বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফের চেক বাউন্সের অভিযোগ রাজশাহী ক্রিকেটারদের

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে দুর্বার রাজশাহীর পেমেন্টি ইস্যু নিয়ে ঝামেলা যেন শেষই হচ্ছে না। যেখানে গত রবিবার পারিশ্রমিকের চেক হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আপলোড করে এনামুল হক লিখেছিলেন, ‘All is well’ অর্থাৎ সব ঠিক আছে। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেই চেক থেকে টাকা ক্রিকেটারদের ব্যাংক হিসেবে জমা হয়নি বলে দলটির ক্রিকেটারদের অভিযোগ। তারা জানিয়েছেন, চেক আবারও বাউন্স করেছে। অনেকে আবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষার কথাও জানিয়েছেন।

এর আগে আসরের চট্টগ্রাম পর্বে প্রকাশ্যে আসে রাজশাহীর পারিশ্রমিক সমস্যা। কোনো টাকা না পাওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি অনুশীলন বয়কট করেন দলটির ক্রিকেটাররা। এমনকি ১৭ জানুয়ারির ম্যাচও না খেলার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেন তারা। পরে বিসিবির হস্তক্ষেপে ও ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে তাদের ম্যাচ খেলতে রাজি করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

পরে সেদিনই পারিশ্রমিকের আরও ২৫ শতাংশ চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা জানানো হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম থাকতেই এক দফা প্রত্যাখ্যান হয় সেই চেক। এমনকি ঢাকায় ফিরেও চলতে থাকে এই নাটকীয়তা। পারিশ্রমিকের পরের অংশ না পাওয়ায় গত রবিবার ম্যাচ খেলতে মাঠেই আসেননি রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা।

কিন্তু রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সেদিন দেশিদের নিয়ে গড়া একাদশে খেলতে নামে রাজশাহী। দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেদিন ১২০ রানের পুঁজিতেও ম্যাচ জিতে নেয় তারা। মাঠে নামার আগেই তাদেরকে দেওয়া হয় আরেকটি চেক। তবে রাজশাহীর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো টাকা জমা হয়নি তাদের ব্যাংক হিসাবে।

যদিও দলটির ওপেনার সাব্বির হোসেনসহ একাধিক ক্রিকেটার অবশ্য আশায় আছেন, মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগেই টাকা পেয়ে যাবেন তারা। সাব্বির বলেন, ‘চেক জমা দিয়েছিলাম কালকে (সোমবার)। তবে টাকা এখনও একাউন্টে আসেনি। ব্যাংক থেকে বলেছিল, আজকে (মঙ্গলবার) পেয়ে যেতে পারি। ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগপর্যন্ত তো সময় আছে। এর মধ্যেই হয়ে যাবে আশা করি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ক্রিকেটার আবার সেই অপেক্ষায় থাকতে রাজি নন। ‘কেমন আছেন’ জিজ্ঞেস করা হলে নিজ থেকেই তিনি বললেন, বারবার চেক প্রত্যাখ্যান হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন তারা।

প্রথম পর্বের ১২ ম্যাচ শেষে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের খুব কাছাকাছি দলটি। তবে সেরা চারে তারা থাকবে কি না, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। আর প্লে-অফে জায়গা পেলে তাদের পরবর্তী ম্যাচ সোমবার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফের চেক বাউন্সের অভিযোগ রাজশাহী ক্রিকেটারদের

প্রকাশিত সময় : ০৪:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে দুর্বার রাজশাহীর পেমেন্টি ইস্যু নিয়ে ঝামেলা যেন শেষই হচ্ছে না। যেখানে গত রবিবার পারিশ্রমিকের চেক হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আপলোড করে এনামুল হক লিখেছিলেন, ‘All is well’ অর্থাৎ সব ঠিক আছে। তবে আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সেই চেক থেকে টাকা ক্রিকেটারদের ব্যাংক হিসেবে জমা হয়নি বলে দলটির ক্রিকেটারদের অভিযোগ। তারা জানিয়েছেন, চেক আবারও বাউন্স করেছে। অনেকে আবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষার কথাও জানিয়েছেন।

এর আগে আসরের চট্টগ্রাম পর্বে প্রকাশ্যে আসে রাজশাহীর পারিশ্রমিক সমস্যা। কোনো টাকা না পাওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি অনুশীলন বয়কট করেন দলটির ক্রিকেটাররা। এমনকি ১৭ জানুয়ারির ম্যাচও না খেলার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দেন তারা। পরে বিসিবির হস্তক্ষেপে ও ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে তাদের ম্যাচ খেলতে রাজি করায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

পরে সেদিনই পারিশ্রমিকের আরও ২৫ শতাংশ চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা জানানো হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম থাকতেই এক দফা প্রত্যাখ্যান হয় সেই চেক। এমনকি ঢাকায় ফিরেও চলতে থাকে এই নাটকীয়তা। পারিশ্রমিকের পরের অংশ না পাওয়ায় গত রবিবার ম্যাচ খেলতে মাঠেই আসেননি রাজশাহীর বিদেশি ক্রিকেটাররা।

কিন্তু রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সেদিন দেশিদের নিয়ে গড়া একাদশে খেলতে নামে রাজশাহী। দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেদিন ১২০ রানের পুঁজিতেও ম্যাচ জিতে নেয় তারা। মাঠে নামার আগেই তাদেরকে দেওয়া হয় আরেকটি চেক। তবে রাজশাহীর বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো টাকা জমা হয়নি তাদের ব্যাংক হিসাবে।

যদিও দলটির ওপেনার সাব্বির হোসেনসহ একাধিক ক্রিকেটার অবশ্য আশায় আছেন, মঙ্গলবার ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগেই টাকা পেয়ে যাবেন তারা। সাব্বির বলেন, ‘চেক জমা দিয়েছিলাম কালকে (সোমবার)। তবে টাকা এখনও একাউন্টে আসেনি। ব্যাংক থেকে বলেছিল, আজকে (মঙ্গলবার) পেয়ে যেতে পারি। ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগপর্যন্ত তো সময় আছে। এর মধ্যেই হয়ে যাবে আশা করি।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ক্রিকেটার আবার সেই অপেক্ষায় থাকতে রাজি নন। ‘কেমন আছেন’ জিজ্ঞেস করা হলে নিজ থেকেই তিনি বললেন, বারবার চেক প্রত্যাখ্যান হওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন তারা।

প্রথম পর্বের ১২ ম্যাচ শেষে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের খুব কাছাকাছি দলটি। তবে সেরা চারে তারা থাকবে কি না, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। আর প্লে-অফে জায়গা পেলে তাদের পরবর্তী ম্যাচ সোমবার।