মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নফাঁসে কোটিপতি নিরাপত্তা প্রহরী, ঢাকায় কিনেছেন ফ্ল্যাট

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিসিএস) প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য শাহাদাত হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিরগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে। তবে শাহাদাত হোসেন এলাকায় ‘শখেন’ নামেই বেশি পরিচিত। তার একমাত্র মেয়ে চাকরি করেন ঢাকা পাসপোর্ট অফিসে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন তার গ্রামের ভিটায় দেড় বিঘার ফলের বাগান ও বিলে ৫ বিঘা জমি কিনেছেন। সিংড়া পৌরসভার উপ শহরে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় কিনেছেন ৮ শতক জায়গা। পৌরসভার সরকারপাড়া মহল্লায় কিনেছেন ৫ শতক জায়গা।

এছাড়াও ঢাকায় ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। তবে গ্রামের বাড়িতে তিনি থাকেন না। তার জমি ও ফলের বাগান দেখাশোনা করেন তার খালাতো ভাই হানিফ আলী। তিনি জানান, তার ভাইয়ের দেড় বিঘার ফলের বাগান চাষাবাদ ও বিলের ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেন তিনি। বাগানের জন্য তার ভাইকে কিছু দিতে হয় না। তবে ধানের বর্গার অংশ তার ভাইকে দেন। হানিফ আরও বলেন, তার ভাই ও তার পরিবার এখানে থাকেন না। মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসেন। ঢাকার মিরপুরে নিজস্ব বাড়িতে থাকেন তিনি। এলাকাবাসী জানান, ২০০২ সালের দিকে এই এলাকার সাবেক সচিব মখলেছুর রহমান শাহাদাতকে চাকরি দিয়েছিলেন। তবে তিনি প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তা প্রতিবেশীরা জানতেন না।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি তারা জানেন। তার গ্রামের জামাল হোসেন, রেজাউল ও আনিছুর রহমান বলেন, ঈদে বা জলসায় এলাকা আসেন তিনি। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করেন। তিনি পাসপোর্ট অফিসে চাকরি করেন এটুকু আমরা জানতাম। প্রশ্নফাঁসে জড়িত এটা জানতাম না। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পরে বিষয়টি আমরা জেনেছি। সিংড়ার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ঢাকায় বাড়ি ও এলাকায় জায়গা-জমি কিনেছেন তিনি। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর ১২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে এত কিছু করা সম্ভব না। তাই শাহাদাতের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রশ্নফাঁসে কোটিপতি নিরাপত্তা প্রহরী, ঢাকায় কিনেছেন ফ্ল্যাট

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০২৪

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিসিএস) প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য শাহাদাত হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিরগাছা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে। তবে শাহাদাত হোসেন এলাকায় ‘শখেন’ নামেই বেশি পরিচিত। তার একমাত্র মেয়ে চাকরি করেন ঢাকা পাসপোর্ট অফিসে। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন তার গ্রামের ভিটায় দেড় বিঘার ফলের বাগান ও বিলে ৫ বিঘা জমি কিনেছেন। সিংড়া পৌরসভার উপ শহরে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় কিনেছেন ৮ শতক জায়গা। পৌরসভার সরকারপাড়া মহল্লায় কিনেছেন ৫ শতক জায়গা।

এছাড়াও ঢাকায় ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। তবে গ্রামের বাড়িতে তিনি থাকেন না। তার জমি ও ফলের বাগান দেখাশোনা করেন তার খালাতো ভাই হানিফ আলী। তিনি জানান, তার ভাইয়ের দেড় বিঘার ফলের বাগান চাষাবাদ ও বিলের ৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেন তিনি। বাগানের জন্য তার ভাইকে কিছু দিতে হয় না। তবে ধানের বর্গার অংশ তার ভাইকে দেন। হানিফ আরও বলেন, তার ভাই ও তার পরিবার এখানে থাকেন না। মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসেন। ঢাকার মিরপুরে নিজস্ব বাড়িতে থাকেন তিনি। এলাকাবাসী জানান, ২০০২ সালের দিকে এই এলাকার সাবেক সচিব মখলেছুর রহমান শাহাদাতকে চাকরি দিয়েছিলেন। তবে তিনি প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত তা প্রতিবেশীরা জানতেন না।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি তারা জানেন। তার গ্রামের জামাল হোসেন, রেজাউল ও আনিছুর রহমান বলেন, ঈদে বা জলসায় এলাকা আসেন তিনি। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করেন। তিনি পাসপোর্ট অফিসে চাকরি করেন এটুকু আমরা জানতাম। প্রশ্নফাঁসে জড়িত এটা জানতাম না। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পরে বিষয়টি আমরা জেনেছি। সিংড়ার তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ঢাকায় বাড়ি ও এলাকায় জায়গা-জমি কিনেছেন তিনি। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর ১২ হাজার টাকা বেতন দিয়ে এত কিছু করা সম্ভব না। তাই শাহাদাতের সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি করেন তিনি।