সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশ এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে দাঁড়ালো, প্রশ্ন মঈন খানের

অন্তর্বর্তী সরকার এক সংকটময় পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নয় মাস পর দেশ কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়ালো তা জানতে চান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।

শনিবার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

আব্দুল মঈন খান বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা এবং ৫ আগস্টে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার ৯ মাস পর দেশ এমন পরিস্থিতিতে এসে কীভাবে দাঁড়ালো, আমি জানতে চাই। এই মুহূর্তে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, দেশের গণমানুষকেও সচেতন থাকতে হবে।”

কিছু ঐতিহাসিক সত্য রয়েছে, যা কখনো অস্বীকার করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “৭১ এর মতো ইতিহাসকে যারা অস্বীকার করতে চায়, তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা উচিত। আজকের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান একটিই, আর তা হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, “গণতন্ত্র প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্র‍্যাকটিস করা হলে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ৫ বছর জনগণের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের পরীক্ষা হলো নির্বাচন,সে নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সে পরীক্ষা থেকে বাদ। বলা হয় যে, অনেক নির্বাচনের মাধ্যমেও দেশ নাকি সঠিক পথে আসতে পারে নি। আমি বলতে চাই, বিগত ১৫ বছর দেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি। দোষটা নির্বাচনের নয়, দোষটা তাদের যারা নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন।”

মঈন খান বলেন, “বিশ্বের কোনো সংবিধানে কিন্তু খারাপ কথা লেখা থাকে না। দেশে ৭২ সালের পর ৭৫ সালে একটা সংবিধান এসেছিল। সে সময় সংবিধানে একটি সেকশন যুক্ত করা হয়েছিল,যার ফলাফল ছিল বাকশাল। পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেসব ছুঁড়ে ফেলা দেওয়া হয়েছে।”

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর, সংগঠনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাসুমসহ আরো অনেকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দেশ এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে দাঁড়ালো, প্রশ্ন মঈন খানের

প্রকাশিত সময় : ০৬:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকার এক সংকটময় পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের নয় মাস পর দেশ কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়ালো তা জানতে চান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।

শনিবার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

আব্দুল মঈন খান বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা এবং ৫ আগস্টে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার ৯ মাস পর দেশ এমন পরিস্থিতিতে এসে কীভাবে দাঁড়ালো, আমি জানতে চাই। এই মুহূর্তে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, দেশের গণমানুষকেও সচেতন থাকতে হবে।”

কিছু ঐতিহাসিক সত্য রয়েছে, যা কখনো অস্বীকার করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “৭১ এর মতো ইতিহাসকে যারা অস্বীকার করতে চায়, তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা উচিত। আজকের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান একটিই, আর তা হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, “গণতন্ত্র প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্র‍্যাকটিস করা হলে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ৫ বছর জনগণের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের পরীক্ষা হলো নির্বাচন,সে নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সে পরীক্ষা থেকে বাদ। বলা হয় যে, অনেক নির্বাচনের মাধ্যমেও দেশ নাকি সঠিক পথে আসতে পারে নি। আমি বলতে চাই, বিগত ১৫ বছর দেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি। দোষটা নির্বাচনের নয়, দোষটা তাদের যারা নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন।”

মঈন খান বলেন, “বিশ্বের কোনো সংবিধানে কিন্তু খারাপ কথা লেখা থাকে না। দেশে ৭২ সালের পর ৭৫ সালে একটা সংবিধান এসেছিল। সে সময় সংবিধানে একটি সেকশন যুক্ত করা হয়েছিল,যার ফলাফল ছিল বাকশাল। পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেসব ছুঁড়ে ফেলা দেওয়া হয়েছে।”

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর, সংগঠনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাসুমসহ আরো অনেকে।