সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘কর্মসূচি নয়’ ঘোষণা দিয়েও মাঠে শিক্ষার্থীরা

পবিত্র আশুরার কারণে বুধবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনও কর্মসূচি না রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবু তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, উপাচার্যের বাসভবনের সামনেসহ রাজধানীর কিছু এলাকায় অবস্থান নেয়।

শুধু সারা দেশে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল’ করার ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন বিশ্বরোডে অবস্থান নিয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঘোষণা ছাড়া সড়ক অবরোধ করায় ওই এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভিসি চত্বর থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, পবিত্র আশুরার কারণে বুধবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনও কর্মসূচি থাকছে না। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

ঘোষণা দেওয়ার পরও সড়কে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধসহ হল ছাড়ার ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, দুপুরের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। তবে, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের টানা দুদিনের সংঘর্ষ শেষে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন রকমের শ্লোগান দিচ্ছেন। ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ছাত্রলীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে জড়ো হতে চাইলে পুলিশ দুটি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। টিএসসি-ভিসি চত্বর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘কর্মসূচি নয়’ ঘোষণা দিয়েও মাঠে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ০৭:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪

পবিত্র আশুরার কারণে বুধবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনও কর্মসূচি না রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তবু তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, উপাচার্যের বাসভবনের সামনেসহ রাজধানীর কিছু এলাকায় অবস্থান নেয়।

শুধু সারা দেশে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল’ করার ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন বিশ্বরোডে অবস্থান নিয়েছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ঘোষণা ছাড়া সড়ক অবরোধ করায় ওই এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভিসি চত্বর থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, পবিত্র আশুরার কারণে বুধবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনও কর্মসূচি থাকছে না। তবে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

ঘোষণা দেওয়ার পরও সড়কে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধসহ হল ছাড়ার ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, দুপুরের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। তবে, ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের টানা দুদিনের সংঘর্ষ শেষে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন রকমের শ্লোগান দিচ্ছেন। ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘হামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘ছাত্রলীগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিকেল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে জড়ো হতে চাইলে পুলিশ দুটি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। টিএসসি-ভিসি চত্বর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।