দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুজন নেতার সঙ্গে আলাপ হলে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ রেখেই নির্বাচন আদায় করতে চান। তাই সরকারের ওপর রাজনৈতি চাপ তৈরি করলেও তার প্রতি অসম্মান হোক এমন কিছুই করছেন না। একইভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিংবা জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যক্রমেরও সমালোচনা করবে বিএনপি। তবে সেটি সংঘাতে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি নিতে চাইবে না তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, ‘সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনা করা মানেই তাদের অসহযোগিতা করা নয়। আমরা তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময় বলে দেবে, নির্বাচনের দাবিতে বিএনপিকে কঠোর হতে হবে কি না?
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা পর্যায়ে সমাবেশ শুরু করেছে বিএনপি। এর মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচনী আবহও তৈরি করতে চায় তারা। পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে কর্মশালা করে যাচ্ছে, যাতে বিএনপির এই উদ্যোগের বিষয়ে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়।
বিএনপির কর্ম-কৌশলের প্রণয়নে যুক্ত এক নেতা বলেন, রমজানের আগেই সমাবেশ শেষ হবে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা হবে। রমজানে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও ইফতারকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে রমজান-পরবর্তী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে দলের নীতিনির্ধারকরা।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তার এই বক্তব্যে বিএনপি আশ্বস্ত। তবে নির্বাচন নিয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর নেতিবাচক মনোভাব আছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারে কি না তা নিয়ে সন্দিহান তারা। সে জন্য রাষ্ট্র সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করে রোডম্যাপ আদায় করতে চায় বিএনপি। নির্বাচনী রোডম্যাপ আদায়কে কেন্দ্র করে তাদের সব রাজনৈতিক কৌশল তৈরি হচ্ছে। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্রনেতৃত্বকে কেন্দ্র করে এক ধরনের সতর্ক অবস্থায় আছেন তারা।
বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে একটি পক্ষ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে চায়। এক্ষেত্রে তারা গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে নতুন দল গঠন প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছেন। সরকারে থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দল গঠন করা হচ্ছে বলে বিএনপি থেকে অভিযোগও করা হচ্ছে।

রিপোর্টারের নাম 
























