আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান আমাদের সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় শিক্ষক আটকের ঘটনায় এবং চার শিক্ষার্থীর চাঁদাবাজির বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করতে গতকাল পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম গোলাম সাদিককে। তাকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রী বিভাগের কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। এরই মধ্যে শিক্ষকের কক্ষটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।আমাদের সময়
গত ১১ মে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষ থেকে ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ পাপুল এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরের (এমবিএ) ছাত্রী মারিয়া খাতুন (২৫) আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৪ মে বিষয়টি নিয়ে আমাদের সময় অনলাইনে ‘রাবি শিক্ষকের কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় ছাত্রী, হাতেনাতে ধরা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। পরের দিন পত্রিকাতেও প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

ঘটনাটি প্রকাশের পর গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কক্ষে আটক হওয়া ছাত্রী মারিয়া খাতুন। তিনি দাবি করেন, ওই দিনের ঘটনার ভিডিও প্রকাশ না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সাংবাদিক, সাবেক সহসমন্বয়ক ও একজন ছাত্র ৩ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা চারজন হলেন কালবেলার সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাবি সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) যুগ্ম সম্পাদক (বহিষ্কৃত) সাজ্জাদ হোসেন সজীব, খবরের কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাবিসাসের সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) সিরাজুল ইসলাম সুমন ওরফে এস আই সুমন, ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশের) রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ও সাবেক সহসমন্বয়ক (আইবিএ বিভাগের ছাত্র) আতাউল্লাহ এবং আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নাজমুস সাকিব।
তবে একই দিন সংবাদ সম্মেলন করে সাজ্জাদ হোসেন সজীব ও সিরাজুল ইসলাম সুমন দাবি করে, তারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন।

চাঁদাবাজির বিষয়টি সামনে এনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক হেদায়েত উল্লাহ। এ বিষয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি মামলাও করেছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশের পর থেকে ওই শিক্ষক ও ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এসব দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, শিক্ষক ও ছাত্রীর নৈতিক স্খলনের বিষয় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রিপোর্টারের নাম 
























