শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা আফ্রিকার

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো এই আসর খেলতে আসা আফগানদের পাত্তাই দেয়নি প্রোটিয়ারা। ওয়ানডেতে টানা ৬ ম্যাচ হারের পর জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে রায়ান রিকেলটনের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও এইডেন মার্করামের ফিফটিতে ৩১৫ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়ায় প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০৮ রানে থামে আফগানিস্তান

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ব্যক্তিগত ১০ রানে গুরবাজ ও ১৬ রানে জাদরান সাজঘরে ফেরেন। পরবর্তী ব্যাটার সাদিকুল্লাহ আটাল ১৬ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। মিডল অর্ডার ব্যাটার রহমত শাহই একমাত্র লড়াই চালিয়ে গেছেন। চারে নেমে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এর মাধ্যমে ২০৮ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। রহমত শাহ ৯২ বলে ৯ চার ও এক ছক্কার মারে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন। বাকিদের কেউই ২০ রানের কোটা পূরণ করতে পারেনি।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে কাগিসো রাবাদা তিনটি ও ওয়াইন মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি দুইটি করে উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক ওপেনার রায়ান রিকেলটন। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১০৬ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন ২৮ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার। পরে দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই খুব নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার রিকেলটন ও টনি ডি জর্জি। যদিও ২৮ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রায়ান রিকেলটন ও টেম্বা বাভুমা মিলে গড়ে তোলেন ১২৯ রানের অনবদ্য জুটি।

অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে ২৯তম ওভারের ৪র্থ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নবি। আম্পায়ার আউটের আঙ্গুল তুললেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বাভুমা। কিন্তু পরের বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের আগে সেদিকুল্লাহ অটলের হাতে ধরা পড়েন। ৭৬ বলে ৫৮ রান করে আউট হন তিনি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করতে ১০১ বল খেলেন রায়ান রিকেলটন। যদিও ১০৩ রান করেই রানআউট হয়ে যান তিনি। এরপর রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, এইডেন মার্করাম’রা ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ৪৬ বলে ৫২ রান করে আউট হন ডুসেন। ৩৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্করাম।

ইনিংসের শেষ দুই বলে ফজলহক ফারুকিকে বাউন্ডারি এবং ছক্কা মেরে ১০ রান নিয়ে দলীয় স্কোর ৬ উইকেটে ৩১৫ রানে নিয়ে যান উইয়ান মুল্ডার। ৬ বল খেলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। মাঝে ডেভিড মিলার ১৪ রান করে আউট হন। আফগান বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ নবি দুইটি ও ফজলহক ফারুকি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও নুর আহমদ একটি করে উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাগিসো রাবাদা ৩৬ রানে ৩টি ও লুঙ্গি এনগিদি ও উইয়ান মুলদার দুইটি করে উইকেট নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা আফ্রিকার

প্রকাশিত সময় : ০৮:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমবারের মতো এই আসর খেলতে আসা আফগানদের পাত্তাই দেয়নি প্রোটিয়ারা। ওয়ানডেতে টানা ৬ ম্যাচ হারের পর জয়ের স্বাদ পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে রায়ান রিকেলটনের অনবদ্য সেঞ্চুরি এবং রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ও এইডেন মার্করামের ফিফটিতে ৩১৫ রানের বড় সংগ্রহ দাড় করায় দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়ায় প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০৮ রানে থামে আফগানিস্তান

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। ব্যক্তিগত ১০ রানে গুরবাজ ও ১৬ রানে জাদরান সাজঘরে ফেরেন। পরবর্তী ব্যাটার সাদিকুল্লাহ আটাল ১৬ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। মিডল অর্ডার ব্যাটার রহমত শাহই একমাত্র লড়াই চালিয়ে গেছেন। চারে নেমে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। এর মাধ্যমে ২০৮ রানে থামে আফগানদের ইনিংস। রহমত শাহ ৯২ বলে ৯ চার ও এক ছক্কার মারে ৯০ রানের ইনিংস খেলেন। বাকিদের কেউই ২০ রানের কোটা পূরণ করতে পারেনি।

প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে কাগিসো রাবাদা তিনটি ও ওয়াইন মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি দুইটি করে উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক ওপেনার রায়ান রিকেলটন। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ১০৬ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন ২৮ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার। পরে দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই খুব নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার রিকেলটন ও টনি ডি জর্জি। যদিও ২৮ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রায়ান রিকেলটন ও টেম্বা বাভুমা মিলে গড়ে তোলেন ১২৯ রানের অনবদ্য জুটি।

অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে ২৯তম ওভারের ৪র্থ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নবি। আম্পায়ার আউটের আঙ্গুল তুললেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বাভুমা। কিন্তু পরের বলেই উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনের আগে সেদিকুল্লাহ অটলের হাতে ধরা পড়েন। ৭৬ বলে ৫৮ রান করে আউট হন তিনি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করতে ১০১ বল খেলেন রায়ান রিকেলটন। যদিও ১০৩ রান করেই রানআউট হয়ে যান তিনি। এরপর রাসি ভ্যান ডার ডুসেন, এইডেন মার্করাম’রা ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। ৪৬ বলে ৫২ রান করে আউট হন ডুসেন। ৩৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন মার্করাম।

ইনিংসের শেষ দুই বলে ফজলহক ফারুকিকে বাউন্ডারি এবং ছক্কা মেরে ১০ রান নিয়ে দলীয় স্কোর ৬ উইকেটে ৩১৫ রানে নিয়ে যান উইয়ান মুল্ডার। ৬ বল খেলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। মাঝে ডেভিড মিলার ১৪ রান করে আউট হন। আফগান বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ নবি দুইটি ও ফজলহক ফারুকি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও নুর আহমদ একটি করে উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাগিসো রাবাদা ৩৬ রানে ৩টি ও লুঙ্গি এনগিদি ও উইয়ান মুলদার দুইটি করে উইকেট নেন।