বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

সাভারের আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল স্ত্রী আর ঘরের সিলিংয়ে ঝুলছিল স্বামীর নিথর দেহ। খবর পেয়ে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২০ মে) বিকেলে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ইউসুফ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন- পটুয়াখালী সদর থানার লোহালিয়া ইউনিয়নের হাকিম আলী হাওলাদারের ছেলে রুহুল আমিন হাওলাদার (৪০) এবং বরিশালের আমতলী থানার সোবহান মৃধার মেয়ে মনি ওরফে মনিরা (২৭)।

রুহুল আমিন পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী এবং মনি বেগম গৃহিণী।স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছে। নিহত রুহুল আমিনের মরদেহের পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও জানায় পুলিশ।

চিরকুটে রুহুল আমিন লিখেছেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি মো. রুহুল আমিন অতি কষ্টের সাথে জানাই থানা–পটুয়াখালী ও জেলা পটুয়াখালী। আমতলি নিবাসী ও বাওনা গ্রাম মো. ছোবাহান মৃধার ছোট মেয়ে মনিরার সাথে আমার বিবাহ হয়। বিবাহের বয়স ৭ মাস। বিয়ের রাত থেকে মনিরার ফোনে ফোন আসতে থাকে। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জানতে পারি ডিসার সুয়েটারে মনিরা ও তাঁর বড় বোন ফাহিমা চাকরি অবস্থায় বিভিন্ন ছেলের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় দুই বোন। আমি বাঁধা দিলে তাঁর বোন ফাহিমা বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে ভয় দেখায় যে এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোকে মেরে ফেলব। ফাহিমার স্বামীও জেনে ফাহিমাকে ছেড়ে দিয়েছে। তারা অনৈতিক কাজ করে টাকা কামাই করে, চাকরি তাদের শো। এবং আমাকে ভয় দেখিয়ে ইউসুফ মার্কেট কাপড়ের দোকান দিতে বাধ্য করায় সেখানে আমার ছয় লক্ষ টাকা নষ্ট করে। আর আমাকে ভয় দেখিয়ে দুই বোন অনৈতিক কাজ করে পরে আমি জানতে পারি মনিরার আরও ২টা বিয়ে হয়েছে সেখান থেকে মনিরার ছাড়াছাড়ি হয়। তা আমার কাছে গোপন রাখে, পরে আমি জানতে পারি। ফাহিমার কাছে আমি ২,৫০,০০০ টাকা ধার হিসেবে পাওনা আছি। টাকা চাইতে গেলে আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে অপমান করে এবং তার বোনকে আটকিয়ে রাখে। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ফাহিমা, ফাহিমা।

 

ইতি
মৃত্যু পথের পথিক
আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিবেন।’

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, তাদের ঘরের দরজার সামনে গ্রিলের আরেকটি গেট ছিল। ঘরের দরজা খোলা থাকলেও গ্রিলে তালা লাগানো ছিল। বাইরে থেকে ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ঘর থেকে স্ত্রীর লাশ খাটের ওপর এবং স্বামীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বাড়ির মালিক রেহানা আক্তার বলেন, ‘সকাল থেকে তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দেখি বিছানায় মনির লাশ পড়ে আছে এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে রুহুল আমিন।’

আশুলিয়া থানা–পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যা করেই আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। স্বামীর বুক পকেট থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় : ১০:১৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সাভারের আশুলিয়ায় ভাড়া বাসায় বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল স্ত্রী আর ঘরের সিলিংয়ে ঝুলছিল স্বামীর নিথর দেহ। খবর পেয়ে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২০ মে) বিকেলে আশুলিয়ার নরসিংহপুরের ইউসুফ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতরা হলেন- পটুয়াখালী সদর থানার লোহালিয়া ইউনিয়নের হাকিম আলী হাওলাদারের ছেলে রুহুল আমিন হাওলাদার (৪০) এবং বরিশালের আমতলী থানার সোবহান মৃধার মেয়ে মনি ওরফে মনিরা (২৭)।

রুহুল আমিন পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী এবং মনি বেগম গৃহিণী।স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছে। নিহত রুহুল আমিনের মরদেহের পকেটে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও জানায় পুলিশ।

চিরকুটে রুহুল আমিন লিখেছেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমি মো. রুহুল আমিন অতি কষ্টের সাথে জানাই থানা–পটুয়াখালী ও জেলা পটুয়াখালী। আমতলি নিবাসী ও বাওনা গ্রাম মো. ছোবাহান মৃধার ছোট মেয়ে মনিরার সাথে আমার বিবাহ হয়। বিবাহের বয়স ৭ মাস। বিয়ের রাত থেকে মনিরার ফোনে ফোন আসতে থাকে। এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জানতে পারি ডিসার সুয়েটারে মনিরা ও তাঁর বড় বোন ফাহিমা চাকরি অবস্থায় বিভিন্ন ছেলের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় দুই বোন। আমি বাঁধা দিলে তাঁর বোন ফাহিমা বাসায় ডেকে নিয়ে আমাকে ভয় দেখায় যে এই নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তোকে মেরে ফেলব। ফাহিমার স্বামীও জেনে ফাহিমাকে ছেড়ে দিয়েছে। তারা অনৈতিক কাজ করে টাকা কামাই করে, চাকরি তাদের শো। এবং আমাকে ভয় দেখিয়ে ইউসুফ মার্কেট কাপড়ের দোকান দিতে বাধ্য করায় সেখানে আমার ছয় লক্ষ টাকা নষ্ট করে। আর আমাকে ভয় দেখিয়ে দুই বোন অনৈতিক কাজ করে পরে আমি জানতে পারি মনিরার আরও ২টা বিয়ে হয়েছে সেখান থেকে মনিরার ছাড়াছাড়ি হয়। তা আমার কাছে গোপন রাখে, পরে আমি জানতে পারি। ফাহিমার কাছে আমি ২,৫০,০০০ টাকা ধার হিসেবে পাওনা আছি। টাকা চাইতে গেলে আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে অপমান করে এবং তার বোনকে আটকিয়ে রাখে। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ফাহিমা, ফাহিমা।

 

ইতি
মৃত্যু পথের পথিক
আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিবেন।’

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, তাদের ঘরের দরজার সামনে গ্রিলের আরেকটি গেট ছিল। ঘরের দরজা খোলা থাকলেও গ্রিলে তালা লাগানো ছিল। বাইরে থেকে ডেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ঘর থেকে স্ত্রীর লাশ খাটের ওপর এবং স্বামীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বাড়ির মালিক রেহানা আক্তার বলেন, ‘সকাল থেকে তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে দেখি বিছানায় মনির লাশ পড়ে আছে এবং সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে রুহুল আমিন।’

আশুলিয়া থানা–পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, স্ত্রীকে হত্যা করেই আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। স্বামীর বুক পকেট থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’