বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেমঘটিত কারণে হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে রাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রেমঘটিত কারণে হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের চার তলার উপর থেকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লাফিয়ে নিচে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার দুই পা ভেঙে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তিনি বর্তমানে রামেকের ৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
তার নাম সাদ আহমেদ। বাসা সিরাজগঞ্জ। তিনি কুরআনের একজন হাফেজ। তার বাবা আরেকটি বিয়ে করায় তিনি তার বাবার পরিচয় কাউকে দিতেন না।  আত্মহত্যার চেষ্টার আগে তিনি ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট করেন। সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভালোবাসি লিসা’।
তার প্রেমিকা লিসাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, লিসা তুমি জানতা তোমাকে আমি কত্তটা ভালোবাসি তবুও কেন এমন করলে? সব জায়গায় সেইম ইফোর্ট সেইম ডায়ালগ কীভাবে পারো লিসা? মানুষ এতটা সাইকো কীভাবে হয়? তোমাকে তো বলেই ছিলাম আমার সাথে চিট করলে কিন্তু আমার বন্ধু ফিরোজের মতো আমাকেও মরা ছাড়া উপায় থাকবে না। এত্ত করে বুঝাইলাম তাও বুঝলে না।
আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, সরি আম্মু পারলে মাফ করে দিও। তুমি আমার আম্মু ছিলা, তুমি আমার আব্বু ছিলা।
আর আমার বাপ একটা জানোয়ার।
আরো একটি পোস্টে লিখেছেন, সময়ের অভাব আর কষ্টের কারণে সব ভালোভাবে বলতে পারলাম না। আর হা আমার খুব ইচ্ছা আমার কবর হবে মসজিদের পাশে। যেখান থেকে আমি ইমামের তেলাওয়াত শুনতে পারবো। আর প্লিজ কেউ একটু আম্মুক দেইখেন ফাইনানসিয়ালি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি মাত্রই ছাদে উঠেছিলাম, তিনতলায় উঠার পরে একজন জোরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এবং পরক্ষণেই হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। তারপর ওখান থেকে দৌঁড়ে এসে দেখি একজন মাটিতে পড়ে আছে। তার পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দুই পাই ভেঙে গেছে মনে হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে রামেকে নিয়ে যায়।
তার এক বন্ধু বলেন, ছেলেটা খুব সহজ সরল ছিল। ও কুরআনের হাফেজ ছিল। ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়তো। তবে ওর কিছু আর্থিক সমস্যা ছিল এবং বাসায় সমস্যা ছিল।
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। ঘটনাটি শোনার পর হলে গিয়ে শুনতে পেলাম তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে ফার্স্ট ব্লকের চারতলা থেকে লাফ দিয়েছিল। সম্ভবত তার একটা পা ভেঙ্গে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাটি শোনামাত্রই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাইছি। তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

প্রেমঘটিত কারণে হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে রাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

প্রকাশিত সময় : ১১:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
প্রেমঘটিত কারণে হলের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের চার তলার উপর থেকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লাফিয়ে নিচে পড়েন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার দুই পা ভেঙে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তিনি বর্তমানে রামেকের ৪ নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
তার নাম সাদ আহমেদ। বাসা সিরাজগঞ্জ। তিনি কুরআনের একজন হাফেজ। তার বাবা আরেকটি বিয়ে করায় তিনি তার বাবার পরিচয় কাউকে দিতেন না।  আত্মহত্যার চেষ্টার আগে তিনি ফেসবুকে কয়েকটি পোস্ট করেন। সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভালোবাসি লিসা’।
তার প্রেমিকা লিসাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, লিসা তুমি জানতা তোমাকে আমি কত্তটা ভালোবাসি তবুও কেন এমন করলে? সব জায়গায় সেইম ইফোর্ট সেইম ডায়ালগ কীভাবে পারো লিসা? মানুষ এতটা সাইকো কীভাবে হয়? তোমাকে তো বলেই ছিলাম আমার সাথে চিট করলে কিন্তু আমার বন্ধু ফিরোজের মতো আমাকেও মরা ছাড়া উপায় থাকবে না। এত্ত করে বুঝাইলাম তাও বুঝলে না।
আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, সরি আম্মু পারলে মাফ করে দিও। তুমি আমার আম্মু ছিলা, তুমি আমার আব্বু ছিলা।
আর আমার বাপ একটা জানোয়ার।
আরো একটি পোস্টে লিখেছেন, সময়ের অভাব আর কষ্টের কারণে সব ভালোভাবে বলতে পারলাম না। আর হা আমার খুব ইচ্ছা আমার কবর হবে মসজিদের পাশে। যেখান থেকে আমি ইমামের তেলাওয়াত শুনতে পারবো। আর প্লিজ কেউ একটু আম্মুক দেইখেন ফাইনানসিয়ালি।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি মাত্রই ছাদে উঠেছিলাম, তিনতলায় উঠার পরে একজন জোরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এবং পরক্ষণেই হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পাই। তারপর ওখান থেকে দৌঁড়ে এসে দেখি একজন মাটিতে পড়ে আছে। তার পায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। দুই পাই ভেঙে গেছে মনে হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্স এসে তাকে রামেকে নিয়ে যায়।
তার এক বন্ধু বলেন, ছেলেটা খুব সহজ সরল ছিল। ও কুরআনের হাফেজ ছিল। ছিল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়তো। তবে ওর কিছু আর্থিক সমস্যা ছিল এবং বাসায় সমস্যা ছিল।
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। ঘটনাটি শোনার পর হলে গিয়ে শুনতে পেলাম তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে ফার্স্ট ব্লকের চারতলা থেকে লাফ দিয়েছিল। সম্ভবত তার একটা পা ভেঙ্গে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাটি শোনামাত্রই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাইছি। তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি।