্যে আন্দোলন একক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলো না বরং অর্থনীতি, শিক্ষা, সমরবিদ্যাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে দেয়ার পরে যখন ভাষার ওপর হাত দেয়া হয়, তখন আমাদের ছাত্রসমাজ তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে ভাষার মান রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন যাতে শিক্ষার সকল স্তর বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু নানা কারনে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। সেকারণে হীনমন্যতা দূরে রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদর বাংলা ভাষার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠার আহবান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম বলেন, “আজকাল ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেই এক ধরনের বাহাদুরী ভাব চলে আসে। অথচ বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা, সবচেয়ে দামী ভাষা। আমরা যদি হৃদয়ে লালন না করি, তাহলে শ্রদ্ধা আসবে না। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছেন। যে কারণে অনেকটা সহজে বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।” এছাড়াও বিশষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার বীর মুক্তিযাদ্ধা ড. মোবারক হোসেন ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অহনা আরেফিন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহর বাদ দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়াজন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বশেমুরবিপ্রবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

প্রকাশিত সময় : ০৭:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ পালন করা হয়ছে।

দিবসটি উপলক্ষে ২০শে ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বশেমুরবিপ্রবি পরিবার, বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন , বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রলীগ,বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি এবং কর্মচারী সমিতি। এছাড়াও ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সেই সাথে তাদের স্মরণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলে মিলে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি গাওয়া হয়। এরপর ২১শে ফেব্রুয়ারী সকাল ৭:৩০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে প্রভাতফেরি করা হয়। সকাল ৮:০০ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেদ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, জেলা এ্যাসোসিয়েশন ও সামাজি সংগঠন গুলো।

এরপর সকাল ৯:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব বলেন, “ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার শিকড়। কারণ ভাষার জন্যে আন্দোলন একক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলো না বরং অর্থনীতি, শিক্ষা, সমরবিদ্যাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে দেয়ার পরে যখন ভাষার ওপর হাত দেয়া হয়, তখন আমাদের ছাত্রসমাজ তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে ভাষার মান রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন যাতে শিক্ষার সকল স্তর বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু নানা কারনে আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি। সেকারণে হীনমন্যতা দূরে রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদর বাংলা ভাষার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠার আহবান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম বলেন, “আজকাল ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেই এক ধরনের বাহাদুরী ভাব চলে আসে। অথচ বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা, সবচেয়ে দামী ভাষা। আমরা যদি হৃদয়ে লালন না করি, তাহলে শ্রদ্ধা আসবে না। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছেন। যে কারণে অনেকটা সহজে বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।” এছাড়াও বিশষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার বীর মুক্তিযাদ্ধা ড. মোবারক হোসেন ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অহনা আরেফিন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জোহর বাদ দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়াজন করা হয়।