বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী পাটকল চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বন্ধ থাকা রাজশাহী পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আবারও চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শ্রমিকেরা।আজ রবিবার সকাল ১০টায় পাটকলের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাটাখালী বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী জুট মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে কয়েকশো শ্রমিক অংশ নেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় ১৯৫৫ সালে এই পাটকল প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এখানে উৎপাদন চলত। ২০২০ সালে দেশের ২৫টি পাটকলকেই ইজারা দিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কথা ছিল, আধুনিকায়নের পর তিন মাসের মধ্যেই পাটকলে আবার উৎপাদন শুরু হবে।

কিন্তু চার বছর পার হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানার রাজশাহী পাটকল ইজারা দেওয়া হয়নি। পাটকলটি আর চালুও হয়নি। এতে পাটকলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নিদারুণ আর্থিক কষ্টে আছেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফরমান আলী বলেন, ‘২০২০ সালে সরকার আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী দেশের ২৫টি পাটকলের শ্রমিকদের পথে বসিয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এই পাটকল আবার চালু করবেন। খেটে-খাওয়া শ্রমিকদের দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালে যখন পাটকল বন্ধ করা হয়, তখন বলা হয়েছিল ইজারা দিয়ে পাটকলগুলো আবার চালু করা হবে। তারপর কয়েকটা পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো চলছে না। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবেই এই পাটকল চালু করতে হবে। এই পাটকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। কিন্তু কর্ম হারিয়ে অনাহারে থাকছেন শ্রমিকেরা। কর্মহীন অনেক শ্রমিক বিনাচিকিৎসায় মারা গেছেন। এ অবস্থা চলতে পারে না। আমরা গায়ে খেটে পারিশ্রমিক নিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে তেমন ভারী শিল্প নেই। যে দু’একটি আছে সেগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। আমার বয়স হয়েছে। আর হয়ত কাজ করতে পারব না। কিন্তু নতুনরা কাজের সুযোগ পাক। আমরা এটাই চাই। নতুন মন্ত্রী যদি পাটকল চালু করে দেন, শ্রমিকেরা দুইহাত তুলে দোয়া করবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, পাটকলের মৃত শ্রমিক ও বদলির শ্রমিকদের অনেকের পাওনা পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এক হাজার ৭০০ শ্রমিক বেকার থাকলেও ৫৭ জন কর্মকর্তা ও ১৫০ জন কর্মচারী বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। তাদের কোনো কাজ নেই। মাসে একদিন এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন নিয়ে চলে যান। তারা বসে বসে বেতন নিলেও যদি লোকসান না হয়, তাহলে শ্রমিকেরা উৎপাদন করে মজুরি নিলেও লোকসান হবে না। সরকারকে বিষয়টি বুঝতে হবে।’

চার বছর ধরে পাটকল বন্ধ পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে পাটকলের প্রকল্প প্রধান শরিফুল কবীর বলেন, ‘রাস্তায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন এটা শুনেছি। পাটকল লিজ হয়ে যাবে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। বেসরকারি উদ্যোগেই চলবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহী পাটকল চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত সময় : ০৮:১৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪

বন্ধ থাকা রাজশাহী পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আবারও চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শ্রমিকেরা।আজ রবিবার সকাল ১০টায় পাটকলের সামনে থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাটাখালী বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজশাহী জুট মিলস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে কয়েকশো শ্রমিক অংশ নেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় ১৯৫৫ সালে এই পাটকল প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এখানে উৎপাদন চলত। ২০২০ সালে দেশের ২৫টি পাটকলকেই ইজারা দিয়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কথা ছিল, আধুনিকায়নের পর তিন মাসের মধ্যেই পাটকলে আবার উৎপাদন শুরু হবে।

কিন্তু চার বছর পার হলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানার রাজশাহী পাটকল ইজারা দেওয়া হয়নি। পাটকলটি আর চালুও হয়নি। এতে পাটকলের প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নিদারুণ আর্থিক কষ্টে আছেন তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফরমান আলী বলেন, ‘২০২০ সালে সরকার আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী দেশের ২৫টি পাটকলের শ্রমিকদের পথে বসিয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী শ্রমিকবান্ধব। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এই পাটকল আবার চালু করবেন। খেটে-খাওয়া শ্রমিকদের দু’বেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালে যখন পাটকল বন্ধ করা হয়, তখন বলা হয়েছিল ইজারা দিয়ে পাটকলগুলো আবার চালু করা হবে। তারপর কয়েকটা পাটকল ইজারা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো চলছে না। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবেই এই পাটকল চালু করতে হবে। এই পাটকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। কিন্তু কর্ম হারিয়ে অনাহারে থাকছেন শ্রমিকেরা। কর্মহীন অনেক শ্রমিক বিনাচিকিৎসায় মারা গেছেন। এ অবস্থা চলতে পারে না। আমরা গায়ে খেটে পারিশ্রমিক নিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে তেমন ভারী শিল্প নেই। যে দু’একটি আছে সেগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। আমার বয়স হয়েছে। আর হয়ত কাজ করতে পারব না। কিন্তু নতুনরা কাজের সুযোগ পাক। আমরা এটাই চাই। নতুন মন্ত্রী যদি পাটকল চালু করে দেন, শ্রমিকেরা দুইহাত তুলে দোয়া করবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, পাটকলের মৃত শ্রমিক ও বদলির শ্রমিকদের অনেকের পাওনা পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এক হাজার ৭০০ শ্রমিক বেকার থাকলেও ৫৭ জন কর্মকর্তা ও ১৫০ জন কর্মচারী বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। তাদের কোনো কাজ নেই। মাসে একদিন এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন নিয়ে চলে যান। তারা বসে বসে বেতন নিলেও যদি লোকসান না হয়, তাহলে শ্রমিকেরা উৎপাদন করে মজুরি নিলেও লোকসান হবে না। সরকারকে বিষয়টি বুঝতে হবে।’

চার বছর ধরে পাটকল বন্ধ পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে পাটকলের প্রকল্প প্রধান শরিফুল কবীর বলেন, ‘রাস্তায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন এটা শুনেছি। পাটকল লিজ হয়ে যাবে। এটা নিয়ে কাজ চলছে। বেসরকারি উদ্যোগেই চলবে।’