শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখলেন রাবি শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে এবার রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় তিনজন শিক্ষার্থী সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করেন। পরে সেই রক্ত দিয়ে সাদা কাপড়ে ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক’ লিখে ব্যানার তৈরি করেন। সেই ব্যানারে রক্তমাখা হাতের ছাপও রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেই ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ‘রক্ত গেছে আরও যাক, পোষ্য কোটা নিপাত যাক’, ‘মেধাবীরা মুক্তি পাক, পোষ্য কোটা নিপাত যাক’সহ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা একটি মীমাংসিত বিষয়। তবুও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার মতো একটি অনৈতিক বিষয়কে জিইয়ে রেখেছে। জুলাই বিপ্লবে আমার ভাইয়ের তাজা রক্তের ঘ্রাণ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকে পৌঁছায় নাই। তাই আমরা আবারও গায়ের রক্ত বের করে ব্যানার বানিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে টাঙিয়ে দেব। যাতে সেখানে ঢুকতে গেলে কর্তাব্যক্তিদেরে নাকে আমার ভাইয়ের রক্তের ঘ্রাণ পৌঁছায়

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমান বলেন, ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীরা কী ঘটাতে পারে তা আমরা জুলাই বিপ্লবে দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ন্যায্যতার দাবির পক্ষে থাকতে হবে। পোষ্য কোটা বাতিলের বাইরে কোনো অপশন নেই। এটি তারা কিভাবে করবে সেটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য যে থাকছে না সেটি আমরা আজকে রক্ত দিয়ে লিখে দিয়ে গেলাম।

রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই আজকের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোষ্য কোটা আমরা মেনে নেব না। পোষ্য কোটার মতো একটি নিকৃষ্ট কোটা আমরা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ধারণা করছি চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত ভাইদের রক্তের গন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নাকে পৌঁছাচ্ছে না। তাই আজকে আমরা রক্ত সংহতি জানাচ্ছি।

এর আগে রাবিতে পোষ্য কোটা দাবিতে মানববন্ধন, বিতর্ক, কোটার প্রতীকী কবর রচনা এবং আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তবে কোটা সংস্কারে রিভিউ কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাধা হিসেবে ‘শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরোধিতা’কে দায়ী করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখলেন রাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত সময় : ০৪:১৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে এবার রক্ত দিয়ে ব্যানার লিখে মানববন্ধন কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় তিনজন শিক্ষার্থী সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করেন। পরে সেই রক্ত দিয়ে সাদা কাপড়ে ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক’ লিখে ব্যানার তৈরি করেন। সেই ব্যানারে রক্তমাখা হাতের ছাপও রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেই ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ‘রক্ত গেছে আরও যাক, পোষ্য কোটা নিপাত যাক’, ‘মেধাবীরা মুক্তি পাক, পোষ্য কোটা নিপাত যাক’সহ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোটা একটি মীমাংসিত বিষয়। তবুও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার মতো একটি অনৈতিক বিষয়কে জিইয়ে রেখেছে। জুলাই বিপ্লবে আমার ভাইয়ের তাজা রক্তের ঘ্রাণ হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাকে পৌঁছায় নাই। তাই আমরা আবারও গায়ের রক্ত বের করে ব্যানার বানিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে টাঙিয়ে দেব। যাতে সেখানে ঢুকতে গেলে কর্তাব্যক্তিদেরে নাকে আমার ভাইয়ের রক্তের ঘ্রাণ পৌঁছায়

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ আমান বলেন, ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীরা কী ঘটাতে পারে তা আমরা জুলাই বিপ্লবে দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ন্যায্যতার দাবির পক্ষে থাকতে হবে। পোষ্য কোটা বাতিলের বাইরে কোনো অপশন নেই। এটি তারা কিভাবে করবে সেটি তাদের ব্যাপার। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য যে থাকছে না সেটি আমরা আজকে রক্ত দিয়ে লিখে দিয়ে গেলাম।

রক্ত দিয়ে ব্যানার লেখা শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই আজকের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পোষ্য কোটা আমরা মেনে নেব না। পোষ্য কোটার মতো একটি নিকৃষ্ট কোটা আমরা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ধারণা করছি চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ-আহত ভাইদের রক্তের গন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নাকে পৌঁছাচ্ছে না। তাই আজকে আমরা রক্ত সংহতি জানাচ্ছি।

এর আগে রাবিতে পোষ্য কোটা দাবিতে মানববন্ধন, বিতর্ক, কোটার প্রতীকী কবর রচনা এবং আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তবে কোটা সংস্কারে রিভিউ কমিটি গঠন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাধা হিসেবে ‘শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরোধিতা’কে দায়ী করছেন তারা।