সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবির একাডেমিক ভবন থেকে ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশে হস্তান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীকে গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান (জিয়া) হলে সহিংসতার ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সাইন্স ও লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৌফিক আহমেদ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গত জুলাই মাসের ১৬ তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিয়া হলে হামলা চালান। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সে এতদিন নির্বিঘ্নে তার বিভাগে ক্লাস করে যাচ্ছিলেন। এবিষয়ে জিয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে তাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুইটি দাবি নিয়ে আবেদন করেন।
দাবিগুলো হল:
১. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।
২. আজকের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধি অনুসারে আইনানুগ মামলা করতে হবে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘আজকে আমরা যাকে পেয়েছি সে গত জুলাই মাসে জিয়া হলে যেসব সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে তাদের মধ্যে একজন। আমরা যখন জানতে পারি সে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করে যাচ্ছে তখন আমরা প্রশাসনের কাছে তার বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি। তাকে কোন প্রকার মারধর না করে আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের নামধারী এক সন্ত্রাসীকে পেয়েছি যার বিরুদ্ধে হলে অবৈধ সিট দখল ও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলে  সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ তার ফুটেজ পাওয়া গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে কোর্টে চালান করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘ আমি কৃতজ্ঞ যে আমার ছাত্ররা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেও কোন উশৃংখল আচরণ দেখায়নি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি। ছাত্ররা যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব ঘটিয়েছে তার একটি রেশ আমরা আজকের ঘটনায় পেয়েছি।’
ফজলে রাব্বী পরশ
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাবির একাডেমিক ভবন থেকে ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশিত সময় : ১১:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীকে গত জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান (জিয়া) হলে সহিংসতার ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সাইন্স ও লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৌফিক আহমেদ।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গত জুলাই মাসের ১৬ তারিখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিয়া হলে হামলা চালান। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সে এতদিন নির্বিঘ্নে তার বিভাগে ক্লাস করে যাচ্ছিলেন। এবিষয়ে জিয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে তাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দুইটি দাবি নিয়ে আবেদন করেন।
দাবিগুলো হল:
১. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সাপেক্ষে ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।
২. আজকের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধি অনুসারে আইনানুগ মামলা করতে হবে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মামুন ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘আজকে আমরা যাকে পেয়েছি সে গত জুলাই মাসে জিয়া হলে যেসব সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে তাদের মধ্যে একজন। আমরা যখন জানতে পারি সে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করে যাচ্ছে তখন আমরা প্রশাসনের কাছে তার বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি। তাকে কোন প্রকার মারধর না করে আমরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের নামধারী এক সন্ত্রাসীকে পেয়েছি যার বিরুদ্ধে হলে অবৈধ সিট দখল ও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলে  সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসহ তার ফুটেজ পাওয়া গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে কোর্টে চালান করবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘ আমি কৃতজ্ঞ যে আমার ছাত্ররা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেও কোন উশৃংখল আচরণ দেখায়নি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি। ছাত্ররা যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব ঘটিয়েছে তার একটি রেশ আমরা আজকের ঘটনায় পেয়েছি।’
ফজলে রাব্বী পরশ