মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতেও। কখনও গুঁড়িগুঁড়ি, কখনও মাঝারি এবং কখনও ভারী বর্ষণ চলছে থেমে থেমে। এ মধ্য শ্রাবণে যেন স্বরূপে ফিরেছে বর্ষা। যে কারণে এরই মধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে রাজশাহী মহানগরীর নিম্ম ও মধ্যাঞ্চল। বেশ কিছু দিন থেকে রাজশাহীতে তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরম পড়ছিল। মৌসুমি বর্ষণে গরমের সে দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এর আগে আষাঢ় মাসেও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে রাজশাহীতে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির তেমন দেখা পাওয়া যায়নি। তবে ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ১২ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর এটিই ছিল এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এরপর আবারও তেঁতে ওঠে রাজশাহী।

এতে নগরজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তবে মধ্য শ্রাবণে দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে রাজশাহীতে থেকে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৪৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতেই নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। তাই স্বস্তির বৃষ্টি কেথাও কোথাও হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভোগের কারণ। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, মাস্টারপাড়া, গণকপাড়া, উপশহর, বর্ণালির মোড়সহ বেশকিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে যানবাহন এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনেক এলাকার সড়ক থেকে জমে থাকা পানি নেমেও যাচ্ছে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনেয়ারা বেগম জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মত রাজশাহীতেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মূলত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেকে আজও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া আরও অন্ততঃ দশ দিন এভাবেই থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এমন বৃষ্টি স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং বিকেল ৩টায় ১০০ শতাংশ। মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ কাটার পর এর আগে গত ২৬ জুন রজশাহীর সর্বোচ্চ তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) রহিদুল ইসলাম বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এমন বৃষ্টিপাত হবে এটি প্রকৃতির খুবই স্বাভাবিক আচরণ। বরং দেশের অন্যান্য জেলায় তুলনায় রাজশাহীতে দেরি করেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত চলছে। আকাশে প্রচণ্ড মেঘ আছে। এই বর্ষণ তাই অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আর টানা বৃষ্টিপাত হলে দিনের তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম আরও কমবে বলেও জানান এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

প্রকাশিত সময় : ১১:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে বিভাগীয় শহর রাজশাহীতেও। কখনও গুঁড়িগুঁড়ি, কখনও মাঝারি এবং কখনও ভারী বর্ষণ চলছে থেমে থেমে। এ মধ্য শ্রাবণে যেন স্বরূপে ফিরেছে বর্ষা। যে কারণে এরই মধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে রাজশাহী মহানগরীর নিম্ম ও মধ্যাঞ্চল। বেশ কিছু দিন থেকে রাজশাহীতে তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরম পড়ছিল। মৌসুমি বর্ষণে গরমের সে দাপট কিছুটা হলেও কমেছে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এর আগে আষাঢ় মাসেও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে রাজশাহীতে। কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির তেমন দেখা পাওয়া যায়নি। তবে ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ১২ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আর এটিই ছিল এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এরপর আবারও তেঁতে ওঠে রাজশাহী।

এতে নগরজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। তবে মধ্য শ্রাবণে দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে রাজশাহীতে থেকে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৪৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতেই নিচু এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। তাই স্বস্তির বৃষ্টি কেথাও কোথাও হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভোগের কারণ। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, মাস্টারপাড়া, গণকপাড়া, উপশহর, বর্ণালির মোড়সহ বেশকিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে যানবাহন এবং মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অনেক এলাকার সড়ক থেকে জমে থাকা পানি নেমেও যাচ্ছে। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক আনেয়ারা বেগম জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মত রাজশাহীতেও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মূলত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকে রাজশাহীতে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর থেকে আজও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া আরও অন্ততঃ দশ দিন এভাবেই থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এমন বৃষ্টি স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং বিকেল ৩টায় ১০০ শতাংশ। মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ কাটার পর এর আগে গত ২৬ জুন রজশাহীর সর্বোচ্চ তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) রহিদুল ইসলাম বলেন, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এমন বৃষ্টিপাত হবে এটি প্রকৃতির খুবই স্বাভাবিক আচরণ। বরং দেশের অন্যান্য জেলায় তুলনায় রাজশাহীতে দেরি করেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত চলছে। আকাশে প্রচণ্ড মেঘ আছে। এই বর্ষণ তাই অব্যাহত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। আর টানা বৃষ্টিপাত হলে দিনের তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম আরও কমবে বলেও জানান এই আবহাওয়া কর্মকর্তা।