শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলে দেওয়া হলো সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র, থাকছে শর্ত

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর শুক্রবার (৭ জুন) শর্তসাপেক্ষ খুলে দেওয়া হয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বন্যার কারণে গত ৩০ মে থেকে সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, শ্রীপুর, জাফলং পান্থুমাই, মায়াবী ঝর্ণাসহ সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন

জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেওয়া শর্তগুলো হলো সকল নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে এবং লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে ঘাট থেকে নৌকা ছাড়তে হবে, পর্যটকরা কিছুতেই পানিতে নামতে পারবেন না বা পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে পারবেন না, ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যটকরা শিশুদের নিয়ে যাতে না আসেন সে বিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করা হলো, পর্যটকরা নৌকায় উঠে হইহুল্লোড় করবেন না, সুশৃঙ্খলভাবে বসে থাকবেন, মাঝিরা পর্যটকদের সঙ্গে সর্বদা ভালো আচরণ করবেন ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অবনতি হলে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

এদিকে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, এখনো নদীর স্রোত বেশি। বিশেষ করে গোয়াইঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে এখনো অনেক বেশি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরের যেসব জায়গায় পর্যটকরা বিচরণ করতেন সেসব জায়গার অনেকাংশ এখনো পানির নিচে। ফলে ভরা বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করেছে প্রশাসন। যে কারণে পর্যটক উপস্থিতি এখনো তুলনামূলক কম।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে শর্তসাপেক্ষে সেগুলো চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যটনকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকা ঘাট থেকে ছাড়া যাবে না। পর্যটকরা পানিতে নামা থেকে বিরত থাকবেন, বাচ্চাদের সঙ্গে না আনাসহ বিভিন্ন শর্তে পর্যটনকেন্দ্রগুলো শুক্রবার খুলে দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

খুলে দেওয়া হলো সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র, থাকছে শর্ত

প্রকাশিত সময় : ০৮:১২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে আকস্মিক বন্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর শুক্রবার (৭ জুন) শর্তসাপেক্ষ খুলে দেওয়া হয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বন্যার কারণে গত ৩০ মে থেকে সাদাপাথর, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, শ্রীপুর, জাফলং পান্থুমাই, মায়াবী ঝর্ণাসহ সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন

জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেওয়া শর্তগুলো হলো সকল নৌকায় লাইফ জ্যাকেট থাকতে হবে এবং লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে ঘাট থেকে নৌকা ছাড়তে হবে, পর্যটকরা কিছুতেই পানিতে নামতে পারবেন না বা পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে পারবেন না, ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যটকরা শিশুদের নিয়ে যাতে না আসেন সে বিষয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করা হলো, পর্যটকরা নৌকায় উঠে হইহুল্লোড় করবেন না, সুশৃঙ্খলভাবে বসে থাকবেন, মাঝিরা পর্যটকদের সঙ্গে সর্বদা ভালো আচরণ করবেন ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অবনতি হলে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

এদিকে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, এখনো নদীর স্রোত বেশি। বিশেষ করে গোয়াইঘাট উপজেলার জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে এখনো অনেক বেশি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরের যেসব জায়গায় পর্যটকরা বিচরণ করতেন সেসব জায়গার অনেকাংশ এখনো পানির নিচে। ফলে ভরা বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করেছে প্রশাসন। যে কারণে পর্যটক উপস্থিতি এখনো তুলনামূলক কম।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যার কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে শর্তসাপেক্ষে সেগুলো চালু করা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যটনকেন্দ্রগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকা ঘাট থেকে ছাড়া যাবে না। পর্যটকরা পানিতে নামা থেকে বিরত থাকবেন, বাচ্চাদের সঙ্গে না আনাসহ বিভিন্ন শর্তে পর্যটনকেন্দ্রগুলো শুক্রবার খুলে দেওয়া হয়েছে।