বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় দলের নির্বাচক হান্নান সরকারের পদত্যাগ

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হান্নান সরকার পদত্যাগ করেছেন। রাইজিংবিডিকে হান্নান সরকার বলেছেন, কোচিং করানোর জন্য পদ ছেড়েছেন তিনি। বিসিবিতে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।

এর আগেও কোচিং পেশায় যুক্ত ছিলেন হান্নান। লেভেল-টু কোচিং কোর্স সম্পন্ন করা জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ এবং বিপিএলেও কোচিং করিয়েছেন।

কোচিং ছেড়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের নির্বাচক হয়েছিলেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল যেবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই দলের নির্বাচক ছিলেন তিনি। সেখান থেকে প্রমোশন পেয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের নির্বাচক হিসেবে যোগ দেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার সঙ্গেচুক্তি ছিল বিসিবির। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে চাকরি ছাড়লেন।

পুনরায় কোচিং পেশায় ফেরার আগ্রহের জন্যই নিজের পদত্যাগপত্র বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগ ছিল এক মাসের নোটিশের ভিত্তিতে।

এই ব্যাপারে হান্নান বলেন, ‘‘কাজটা (নির্বাচক) উপভোগ্য, সম্মানজনক হলেও আমি আসলে ঠিকঠাক কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। যখন নিয়োগ পেয়েছিলাম তখন যেভাবে কথা হয়েছিল সেভাবে আর পরবর্তীতে আগায়নি। এখন যেই বেতনটা পাচ্ছি সেটা আসলে কম এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। তাই আমার মনে হয়েছে এখান থেকে সরে যাওয়াটা ভালো।’’

‘‘ক্রিকেটের মানুষ। আমাকে ক্রিকেট নিয়েই থাকতে হবে। আমি কোচিং পেশায় আবার ফিরতে চাই। আমি যেভাবে খেলা ছাড়ার পর নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলাম সেটাই আবার করতে চাই। আমার সেই সুযোগও রয়েছে এবং কাজটা আমার জন্য আরো সহজ হবে।’’- হান্নান যোগ করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে বলতেই হান্নান স্বপ্নের কথাও বললেন, ‘‘সালাউদ্দিন ভাই তো এখন জাতীয় দলের কোচ হয়েছেন। এটা খুবই ভালো দিক এবং আমাদের জন্য পথ প্রদর্শক। বলতে পারেন আমার কোচিংয়ে ফেরার বাড়তি প্রেরণাও পেয়েছি। আমারও ইচ্ছা জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে একদিন যুক্ত হবো।’’

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে হান্নান এখন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে বেতন পাচ্ছিলেন।  প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ২ লাখ টাকার কাছাকাছি বেতন পান। আরেক সহকারী আব্দুর রাজ্জাক বেতন পাচ্ছেন হান্নান সরকারের মতোই।

জানা গেছে, কিছুদিনের ভেতরেই হান্নান নামকরা গ্রুপের ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। সেখানেই আপাতত নিজের পূর্ণ মনোযোগ রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

জাতীয় দলের নির্বাচক হান্নান সরকারের পদত্যাগ

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হান্নান সরকার পদত্যাগ করেছেন। রাইজিংবিডিকে হান্নান সরকার বলেছেন, কোচিং করানোর জন্য পদ ছেড়েছেন তিনি। বিসিবিতে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তার।

এর আগেও কোচিং পেশায় যুক্ত ছিলেন হান্নান। লেভেল-টু কোচিং কোর্স সম্পন্ন করা জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ এবং বিপিএলেও কোচিং করিয়েছেন।

কোচিং ছেড়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের নির্বাচক হয়েছিলেন। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল যেবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই দলের নির্বাচক ছিলেন তিনি। সেখান থেকে প্রমোশন পেয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের নির্বাচক হিসেবে যোগ দেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার সঙ্গেচুক্তি ছিল বিসিবির। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যে চাকরি ছাড়লেন।

পুনরায় কোচিং পেশায় ফেরার আগ্রহের জন্যই নিজের পদত্যাগপত্র বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগ ছিল এক মাসের নোটিশের ভিত্তিতে।

এই ব্যাপারে হান্নান বলেন, ‘‘কাজটা (নির্বাচক) উপভোগ্য, সম্মানজনক হলেও আমি আসলে ঠিকঠাক কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। যখন নিয়োগ পেয়েছিলাম তখন যেভাবে কথা হয়েছিল সেভাবে আর পরবর্তীতে আগায়নি। এখন যেই বেতনটা পাচ্ছি সেটা আসলে কম এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। তাই আমার মনে হয়েছে এখান থেকে সরে যাওয়াটা ভালো।’’

‘‘ক্রিকেটের মানুষ। আমাকে ক্রিকেট নিয়েই থাকতে হবে। আমি কোচিং পেশায় আবার ফিরতে চাই। আমি যেভাবে খেলা ছাড়ার পর নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলাম সেটাই আবার করতে চাই। আমার সেই সুযোগও রয়েছে এবং কাজটা আমার জন্য আরো সহজ হবে।’’- হান্নান যোগ করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে বলতেই হান্নান স্বপ্নের কথাও বললেন, ‘‘সালাউদ্দিন ভাই তো এখন জাতীয় দলের কোচ হয়েছেন। এটা খুবই ভালো দিক এবং আমাদের জন্য পথ প্রদর্শক। বলতে পারেন আমার কোচিংয়ে ফেরার বাড়তি প্রেরণাও পেয়েছি। আমারও ইচ্ছা জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে একদিন যুক্ত হবো।’’

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে হান্নান এখন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে বেতন পাচ্ছিলেন।  প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ২ লাখ টাকার কাছাকাছি বেতন পান। আরেক সহকারী আব্দুর রাজ্জাক বেতন পাচ্ছেন হান্নান সরকারের মতোই।

জানা গেছে, কিছুদিনের ভেতরেই হান্নান নামকরা গ্রুপের ক্রিকেট একাডেমিতে কোচ হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। সেখানেই আপাতত নিজের পূর্ণ মনোযোগ রাখবেন।