শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুলতানকে কাঁদিয়ে ইসলামাবাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়

জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নবম আসরের। ফাইনালে সুলতান মুলতান এবং ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের লড়াই দিয়ে পর্দা নেমেছে টুর্নামেন্টের। ফাইনালে মুলতান সুলতানসকে দুই উইকেটে হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তুলেছে ইসলামাবাদ।

 

সোমবার (১৮ মার্চ) শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ইসলামাবাদকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দেয় মুলতান। জবাব দিতে নির্ধারিত ওভারে দুই উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় ইমাদ-শাদাবরা।

 

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো করেন ইসলামাবাদের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও কলিং মুনরো। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি মুনরো। ১৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি। ১০ রান করে ফেরেন আঘা সালমানও। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেনি শাদাব খানও। ৮ বলে ৪ রান করে দলের অধিনায়ক বিদায় নিলে চাপে পড়ে ইসলামাবাদ।

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন গাপটিল। ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন এই কিউই ব্যাটার। পরের বলে রান আউট হন তিনি। ২২ বলে ৩০ রান করে আউট হন আজম খানও। ৩ বলে ৫ রান করে তাকে সঙ্গ দেন হায়দার আলী। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ১ করা ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ইসলামাদকে চাপে ফেলে মুলতান।

শেষ ১২ বলে ইসলামাবাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯ রান। ১৯তম ওভারে ১১ রান তুলে ম্যাচ সহজ করে ইমাদ ওয়াসিম। শেষ পর্যন্ত ইমাদের ১৭ বলে ১৯ রান এবং নাসিম শাহর ৯ বলের ১৭ রানের ইনিংসে ভর করে দুই হাতে থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

মুলতান সুলতানসের হয়ে খুশদিল শাহ ও ইফতেখার আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়াও ডেভিড উইলি, মোহাম্মদ আলী এবং উসামা মীর একটি করে উইকেট শিকার করেন

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুলতানের। ৬ বলে ৬ রান করে ওপেনার ইয়াসির খান আউট হলে ৩ বলে ৬ রান করে তাকে সঙ্গ দেন ডেভিড উইলি।

উসমান খানকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি মুলতান দলপতি। ২৬ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি জনসন চালর্সও। ৪ বলে ৬ রান করে আউট হন এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটার।

তবে পিচের এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন উসমান খান। ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এই তারকা ব্যাটার। ৪০ বলে ৫৭ রান করে উসমান আউট হলে উইকেট মিছিল শুরু করে বাকিরা। খুশদিল শাহ (১১), উসামা মীর (৬), আব্বাস আফ্রিদি (১) এবং শূন্য রান করে ফেরেন ক্রিস জর্দান।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেন ইফতেখার আহমেদ। এই ডান হাতি ব্যাটারের ২০ বলের হার না মানা ৩২ রানের ইনিংসে ভর করে নয় উইকেটে ১৫৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় সুলতান মুলতান।

ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকার করেন ইমাদ ওয়াসিম। তিন উইকেট শিকার করেন শাদাব খান।

পিএসএলের উদ্বোধনী আসরে ২০১৬ সালে প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছিলো ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০২৪ সালে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুললো আসরের সব থেকে সফল দলটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুলতানকে কাঁদিয়ে ইসলামাবাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়

প্রকাশিত সময় : ১২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নবম আসরের। ফাইনালে সুলতান মুলতান এবং ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের লড়াই দিয়ে পর্দা নেমেছে টুর্নামেন্টের। ফাইনালে মুলতান সুলতানসকে দুই উইকেটে হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তুলেছে ইসলামাবাদ।

 

সোমবার (১৮ মার্চ) শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে টস জিতে ব্যাটিংয়ে ইসলামাবাদকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দেয় মুলতান। জবাব দিতে নির্ধারিত ওভারে দুই উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় ইমাদ-শাদাবরা।

 

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো করেন ইসলামাবাদের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও কলিং মুনরো। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি মুনরো। ১৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি। ১০ রান করে ফেরেন আঘা সালমানও। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেনি শাদাব খানও। ৮ বলে ৪ রান করে দলের অধিনায়ক বিদায় নিলে চাপে পড়ে ইসলামাবাদ।

 

এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন গাপটিল। ৩১ বলে ফিফটি তুলে নেন এই কিউই ব্যাটার। পরের বলে রান আউট হন তিনি। ২২ বলে ৩০ রান করে আউট হন আজম খানও। ৩ বলে ৫ রান করে তাকে সঙ্গ দেন হায়দার আলী। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ১ করা ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ইসলামাদকে চাপে ফেলে মুলতান।

শেষ ১২ বলে ইসলামাবাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯ রান। ১৯তম ওভারে ১১ রান তুলে ম্যাচ সহজ করে ইমাদ ওয়াসিম। শেষ পর্যন্ত ইমাদের ১৭ বলে ১৯ রান এবং নাসিম শাহর ৯ বলের ১৭ রানের ইনিংসে ভর করে দুই হাতে থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

মুলতান সুলতানসের হয়ে খুশদিল শাহ ও ইফতেখার আহমেদ দুটি করে উইকেট নেন। এ ছাড়াও ডেভিড উইলি, মোহাম্মদ আলী এবং উসামা মীর একটি করে উইকেট শিকার করেন

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি মুলতানের। ৬ বলে ৬ রান করে ওপেনার ইয়াসির খান আউট হলে ৩ বলে ৬ রান করে তাকে সঙ্গ দেন ডেভিড উইলি।

উসমান খানকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেনি মুলতান দলপতি। ২৬ বলে ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এদিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি জনসন চালর্সও। ৪ বলে ৬ রান করে আউট হন এই ক্যারিবিয়ান ব্যাটার।

তবে পিচের এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন উসমান খান। ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এই তারকা ব্যাটার। ৪০ বলে ৫৭ রান করে উসমান আউট হলে উইকেট মিছিল শুরু করে বাকিরা। খুশদিল শাহ (১১), উসামা মীর (৬), আব্বাস আফ্রিদি (১) এবং শূন্য রান করে ফেরেন ক্রিস জর্দান।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেন ইফতেখার আহমেদ। এই ডান হাতি ব্যাটারের ২০ বলের হার না মানা ৩২ রানের ইনিংসে ভর করে নয় উইকেটে ১৫৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় সুলতান মুলতান।

ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকার করেন ইমাদ ওয়াসিম। তিন উইকেট শিকার করেন শাদাব খান।

পিএসএলের উদ্বোধনী আসরে ২০১৬ সালে প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছিলো ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০২৪ সালে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুললো আসরের সব থেকে সফল দলটি।