আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু।
শোকবার্তায় তারা প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শোকবার্তায় বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধের এই প্রয়াত সংগঠক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক, প্রাজ্ঞ আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর অবদান দেশের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গোলাম আরিফ টিপু (৯৩)। ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (অ্যাডমিন) মোখলেসুর রহমান বাদল গণমাধ্যমকে জানান, আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বার্ধক্য ও ঠান্ডাজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন।
প্রসঙ্গত, গোলাম আরিফ টিপু ২০১০ থেকে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৯৩ বছর বয়সী গোলাম আরিফ মহান মাতৃভাষা আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৫২ সালে রাজশাহীতে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়। তার নেতৃত্বেই রাজশাহী কলেজে প্রথম শহীদ মিনার হয়। ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখায় ২০১৯ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত ভূষিত হন। গোলাম আরিফ ১৯৫৮ সালে একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একাধিকবার রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 




















