শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে জুয়েলের হত্যাকারিকে ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের হাড়িয়াপাড়া গ্রামে কৃষক জুয়েল রানা হত্যাকান্ডের ১৮ দিন পর হলেও আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়রা এ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে উপজেলার হাড়িয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যাক্তিরা জুয়েল রানার হত্যাকারী তোফাজ্জল হোসেন লাবুর গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবী জানান। মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী রিতা বেগম বলেন, আমার ছোট্ট একটা সন্তান নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছি। আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের আজ ১৮ দিন পার হয়ে গেল পুলিশ আসামী তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি কার কাছে বিচার চাবো। আমার স্বামীর হত্যাকারী কি গ্রেপ্তার হবে না।
নিহতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে যে হত্যা করেছে আমি তার ফাঁসি চাই। হত্যার বদলে হত্যা। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে আসামীর পরিবারের লোকজন। নইলে তারা আমার বড় ছেলেকেও হত্যা করবে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
নিহতের বোন নিলুফা বলেন, আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় পুলিশ কিছুই করছে না। ১৮ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

 

এদিকে অতিদ্রুত আসামী তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলে আগামিতে আরোও কঠোর কর্মসূচী দেবেন বলে জানান মানাববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রামবাসী।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন দিবাগত রাতে জুয়েল রানা তার বাড়ির পাশে একটি চা স্টলে বসে থেকে মোবাইল ফোন চালাচ্ছিল এ সময় একই গ্রামের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তোফাজ্জল হোসেন লাবু নামের এক ব্যক্তি পেছন থেকে লাঠি দিয়ে তার মাথায় দুটি আঘাত করেন। আঘাত করার সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে জুয়েল রানা। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুন মারা যান তিনি।

পরে এঘটনায় দুর্গাপুর থানায় তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মামলার আসামীকে গ্রেপ্তার করতে। আশা করি খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুর্গাপুরে জুয়েলের হত্যাকারিকে ১৮ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের হাড়িয়াপাড়া গ্রামে কৃষক জুয়েল রানা হত্যাকান্ডের ১৮ দিন পর হলেও আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়রা এ হত্যাকান্ডের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে উপজেলার হাড়িয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া ব্যাক্তিরা জুয়েল রানার হত্যাকারী তোফাজ্জল হোসেন লাবুর গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবী জানান। মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী রিতা বেগম বলেন, আমার ছোট্ট একটা সন্তান নিয়ে মানবতার জীবনযাপন করছি। আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের আজ ১৮ দিন পার হয়ে গেল পুলিশ আসামী তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি কার কাছে বিচার চাবো। আমার স্বামীর হত্যাকারী কি গ্রেপ্তার হবে না।
নিহতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার সন্তানকে যে হত্যা করেছে আমি তার ফাঁসি চাই। হত্যার বদলে হত্যা। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে আসামীর পরিবারের লোকজন। নইলে তারা আমার বড় ছেলেকেও হত্যা করবে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
নিহতের বোন নিলুফা বলেন, আমাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রতিটা মুহূর্তে আমাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় পুলিশ কিছুই করছে না। ১৮ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমার ভাইয়ের খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

 

এদিকে অতিদ্রুত আসামী তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলে আগামিতে আরোও কঠোর কর্মসূচী দেবেন বলে জানান মানাববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রামবাসী।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন দিবাগত রাতে জুয়েল রানা তার বাড়ির পাশে একটি চা স্টলে বসে থেকে মোবাইল ফোন চালাচ্ছিল এ সময় একই গ্রামের পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তোফাজ্জল হোসেন লাবু নামের এক ব্যক্তি পেছন থেকে লাঠি দিয়ে তার মাথায় দুটি আঘাত করেন। আঘাত করার সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে জুয়েল রানা। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুন মারা যান তিনি।

পরে এঘটনায় দুর্গাপুর থানায় তোফাজ্জল হোসেন লাবুকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।
এবিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি মামলার আসামীকে গ্রেপ্তার করতে। আশা করি খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।