মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৫০ দিন লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার রাতুলের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বগুড়ার স্কুলছাত্র জুনায়েদ ইসলাম ওরফে রাতুল (১৩) দেড় মাসের বেশি চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জুনায়েদ ইসলাম বগুড়ার উপশহর এলাকার পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বাবা জিয়াউর রহমান ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শরীরে পুলিশের ছোড়া শটগানের অসংখ্য গুলি নিয়ে দেড় মাসের বেশি সময় হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করেছে রাতুল। বেঁচে থাকার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে আমার আদরের সন্তানটা।’

জিয়াউর রহমান জানান, শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে অংশ নেয় জুনায়েদ। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে যোগ দেয় জুনায়েদ। বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র-জনতার মিছিল বগুড়া শহরের বড়গোলা থেকে সাতমাথা এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে সদর থানার সামনে পুলিশ সেই মিছিল লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি জুনায়েদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জিয়াউর রহমান আরও জানান, জুনায়েদের মরদেহ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে তার লাশ নেওয়া হয় বগুড়া শহরের হাকির মোড়ের বাসায়। পরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে নামাজগড় আঞ্জুমান গোরস্তানে দাফন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৫০ দিন লড়াই করে মৃত্যুর কাছে হার রাতুলের

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ বগুড়ার স্কুলছাত্র জুনায়েদ ইসলাম ওরফে রাতুল (১৩) দেড় মাসের বেশি চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জুনায়েদ ইসলাম বগুড়ার উপশহর এলাকার পথ পাবলিক স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বাবা জিয়াউর রহমান ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শরীরে পুলিশের ছোড়া শটগানের অসংখ্য গুলি নিয়ে দেড় মাসের বেশি সময় হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করেছে রাতুল। বেঁচে থাকার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে আমার আদরের সন্তানটা।’

জিয়াউর রহমান জানান, শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বন্ধুদের সঙ্গে অংশ নেয় জুনায়েদ। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে যোগ দেয় জুনায়েদ। বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র-জনতার মিছিল বগুড়া শহরের বড়গোলা থেকে সাতমাথা এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করলে সদর থানার সামনে পুলিশ সেই মিছিল লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া শটগানের গুলি জুনায়েদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জিয়াউর রহমান আরও জানান, জুনায়েদের মরদেহ হাসপাতাল থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে তার লাশ নেওয়া হয় বগুড়া শহরের হাকির মোড়ের বাসায়। পরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে নামাজগড় আঞ্জুমান গোরস্তানে দাফন করা হয়।