সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বর্ষার কদম ফুল

চলছে বর্ষাকাল। বর্ষাকালের আরেক সৌন্দর্যের নাম হচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে বাড়ির আনাচে-কানাচে কিংবা রাস্তার পাশে বড় হওয়া কদমগাছের কদমফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা এই কদমফুলগুলো খুব সহজেই মনকাড়ে ফুল প্রেমীদের।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে-প্রান্তরে কদম গাছগুলো ভরে উঠেছে ফুলে ফুলে। এ যেন আবহমান বাংলার বর্ষা বরণের প্রাকৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন সড়কের পাশে এখন হলুদ আর সাদায় সেজেছে সর্বত্র। বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলছে কদম ফুলের। গাছের শাখে শাখে সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে উঠেছে অসংখ্য কদম ফুল।

বর্ষার প্রকৃতি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছে স্নিগ্ধতা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস হচ্ছে বর্ষাকাল।আমাদের বাংলাদেশ প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং ঋতুর বর্ষা এক অনন্য ঋতু। আর বর্ষার আগমনকে স্বাগত জানাতে কদমফুল যেন সর্বদা প্রস্তুত। রূপসী তরুর অন্যতম রূপবতী হলো কদমফুল। কদম ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন না এমন বেরসিক মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আবার বর্ষায় প্রেমিকার মনোরঞ্জনে কদমের জুড়ি নেই। একই সাথে বর্ষার প্রকৃতি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছে স্নিগ্ধতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন , অগ্নিবীণা হল, দোলনচাঁপা হল এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও প্রথম গেইট সংলগ্ন রাস্তার পাশে কদম ফুল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর  দৃষ্টিনন্দন রুপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। বর্ষার অনুভূতি ও অপরূপ সৌন্দর্যের দাবিদার কদম ফুল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে অসংখ্য গাছ। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে কদম ফুলের গাছ। আষাঢ়ের কদম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। কদম ফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য পিপাসুদের তৃপ্তি দেয়। তরুণ-তরুণীরা কদম ফুল তাদের প্রিয়জনকে উপহার দেয়। মেয়েরা পরে খোঁপায়।খেলায় মেতে উঠে শিশুরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য রক্ষায় ক্যাম্পাসে আরো বেশী কদম গাছ লাগানো দরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, কদম ফুল শুভ্রতার প্রতীক। ক্যাম্পাসে কদমফুল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিস্নাত দিনে মনে অন্য রকম অনূভূতি এনে দেয়। অনেক কবি সাহিত্যিক বর্ষার কদম ফুল নিয়ে অনেক কবিতা সাহিত্য রচনা করেছেন। কদম ফুল আসলে প্রকৃতির বর্ষা মৌসুমে সৌন্দর্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত প্রশাসনিকভাবে এই গাছ রোপনের জন্য  উদ্যোগ গ্রহণ করা । এছাড়াও ক্যাম্পাসে রোপিত অন্যান্য ফুল ও ফলদ বৃক্ষ গুলোর সুষ্ঠু  পরিচর্যা করার জন্য সকলের সচেতনতা কামনা করেন ।

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান কদম ফুলের মুগ্ধতা বর্ণনা করে বলেন বলেন,কদম ছাড়া বর্ষা যেন একেবারেই বেমানান। এ জন্য কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।বর্ষার বাতাসে ভেসে আসা কদমের গন্ধ মনকে আকুল করে তোলে। বর্ণে, গন্ধে এ গাছটি বাঙালির খুব প্রিয়। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে কদম ফুল ছন্দ তুলে যেন নিজ মননে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে বর্ষার কদম ফুল

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

চলছে বর্ষাকাল। বর্ষাকালের আরেক সৌন্দর্যের নাম হচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবে বাড়ির আনাচে-কানাচে কিংবা রাস্তার পাশে বড় হওয়া কদমগাছের কদমফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা এই কদমফুলগুলো খুব সহজেই মনকাড়ে ফুল প্রেমীদের।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে-প্রান্তরে কদম গাছগুলো ভরে উঠেছে ফুলে ফুলে। এ যেন আবহমান বাংলার বর্ষা বরণের প্রাকৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন সড়কের পাশে এখন হলুদ আর সাদায় সেজেছে সর্বত্র। বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলছে কদম ফুলের। গাছের শাখে শাখে সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে উঠেছে অসংখ্য কদম ফুল।

বর্ষার প্রকৃতি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছে স্নিগ্ধতা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস হচ্ছে বর্ষাকাল।আমাদের বাংলাদেশ প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং ঋতুর বর্ষা এক অনন্য ঋতু। আর বর্ষার আগমনকে স্বাগত জানাতে কদমফুল যেন সর্বদা প্রস্তুত। রূপসী তরুর অন্যতম রূপবতী হলো কদমফুল। কদম ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন না এমন বেরসিক মানুষ হয়তো খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আবার বর্ষায় প্রেমিকার মনোরঞ্জনে কদমের জুড়ি নেই। একই সাথে বর্ষার প্রকৃতি বাংলা সাহিত্যে এনে দিয়েছে স্নিগ্ধতা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন , অগ্নিবীণা হল, দোলনচাঁপা হল এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও প্রথম গেইট সংলগ্ন রাস্তার পাশে কদম ফুল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর  দৃষ্টিনন্দন রুপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। বর্ষার অনুভূতি ও অপরূপ সৌন্দর্যের দাবিদার কদম ফুল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে অসংখ্য গাছ। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে কদম ফুলের গাছ। আষাঢ়ের কদম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। কদম ফুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য পিপাসুদের তৃপ্তি দেয়। তরুণ-তরুণীরা কদম ফুল তাদের প্রিয়জনকে উপহার দেয়। মেয়েরা পরে খোঁপায়।খেলায় মেতে উঠে শিশুরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য রক্ষায় ক্যাম্পাসে আরো বেশী কদম গাছ লাগানো দরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, কদম ফুল শুভ্রতার প্রতীক। ক্যাম্পাসে কদমফুল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিস্নাত দিনে মনে অন্য রকম অনূভূতি এনে দেয়। অনেক কবি সাহিত্যিক বর্ষার কদম ফুল নিয়ে অনেক কবিতা সাহিত্য রচনা করেছেন। কদম ফুল আসলে প্রকৃতির বর্ষা মৌসুমে সৌন্দর্যের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত প্রশাসনিকভাবে এই গাছ রোপনের জন্য  উদ্যোগ গ্রহণ করা । এছাড়াও ক্যাম্পাসে রোপিত অন্যান্য ফুল ও ফলদ বৃক্ষ গুলোর সুষ্ঠু  পরিচর্যা করার জন্য সকলের সচেতনতা কামনা করেন ।

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান কদম ফুলের মুগ্ধতা বর্ণনা করে বলেন বলেন,কদম ছাড়া বর্ষা যেন একেবারেই বেমানান। এ জন্য কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত।বর্ষার বাতাসে ভেসে আসা কদমের গন্ধ মনকে আকুল করে তোলে। বর্ণে, গন্ধে এ গাছটি বাঙালির খুব প্রিয়। বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে কদম ফুল ছন্দ তুলে যেন নিজ মননে।