“কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবেনা”, স্লোগানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেম বঞ্চিত সংঘের আয়োজনে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন মার্কেটে সকাল সাড়ে ১০টায় এ সমাবেশের শুরু হয় এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন যায়গা প্রদক্ষিণসহ মহিলা হলগুলোর সামনে দিয়ে এ বিক্ষোভ সমাবেশের মিছিল পরিচালিত হয়।
এসময় তারা যেসব স্লোগান দেয় তা হলো,’ কেউ পাবে কেউ পাবে না, তা হবে না তা হবেনা’ ‘তুমি কে আমি কে, বঞ্চিত বঞ্চিত ‘ ‘শিশু খাদ্যে কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’ ‘যোগ্য প্রেমিক হারালে, কাঁদতে হবে আড়ালে’ ‘দেহ দিয়ে প্রেম নয়, মন দিয়ে প্রেম হয় ‘ ‘প্রেমের নামে প্রহসন, চলবে না চলবে না’ ইত্যাদি।
এসময়, প্রেম বঞ্চিত সংঘের দুষ্ট পুরুষ সনাক্তকরণ বিষয়ক সম্পাদক সারথি অনি বলেন, যেসব পুরুষেরা প্রেমের নামে ধোঁকা দেয়, একসাথে ২-৩ জনের সাথে প্রেম করে তাদেরকে আমরা সাবধান করে দিতে চায়। বাংলাদেশের আইনে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। আমার ছোটবোনদের সুরক্ষা করতেই আমার এই পদে আসা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ভালোবাসা বলতে আমরা শুধু কপোত-কপোতীর ভালোবাসাকেই বুঝি কিন্তু আমাদের এই সংঘের থিম হলো সব ধরনের ভালোবাসার বঞ্চিতের যে যায়গা সেটা তুলে ধরা। যেমন আমাদের শিক্ষকদের কথা যদি বলি তারা মেয়েদেরকে যেভাবে ট্রিট করে আমাদের সেভাবে করে না। আবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কোনো প্রয়োজনে গেলে আমাদের বলে লাঞ্চের পর আসতে কিন্তু কোনো মেয়ে গেলে তাকে বলে আমাদের সাথেই লাঞ্চ করো এটাও ভালোবাসা বঞ্চিতের একটা ব্যাপার। তাই ভালোবাসা ব্যাপারটি ছেলে-মেয়ে আলাদাভাবে না দেখে সমানভাবে বন্টন করা হোক।
প্রেম বঞ্চিত সংঘের সভাপতি শাহ্ পরান বলেন, প্রেম বলতে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা প্রেম করবে বিষয়টা এরকম না। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের প্রেম হয় শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীর প্রেম হয়। কিন্তু আমাদের সমাজের সবক্ষেত্রে প্রেমের অসম বন্টন দেখতে পায়। আপনার সন্তান, তার প্রতিবেশী বা আত্মীয়ের থেকে কতোটুকু ভালোবাসা পাবে তা নির্ভর করে আপনার কতোটুকু অর্থ-সম্পদ আছে তার উপর, এর মাধ্যমে আপনার সন্তানও প্রেম থেকে বঞ্চিত। একইভাবে আমাদের সিনিয়রদের কাছ থেকে আমরা শুধু লাল – চা ছাড়া কিছু পাই না কিন্তু কোনো মেয়ে যদি খেতে চায় তার বেলায় কাচ্চি। আমরা সমাজের এসব অসম বন্টনের বিরোধী, আমরা চায় সমাজের ভেতর প্রেম সমানভাবে বিলিয়ে যাক।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে গণসাক্ষর কর্মসূচিসহ ক্যাম্পাসের মধ্যে রিকশাচালকদের হাতে ফুল তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি হয়।

রিপোর্টারের নাম 
























