শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাকিবকে অবসরে যেতে বললেন শেবাগ

ব্যাটে-বলে ছন্দে নেই সাকিব আল হাসান। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে ৬০৭ দিন আর ২০ ম্যাচে সাকিবের ব্যাটে নাই একটা ফিফটিও। শেষ ২০ ম্যাচে গড় কেবল ১৮। বল হাতেও খুব একটা যে স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন, এমনটাও বলা চলে না। উইকেট পাননি। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও ভুগেছেন সাকিব আল হাসান। আনরিখ নরকিয়ার বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। বাংলাদেশও চাপে পড়েছিল সেখান থেকে। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জুটির সুবাদে জয়ের কাছাকাছি যায় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ম্যাচ হারে ৪ রানে। আর তাতে সাকিবের দায়ও দেখছেন অনেকে। ম্যাচ শেষে ক্রিকবাজের আলোচনায় সাকিব আল হাসানের ওপর একপ্রকার ক্ষোভ ঝাড়লেন বীরেন্দর শেবাগ। সাকিবের অবসর নেয়া উচিত বলে সরাসরি মন্তব্য করলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ওপেনার, আমি আগের আসরেই বলেছি, তার (সাকিব আল হাসান) আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা উচিত না।’ সাকিবের খেলা নিয়ে তার মন্তব্য, ‘আপনি এতই সিনিয়র খেলোয়াড়, অধিনায়ক ছিলেন দলের, এটা শেষ আসর। কিছু তো লজ্জা থাকা উচিত। বলা উচিত, আমি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিচ্ছি। আমার বোলিং ভালো হচ্ছে না, ব্যাটিং ভাল হচ্ছে না। দলের জন্য আমি কিছু করতেই পারছি না। তাহলে আমি খেলে কী করব?’ সাকিবের খেলার ধরণের সমালোচনায় শেবাগ বলেন, আপনি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বা ম্যাথু হেইডন না। আপনি এখন বাংলাদেশি খেলোয়াড়। নিজের মাত্রা অনুযায়ী খেলো। এটা তো আপনার রেগুলার শটই না। ওই পরিস্থিতিতে সে কেনো নরকিয়ার বিপক্ষে পুল শট খেলতে যাবে? ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তারও এই সাধারণ জ্ঞান থাকা দরকার, প্রতি বলেই রান নেয়াই তার দলের জন্য যথেষ্ট ছিল। সাকিবের অবসরের প্রসঙ্গে আলাপে নিজের অবসরের কথা উল্লেখ করেন শেবাগ, ‘যখন শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ হচ্ছিল, তখনই আমি বুঝেছি মরনে মরকেল বা আফগানিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে আমি নিজের মত খেলতে পারছি না। তখনই নির্বাচকদের জানিয়ে দিই, আমাকে যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা এই ফরম্যাটে নেয়া না হয়। আমি কেবল ওয়ানডে এবং টেস্ট খেলে যেতে চাই।’ সাকিবের শেষটা এখনই দেখছেন শেবাগ, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সাকিব এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উভয়পক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় সাকিব নিজ থেকে সরে যাবে অথবা বোর্ড তাকে বাধ্য করবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাকিবকে অবসরে যেতে বললেন শেবাগ

প্রকাশিত সময় : ১০:০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

ব্যাটে-বলে ছন্দে নেই সাকিব আল হাসান। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে ৬০৭ দিন আর ২০ ম্যাচে সাকিবের ব্যাটে নাই একটা ফিফটিও। শেষ ২০ ম্যাচে গড় কেবল ১৮। বল হাতেও খুব একটা যে স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন, এমনটাও বলা চলে না। উইকেট পাননি। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও ভুগেছেন সাকিব আল হাসান। আনরিখ নরকিয়ার বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। বাংলাদেশও চাপে পড়েছিল সেখান থেকে। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জুটির সুবাদে জয়ের কাছাকাছি যায় বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ম্যাচ হারে ৪ রানে। আর তাতে সাকিবের দায়ও দেখছেন অনেকে। ম্যাচ শেষে ক্রিকবাজের আলোচনায় সাকিব আল হাসানের ওপর একপ্রকার ক্ষোভ ঝাড়লেন বীরেন্দর শেবাগ। সাকিবের অবসর নেয়া উচিত বলে সরাসরি মন্তব্য করলেন বিশ্বকাপজয়ী এই ওপেনার, আমি আগের আসরেই বলেছি, তার (সাকিব আল হাসান) আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা উচিত না।’ সাকিবের খেলা নিয়ে তার মন্তব্য, ‘আপনি এতই সিনিয়র খেলোয়াড়, অধিনায়ক ছিলেন দলের, এটা শেষ আসর। কিছু তো লজ্জা থাকা উচিত। বলা উচিত, আমি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিচ্ছি। আমার বোলিং ভালো হচ্ছে না, ব্যাটিং ভাল হচ্ছে না। দলের জন্য আমি কিছু করতেই পারছি না। তাহলে আমি খেলে কী করব?’ সাকিবের খেলার ধরণের সমালোচনায় শেবাগ বলেন, আপনি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বা ম্যাথু হেইডন না। আপনি এখন বাংলাদেশি খেলোয়াড়। নিজের মাত্রা অনুযায়ী খেলো। এটা তো আপনার রেগুলার শটই না। ওই পরিস্থিতিতে সে কেনো নরকিয়ার বিপক্ষে পুল শট খেলতে যাবে? ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে যার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তারও এই সাধারণ জ্ঞান থাকা দরকার, প্রতি বলেই রান নেয়াই তার দলের জন্য যথেষ্ট ছিল। সাকিবের অবসরের প্রসঙ্গে আলাপে নিজের অবসরের কথা উল্লেখ করেন শেবাগ, ‘যখন শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ হচ্ছিল, তখনই আমি বুঝেছি মরনে মরকেল বা আফগানিস্তানের বোলারদের বিরুদ্ধে আমি নিজের মত খেলতে পারছি না। তখনই নির্বাচকদের জানিয়ে দিই, আমাকে যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বা এই ফরম্যাটে নেয়া না হয়। আমি কেবল ওয়ানডে এবং টেস্ট খেলে যেতে চাই।’ সাকিবের শেষটা এখনই দেখছেন শেবাগ, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সাকিব এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড উভয়পক্ষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হয় সাকিব নিজ থেকে সরে যাবে অথবা বোর্ড তাকে বাধ্য করবে।’