সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রীবহন করলে কঠোর ব্যবস্থা’

আসন্ন ঈদযাত্রায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (২১ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ হুঁশিয়ারি দেন।

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের সাত দিন সার্বক্ষণিক সব ধরনের বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার রেট চার্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।”

সদরঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ইজারাদারদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ না নিতে এবং যাত্রীদের হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “ঈদের আগে তিন দিন ও পরে তিন দিন সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে চলাচল করতে পারবে না। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যের ট্রাক পারাপারের অনুমতি থাকবে।”

নৌপথে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জলযান প্রস্তুত রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।”

তিনি আরও জানান, দূরপাল্লার লঞ্চে চারজন করে আনসার সদস্য নিয়োগে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থাকলে মালিকপক্ষকে দায় নিতে হবে। লঞ্চ বা ফেরিঘাটে কর্মরত স্টাফদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক।

অপরাধপ্রবণ অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও বরিশালের মেঘনা নদী নজরদারি আওতায় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব এলাকায় কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার করা হবে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ৩০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখতে হবে। রাস্তার ওপর কোনো বাস দাঁড় করানো যাবে না। পুলিশ কঠোরভাবে মনিটর করবে এবং প্রয়োজনে রেকার দিয়ে সরিয়ে দেবে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরকে সময়মতো সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার অনুরোধ জানান উপদেষ্টা

এছাড়া, প্রয়োজনীয় ড্রেজিং সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীকাল থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রীবহন করলে কঠোর ব্যবস্থা’

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

আসন্ন ঈদযাত্রায় নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (২১ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ হুঁশিয়ারি দেন।

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের আগের তিন দিন ও পরের সাত দিন সার্বক্ষণিক সব ধরনের বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার রেট চার্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।”

সদরঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ইজারাদারদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ না নিতে এবং যাত্রীদের হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, “ঈদের আগে তিন দিন ও পরে তিন দিন সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে চলাচল করতে পারবে না। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যের ট্রাক পারাপারের অনুমতি থাকবে।”

নৌপথে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জলযান প্রস্তুত রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।”

তিনি আরও জানান, দূরপাল্লার লঞ্চে চারজন করে আনসার সদস্য নিয়োগে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি থাকলে মালিকপক্ষকে দায় নিতে হবে। লঞ্চ বা ফেরিঘাটে কর্মরত স্টাফদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক।

অপরাধপ্রবণ অঞ্চল নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও বরিশালের মেঘনা নদী নজরদারি আওতায় থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এসব এলাকায় কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নৌবাহিনীর টহল জোরদার করা হবে। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ৩০ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখতে হবে। রাস্তার ওপর কোনো বাস দাঁড় করানো যাবে না। পুলিশ কঠোরভাবে মনিটর করবে এবং প্রয়োজনে রেকার দিয়ে সরিয়ে দেবে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরকে সময়মতো সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার অনুরোধ জানান উপদেষ্টা

এছাড়া, প্রয়োজনীয় ড্রেজিং সম্পন্ন হওয়ার পর আগামীকাল থেকে চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।