মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনে তিনজন নিহত, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

কোটা বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে সর্বাত্মক সরকার পতনের একদফা দাবীতে ব্যাপক ভাংচুর-হামলার মেতে উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতারা। রবিবার(০৪ আগষ্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দফায় দফায় হামলা করে বৈষম্যবিরোধী। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, সদর থানা ও শেরপুর থানায় হামলা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বেলা ১১ টার পর বগুড়ার সাতমাথা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় সেখানে আওয়ামীলীগের নেতা- কর্মীদের দেখা যায়। এসময় আন্দোলনকারীরা সাতমাথায় অবস্থান করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পালিয়ে যায় আওয়ামীলীগের কর্মীরা। তখন বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা রাস্তার মাঝে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে।

এসময় পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে পাল্টা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে ছাত্রজনতা। এভাবে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় বগুড়া সদর থানায় হামলা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সাতমাথা থেকে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সড়কের মুখে অবস্থান নেয়। থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলতে থাকে। আন্দোনলকারীরা স্টেশন রোড, শেরপুর রোড, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক ও গোহাইল রোড থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। বেলা পৌনে ২টার দিকে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও সাতমাথা চত্বরে অবস্থান নেয়।

একই দিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর থানায় হামলাকারীদের ইট-পাটকেল ছুড়া ও ভাংচুরের চেষ্টাকালে এবং থানা রক্ষায় পুলিশের টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় অন্তত চারজন রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে শেরপুরের ধুনট মোড় এলাকায় পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সাইবোর্ড ভাংচুর করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনাকারীরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া উপজেলার সামনে সকাল ১০ টার দিকে অবস্থান নেন। সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। সেখানেই আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। এক সময় উত্তেজিত জনতা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে হামলা করেন। পরে সেখানে থাকা একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়।

উপজেলা ভূমি অফিসসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় হামলা করা। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ থানার মধ্যে অবস্থান নেন। তখন আন্দোলনকারীরা থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে থানার মধ্যে থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এ সময় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

তবে আন্দোলনকারীদের হামলায় বগুড়ার দুপচাচিয়া ও সদর থানার ৩জন নিহত সহ প্রায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী-পুলিশ আহত হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার জাকির হাসান বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানায় হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন

এদিকে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বড় বাস-ট্রাক-মিনিট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় চলছে ছোট যানবাহন। সাধারণ মানুষের বাহন এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনে তিনজন নিহত, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অগাস্ট ২০২৪

কোটা বিরোধী আন্দোলন কেন্দ্র করে সর্বাত্মক সরকার পতনের একদফা দাবীতে ব্যাপক ভাংচুর-হামলার মেতে উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতারা। রবিবার(০৪ আগষ্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দফায় দফায় হামলা করে বৈষম্যবিরোধী। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া, সদর থানা ও শেরপুর থানায় হামলা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বেলা ১১ টার পর বগুড়ার সাতমাথা দখলে নেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় সেখানে আওয়ামীলীগের নেতা- কর্মীদের দেখা যায়। এসময় আন্দোলনকারীরা সাতমাথায় অবস্থান করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পালিয়ে যায় আওয়ামীলীগের কর্মীরা। তখন বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীরা রাস্তার মাঝে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে।

এসময় পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে পাল্টা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে ছাত্রজনতা। এভাবে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় বগুড়া সদর থানায় হামলা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সাতমাথা থেকে আন্দোলনকারীদের হটিয়ে দিয়ে বিভিন্ন সড়কের মুখে অবস্থান নেয়। থেমে থেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলতে থাকে। আন্দোনলকারীরা স্টেশন রোড, শেরপুর রোড, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক ও গোহাইল রোড থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। বেলা পৌনে ২টার দিকে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও সাতমাথা চত্বরে অবস্থান নেয়।

একই দিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর থানায় হামলাকারীদের ইট-পাটকেল ছুড়া ও ভাংচুরের চেষ্টাকালে এবং থানা রক্ষায় পুলিশের টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় অন্তত চারজন রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়। এর আগে বেলা ১১টার দিকে শেরপুরের ধুনট মোড় এলাকায় পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সাইবোর্ড ভাংচুর করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনাকারীরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের দুপচাঁচিয়া উপজেলার সামনে সকাল ১০ টার দিকে অবস্থান নেন। সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন। সেখানেই আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস। এক সময় উত্তেজিত জনতা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে হামলা করেন। পরে সেখানে থাকা একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়।

উপজেলা ভূমি অফিসসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় হামলা করা। এ সময় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ থানার মধ্যে অবস্থান নেন। তখন আন্দোলনকারীরা থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরে থানার মধ্যে থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এ সময় পাঁচজন আহত হয়েছেন।

তবে আন্দোলনকারীদের হামলায় বগুড়ার দুপচাচিয়া ও সদর থানার ৩জন নিহত সহ প্রায় অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী-পুলিশ আহত হয়।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার জাকির হাসান বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানায় হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন

এদিকে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বড় বাস-ট্রাক-মিনিট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় চলছে ছোট যানবাহন। সাধারণ মানুষের বাহন এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ব্যাটারিচালিত রিকশা।