মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউনিস্যাবের সহায়তায় নতুন পোশাক পেল শতাধিক পথশিশু

সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে শতাধিক পথশিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করলো ইউনাইটেড ন্যাশনস ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্ট  অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিভাগ।
শুক্রবার (২২ মার্চ) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমপ্লেক্স ভবনে পথশিশুদের মাঝে এ নতুন পোশাক তুলে দেন ইউনিস্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুল আরেফিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন এ সংগঠনের সদস্যরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন তারা। পরে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পথশিশুদের একত্রিত করে এসব পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় পথশিশুদের সাথে তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পোশাক নিতে রাজশাহীর বুধপাড়া এলাকার এতিমখানা মাদরাসা থেকে এসেছেন ছোট্ট শিশু নাশিতা। পোশাক পেয়ে এ শিশু বলেন, “নতুন জামা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে আমার। নতুন জামা দিয়ে এবার ঈদ করতে পারবো বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এ শিশু”।
দুই বছর বাচ্চার পোশাক নিতে ভদ্রা এলাকা থেকে অভিভাবক হিসেবে এসেছেন রেশমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চা নতুন জামা দিয়ে ঈদ করবে এটাই আমার কাছে ভালো লাগা। আমাদের ঈদ আনন্দ কোনো বিষয় না, কিন্তু বাচ্চাদের আনন্দ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের আনন্দই আমাদের আনন্দ। ইউনিস্যাব আমাদের বাচ্চাদেরকে পোশাক দিয়েছে, তারা খুব ভালো মানুষ”।
সানজিদা শাহরিনের সঞ্চালনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন বলেন, “ইউনিস্যাবের এ আয়োজনের মূলত তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং তৃতীয়ত, যারা এ সংগঠনটির সাথে কাজ করছে তারা নিজেরাও উদ্বুদ্ধ হবে ও মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে। এ উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয় বলে জানান তিনি”।
ইউনিস্যাবের আঞ্চলিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান  বাবু বলেন,” ইউনিস্যাব প্রতি বছরই এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সমাজের কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে। এই বছরও আমরা চেষ্টা করেছি শিশুদের মাঝে নতুন জামা এবং খাদ্য বিতরণ করার এবং আমরা সফলভাবে তা সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই প্রোগ্রামকে সফল করার জন্য যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি”।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিস্যাবের উপদেষ্টা  ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁইয়া।
ইউনিস্যাবের সহকারী আঞ্চলিক সম্পাদক মো. ইয়াছিন আরাফাত এবং ইউনিস্যাবের সদস্যবৃন্দ ও শতাধিক পথশিশু ও তাদের অভিভাবকরা।
উল্লেখ্য, ইউনিস্যাব, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা সক্রিয়ভাবে তরুণদের দক্ষতা বিকাশের জন্য কাজ করে। সংগঠনটি ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটি সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিস্যাব বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কাজ করে। এই সংগঠনের মূলমন্ত্র হলো ” স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ” যা নেতৃত্বের গুণাবলী লালন করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী রূপান্তরকারী শক্তির উপর জোর দেয়।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইউনিস্যাবের সহায়তায় নতুন পোশাক পেল শতাধিক পথশিশু

প্রকাশিত সময় : ০৮:২২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪
সবার মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে শতাধিক পথশিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করলো ইউনাইটেড ন্যাশনস ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্ট  অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, রাজশাহী বিভাগ।
শুক্রবার (২২ মার্চ) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমপ্লেক্স ভবনে পথশিশুদের মাঝে এ নতুন পোশাক তুলে দেন ইউনিস্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুল আরেফিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন এ সংগঠনের সদস্যরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন তারা। পরে রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পথশিশুদের একত্রিত করে এসব পোশাক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় পথশিশুদের সাথে তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।
নতুন পোশাক নিতে রাজশাহীর বুধপাড়া এলাকার এতিমখানা মাদরাসা থেকে এসেছেন ছোট্ট শিশু নাশিতা। পোশাক পেয়ে এ শিশু বলেন, “নতুন জামা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে আমার। নতুন জামা দিয়ে এবার ঈদ করতে পারবো বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এ শিশু”।
দুই বছর বাচ্চার পোশাক নিতে ভদ্রা এলাকা থেকে অভিভাবক হিসেবে এসেছেন রেশমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চা নতুন জামা দিয়ে ঈদ করবে এটাই আমার কাছে ভালো লাগা। আমাদের ঈদ আনন্দ কোনো বিষয় না, কিন্তু বাচ্চাদের আনন্দ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চাদের আনন্দই আমাদের আনন্দ। ইউনিস্যাব আমাদের বাচ্চাদেরকে পোশাক দিয়েছে, তারা খুব ভালো মানুষ”।
সানজিদা শাহরিনের সঞ্চালনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন বলেন, “ইউনিস্যাবের এ আয়োজনের মূলত তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, সাধারণ মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। দ্বিতীয়ত, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং তৃতীয়ত, যারা এ সংগঠনটির সাথে কাজ করছে তারা নিজেরাও উদ্বুদ্ধ হবে ও মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে। এ উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয় বলে জানান তিনি”।
ইউনিস্যাবের আঞ্চলিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান  বাবু বলেন,” ইউনিস্যাব প্রতি বছরই এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সমাজের কিছু সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে। এই বছরও আমরা চেষ্টা করেছি শিশুদের মাঝে নতুন জামা এবং খাদ্য বিতরণ করার এবং আমরা সফলভাবে তা সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই প্রোগ্রামকে সফল করার জন্য যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি”।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিস্যাবের উপদেষ্টা  ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁইয়া।
ইউনিস্যাবের সহকারী আঞ্চলিক সম্পাদক মো. ইয়াছিন আরাফাত এবং ইউনিস্যাবের সদস্যবৃন্দ ও শতাধিক পথশিশু ও তাদের অভিভাবকরা।
উল্লেখ্য, ইউনিস্যাব, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা সক্রিয়ভাবে তরুণদের দক্ষতা বিকাশের জন্য কাজ করে। সংগঠনটি ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত সংগঠনটি সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিস্যাব বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতৃত্ব তৈরির জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কাজ করে। এই সংগঠনের মূলমন্ত্র হলো ” স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ” যা নেতৃত্বের গুণাবলী লালন করার জন্য স্বেচ্ছাসেবী রূপান্তরকারী শক্তির উপর জোর দেয়।