শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামে বছরের যেসব দিন ফজিলতপূর্ণ

ইসলামে কোনো রাত-দিন, সর্বোপরি কোনো মুহূর্ত অশুভ কিংবা অকল্যাণকর নয়। মানুষ যেকোনো সময়কে সঠিক কাজের মাধ্যমে ফলপ্রসূ করতে পারে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক রাত-দিনকে তুলনামূলক বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু দিন নিয়ে যে দিনগুলোকে মহান আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

১. আশুরা : পৃথিবীর ইতিহাসে এই দিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, অন্যান্য আসমানি ধর্মেও এই দিনটি সম্মানিত। এ দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি আশাবাদী যে আশুরার রোজার অছিলায় আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
২. দুই ঈদের দিন : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় আসেন তখন মদিনাবাসীর দুটি উৎসবের দিবস ছিল।

রাসুল (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কী হিসেবে তোমরা এ দুদিন উৎসব পালন করো? তারা বলল, ইসলাম-পূর্ব যুগে আমরা এ দিন দুটিতে উৎসব পালন করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ দুটি দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন, ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০০৬)

৩. আরাফার দিন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আরাফার দিনের (৯ জিলহজ) রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দিবেন। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

৪. আইয়ামে তাশরিক : আইয়ামে তাশরিক হলো ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন।

আইয়ামে তাশরিক এবং তার আমল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৩)
এ আয়াতে ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর একবার তাকবিরে তাশরিক ওয়াজিব হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত আছে। (আত-তাফসিরুল কুরতুবি : ৩/৪; বাদায়িউস সানায়ি : ১/১৯৬)

৫. আইয়ামে বিজ : রাসুল (সা.) বলেন, তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো তাহলে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রেখো। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪৩৭)

এ রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সংযমের মাস (রমজান) ও প্রতি মাসে তিন দিন সারা বছর রোজার সমতুল্য।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৫৭৭

৬. জিলহজের প্রথম ১০ দিন : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই…।

(বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)
৭. জুমার দিন : পবিত্র কোরআনে সুরা জুমা নামে একটি আলাদা সুরাই অবতীর্ণ হয়েছে। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৭২৮)

৮. সোম ও বৃহস্পতিবার : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল উপস্থাপন করা হয়। সুতরাং আমি চাই যে আমার আমল পেশ করার মুহূর্তে যেন আমি রোজা অবস্থায় থাকি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৬৩৯)

আরেক হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৩৮)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে উক্ত দিনগুলোর ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসলামে বছরের যেসব দিন ফজিলতপূর্ণ

প্রকাশিত সময় : ১০:০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ইসলামে কোনো রাত-দিন, সর্বোপরি কোনো মুহূর্ত অশুভ কিংবা অকল্যাণকর নয়। মানুষ যেকোনো সময়কে সঠিক কাজের মাধ্যমে ফলপ্রসূ করতে পারে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক রাত-দিনকে তুলনামূলক বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু দিন নিয়ে যে দিনগুলোকে মহান আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

১. আশুরা : পৃথিবীর ইতিহাসে এই দিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, অন্যান্য আসমানি ধর্মেও এই দিনটি সম্মানিত। এ দিন রোজা রাখার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি আশাবাদী যে আশুরার রোজার অছিলায় আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
২. দুই ঈদের দিন : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন হিজরত করে মদিনায় আসেন তখন মদিনাবাসীর দুটি উৎসবের দিবস ছিল।

রাসুল (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, কী হিসেবে তোমরা এ দুদিন উৎসব পালন করো? তারা বলল, ইসলাম-পূর্ব যুগে আমরা এ দিন দুটিতে উৎসব পালন করতাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এ দুটি দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন, ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১২০০৬)

৩. আরাফার দিন : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আরাফার দিনের (৯ জিলহজ) রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে তিনি এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটিয়ে দিবেন। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

৪. আইয়ামে তাশরিক : আইয়ামে তাশরিক হলো ৯ জিলহজ থেকে ১৩ জিলহজ পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন।

আইয়ামে তাশরিক এবং তার আমল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৩)
এ আয়াতে ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর একবার তাকবিরে তাশরিক ওয়াজিব হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত আছে। (আত-তাফসিরুল কুরতুবি : ৩/৪; বাদায়িউস সানায়ি : ১/১৯৬)

৫. আইয়ামে বিজ : রাসুল (সা.) বলেন, তুমি যদি মাসে তিন দিন রোজা রাখো তাহলে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ রোজা রেখো। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪৩৭)

এ রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সংযমের মাস (রমজান) ও প্রতি মাসে তিন দিন সারা বছর রোজার সমতুল্য।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৫৭৭

৬. জিলহজের প্রথম ১০ দিন : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই…।

(বুখারি, হাদিস : ৯৬৯)
৭. জুমার দিন : পবিত্র কোরআনে সুরা জুমা নামে একটি আলাদা সুরাই অবতীর্ণ হয়েছে। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস : ১৭২৮)

৮. সোম ও বৃহস্পতিবার : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল উপস্থাপন করা হয়। সুতরাং আমি চাই যে আমার আমল পেশ করার মুহূর্তে যেন আমি রোজা অবস্থায় থাকি। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৬৩৯)

আরেক হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৩৮)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে উক্ত দিনগুলোর ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ