বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নজরদারি করছে র‌্যাব

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) চলমান অভিযান আরো জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে দেশের সব শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ঘরমুখো মানুষের চলাচলের পথসমূহে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। র‌্যাবের কন্ট্রোলরুম, মোবাইল পেট্রোল, ক্যাম্প, অবজারভেশন পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংসহ নানা মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি।”

নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ঈদের সময় অনুষ্ঠানস্থল বা গণপরিবহনে নারীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সেজন্য মোবাইল কোর্ট ও র‌্যাব সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানান তিনি। কেউ হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাবকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টার্মিনালে থাকবে র‌্যাবের ওয়াচটাওয়ার ও কন্ট্রোলরুম।”

“অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হয়রানি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে র‌্যাবের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনিয়ম পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে টিকিট কালোবাজারি রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ।”

তিনি বলেন, “বড় ঈদগাহে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সুইপিং এবং সিসিটিভি কাভারেজ। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে নিয়মিত টহল থাকবে, অনলাইনে পশু কেনাবেচায় র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল কাজ করবে নিয়মিতভাবে।”

চামড়া বাজারে সিন্ডিকেট রোধেও র‌্যাব ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, “চামড়া কেনাবেচায় কিছু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে-এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।”

শপিংমল ঘিরেও র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে যেন ক্রেতারা নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন। ঈদের ছুটিতে মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সারা দেশে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি অব্যাহত আছে। যদি কোনো অপতৎপরতা নজরে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে আগের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নজরদারি করছে র‌্যাব

প্রকাশিত সময় : ০৬:২৯:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) চলমান অভিযান আরো জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে দেশের সব শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, টার্মিনাল, গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ঘরমুখো মানুষের চলাচলের পথসমূহে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। র‌্যাবের কন্ট্রোলরুম, মোবাইল পেট্রোল, ক্যাম্প, অবজারভেশন পোস্ট, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”

এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য ও সাইবার মনিটরিংসহ নানা মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছি।”

নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ঈদের সময় অনুষ্ঠানস্থল বা গণপরিবহনে নারীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সেজন্য মোবাইল কোর্ট ও র‌্যাব সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানান তিনি। কেউ হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাবকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টার্মিনালে থাকবে র‌্যাবের ওয়াচটাওয়ার ও কন্ট্রোলরুম।”

“অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হয়রানি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে র‌্যাবের টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনিয়ম পেলেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে টিকিট কালোবাজারি রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ।”

তিনি বলেন, “বড় ঈদগাহে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সুইপিং এবং সিসিটিভি কাভারেজ। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে নিয়মিত টহল থাকবে, অনলাইনে পশু কেনাবেচায় র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং সেল কাজ করবে নিয়মিতভাবে।”

চামড়া বাজারে সিন্ডিকেট রোধেও র‌্যাব ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, “চামড়া কেনাবেচায় কিছু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে-এ বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।”

শপিংমল ঘিরেও র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে যেন ক্রেতারা নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন। ঈদের ছুটিতে মানুষের বাসস্থান, কর্মস্থল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সারা দেশে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি অব্যাহত আছে। যদি কোনো অপতৎপরতা নজরে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “র‌্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে আগের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন হবে।”