শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গার্ল গাইডস কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজশাহীর ফারিয়া

রাজশাহীর গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন এই শহরেরই কৃতি শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরী ফারিয়া। মাত্র ২১ বছর বয়সে দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্র মাদাগাস্কারে অনুষ্ঠিত গার্ল গাইডস অ্যান্ড গার্ল স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি ‘ইয়েস গার্লস মুভমেন্ট’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।

বাংলাদেশ গার্লস গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করা ফারিয়া শুধু নিজের নয়, দেশ ও রাজশাহীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বর্তমানে তিনি উগান্ডায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে মাদাগাস্কারে কর্মরত আছেন। রাজশাহী মহানগরের রাণীনগর এলাকার ব্যবসায়ী এজাজুল হক বাবলুর কন্যা ফারিয়া রাজশাহী সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এসএসসি সম্পন্ন করেছেন খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ স্কুল থেকে। ২০১১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ গার্লস গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত।

২০২৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের পাঁচমারিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেন তিনি। ‘ইয়েস গার্লস মুভমেন্ট’ হলো এশিয়া ও আফ্রিকার ১১টি দেশের তরুণ গার্ল গাইডদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর এক্সচেঞ্জ কো-অপারেশন (NOREC)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীরা ভিন্ন দেশের গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করে নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পান।

বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকে এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। দূর মাদাগাস্কার থেকে মোবাইল ফোনে উত্তরভূমিকে ফারিয়া বলেন,“বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। এখানকার সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা দেখে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার পরিবার, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী অঞ্চল, শিক্ষক ও সহপাঠী গাইড বোনেরা।

তাঁদের সহায়তা ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ফারিয়া জানান, কর্মসূচি শেষে দেশে ফিরে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান। তরুণদের উদ্দেশ্যে ফারিয়ার বার্তা, “পড়ালেখার সময়ই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। যেকোনো পেশা থেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গার্ল গাইডস কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজশাহীর ফারিয়া

প্রকাশিত সময় : ১০:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

রাজশাহীর গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন এই শহরেরই কৃতি শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরী ফারিয়া। মাত্র ২১ বছর বয়সে দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপ রাষ্ট্র মাদাগাস্কারে অনুষ্ঠিত গার্ল গাইডস অ্যান্ড গার্ল স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি ‘ইয়েস গার্লস মুভমেন্ট’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।

বাংলাদেশ গার্লস গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণ করা ফারিয়া শুধু নিজের নয়, দেশ ও রাজশাহীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বর্তমানে তিনি উগান্ডায় প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শেষে মাদাগাস্কারে কর্মরত আছেন। রাজশাহী মহানগরের রাণীনগর এলাকার ব্যবসায়ী এজাজুল হক বাবলুর কন্যা ফারিয়া রাজশাহী সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এসএসসি সম্পন্ন করেছেন খাদেমুল ইসলাম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ স্কুল থেকে। ২০১১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ গার্লস গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত।

২০২৪ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের পাঁচমারিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেন তিনি। ‘ইয়েস গার্লস মুভমেন্ট’ হলো এশিয়া ও আফ্রিকার ১১টি দেশের তরুণ গার্ল গাইডদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম। নরওয়েজিয়ান এজেন্সি ফর এক্সচেঞ্জ কো-অপারেশন (NOREC)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীরা ভিন্ন দেশের গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করে নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ পান।

বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকে এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। দূর মাদাগাস্কার থেকে মোবাইল ফোনে উত্তরভূমিকে ফারিয়া বলেন,“বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। এখানকার সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা দেখে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার পরিবার, বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী অঞ্চল, শিক্ষক ও সহপাঠী গাইড বোনেরা।

তাঁদের সহায়তা ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ফারিয়া জানান, কর্মসূচি শেষে দেশে ফিরে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান। তরুণদের উদ্দেশ্যে ফারিয়ার বার্তা, “পড়ালেখার সময়ই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। যেকোনো পেশা থেকেই সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”