মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই অনেকে চাঁদাবাজি করছেন: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের জন্য চাঁদাবাজি করছেন। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে দু-একজনকে বহিষ্কার করতে দেখা যাচ্ছে। ওই দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দাবি করছেন, গত ১৫ বছরে তারা ক্ষমতায় ছিলেন না, আর নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের টাকার প্রয়োজন।

আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় সংলাপে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জনের অবস্থা গুরুতর। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অভ্যুত্থান হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তাই কিছুটা সংস্কার না করেই যদি নির্বাচনে যাই, তবে তা ছাত্র-জনতার সঙ্গে অন্যায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। নির্বাচন আইনেও বড় ধরনের সংস্কার দরকার।

২০০৭ সালের সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তখন আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীসময়ে রাজনৈতিক সরকার এসে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এখন সংস্কার না করলে তা আর কখনো হবে না। এ জন্য ন্যূনতম সময় দিতে হবে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা একটি কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছি। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়।

তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এরপর আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আইন করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই অনেকে চাঁদাবাজি করছেন: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের জন্য চাঁদাবাজি করছেন। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে দু-একজনকে বহিষ্কার করতে দেখা যাচ্ছে। ওই দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দাবি করছেন, গত ১৫ বছরে তারা ক্ষমতায় ছিলেন না, আর নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের টাকার প্রয়োজন।

আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় সংলাপে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জনের অবস্থা গুরুতর। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অভ্যুত্থান হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তাই কিছুটা সংস্কার না করেই যদি নির্বাচনে যাই, তবে তা ছাত্র-জনতার সঙ্গে অন্যায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। নির্বাচন আইনেও বড় ধরনের সংস্কার দরকার।

২০০৭ সালের সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তখন আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, কিন্তু পরবর্তীসময়ে রাজনৈতিক সরকার এসে সেগুলো বাস্তবায়ন করেনি। এখন সংস্কার না করলে তা আর কখনো হবে না। এ জন্য ন্যূনতম সময় দিতে হবে এবং সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা একটি কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছি। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন হলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়।

তিনি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, এরপর আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আইন করা প্রয়োজন।