শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা রনিকে ধরতে বাড়ি ঘেরাও, বিদেশ থেকে ফোনে বললেন লাভ নাই

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনিকে ধরতে একটি ভবন ঘেরাও করা হয়। আজ বুধবার দুপুর থেকে মহানগর ও জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা নগরীর পারিজাত এলাকায় সাবেক এক যুবলীগ নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতে যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রনি ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তল্লাশি শুরু করেন। ঘন্টা দুয়েক তল্লাশির পরেও হত্যাসহ অন্তত ৭টি মামলার আসামি রনিকে তারা পাননি।

বিকেল চারটার দিকে যুবদলের এক নেতাকে ফোন করে রনি বলেন, ‘এত কষ্ট করছেন, আমি আপনাদের থেকে অনেক দূরে। আমাকে খুঁজে লাভ হবে না, পাবেন না ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের পতনের দিনই আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগ নেতা রনি। ইতিমধ্যে তিনি দেশ ত্যাগও করেছেন। তিনি মালেয়শিয়ায় অবস্থান করছেন। জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকোকে ফোন করেন যুবলীগ নেতা রনি আরও বলেন, ‘ডিকো ভাই, আপনারা এত কষ্ট করে অভিযান করছেন। আমি আপনাদের থেকে অনেক দূরে।

আমাকে খুঁজে লাভ হবে না, পাবেন না। ঠিক সময়মতো আমি নিজেই আত্মসমর্পণ করব, ধরা দিব।’ জবাবে ডিকো বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আপনি আত্মসমর্পণ করেন। নিজের দোষ স্বীকার করেন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করি।’ তখন সময় হলেই আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান রনি। এ সময় ডিকো জানতে চান, ‘সিটি করপোরেশনের অস্ত্র আপনার ছিল নাকি মেয়র (এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন) সাহেবের ছিল? আপনার ভিডিও ফুটেজ আছে।’ জবাবে রনি বলেন, ‘ভাই, কোথায় আমার হাতে অস্ত্র দেখেছেন? ভিডিওতে দেখান। ছবিতে দেখান। আমার হাতে অস্ত্র নাই।’ ডিকো বলেন, ‘রাজশাহীতে অস্ত্রের রাজনীতি শুরুই করেছেন আপনি, ভাইয়া।’ রনি বলেন, ‘বাজে কথা।’ ডিকো বলেন, ‘ঠিক আছে।

ওপরে আল্লাহ আছে। সত্য-মিথ্যা আল্লাহই জানে।’ রনি বলেন, ‘আমরা মুসলমান মরতে হবে। যদি অন্যায় করি, আল্লাহ বিচার করবে। ভালো থাকেন ভাই, দেখা হবে ইনশা আল্লাহ।’ রনির এই ফোনের পর অভিযান শেষ করে পুলিশ ও যুবদল নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে যুবদল নেতা ডিকো বলেন, ‘রনি আমাকে ফোন করেছিল। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা এখানে আছেন।

বুঝতে পারলাম, এই বাড়িতে অভিযান হওয়ায় তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন।’ রনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন দেশে সুবিচার নেই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন যেদিন বলবেন, সেদিনই দেশে ফিরব। যদি অন্যায় কোনো করে থাকি, সুশাসন ফিরলে শাস্তি হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সঙ্গে দেখা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে যুবলীগ নেতা রনিকে ধরতে বাড়ি ঘেরাও, বিদেশ থেকে ফোনে বললেন লাভ নাই

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌরিদ আল মাসুদ রনিকে ধরতে একটি ভবন ঘেরাও করা হয়। আজ বুধবার দুপুর থেকে মহানগর ও জেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা নগরীর পারিজাত এলাকায় সাবেক এক যুবলীগ নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতে যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রনি ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে তল্লাশি শুরু করেন। ঘন্টা দুয়েক তল্লাশির পরেও হত্যাসহ অন্তত ৭টি মামলার আসামি রনিকে তারা পাননি।

বিকেল চারটার দিকে যুবদলের এক নেতাকে ফোন করে রনি বলেন, ‘এত কষ্ট করছেন, আমি আপনাদের থেকে অনেক দূরে। আমাকে খুঁজে লাভ হবে না, পাবেন না ভাই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের পতনের দিনই আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগ নেতা রনি। ইতিমধ্যে তিনি দেশ ত্যাগও করেছেন। তিনি মালেয়শিয়ায় অবস্থান করছেন। জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকোকে ফোন করেন যুবলীগ নেতা রনি আরও বলেন, ‘ডিকো ভাই, আপনারা এত কষ্ট করে অভিযান করছেন। আমি আপনাদের থেকে অনেক দূরে।

আমাকে খুঁজে লাভ হবে না, পাবেন না। ঠিক সময়মতো আমি নিজেই আত্মসমর্পণ করব, ধরা দিব।’ জবাবে ডিকো বলেন, ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আপনি আত্মসমর্পণ করেন। নিজের দোষ স্বীকার করেন। আমরা আপনার জন্য দোয়া করি।’ তখন সময় হলেই আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান রনি। এ সময় ডিকো জানতে চান, ‘সিটি করপোরেশনের অস্ত্র আপনার ছিল নাকি মেয়র (এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন) সাহেবের ছিল? আপনার ভিডিও ফুটেজ আছে।’ জবাবে রনি বলেন, ‘ভাই, কোথায় আমার হাতে অস্ত্র দেখেছেন? ভিডিওতে দেখান। ছবিতে দেখান। আমার হাতে অস্ত্র নাই।’ ডিকো বলেন, ‘রাজশাহীতে অস্ত্রের রাজনীতি শুরুই করেছেন আপনি, ভাইয়া।’ রনি বলেন, ‘বাজে কথা।’ ডিকো বলেন, ‘ঠিক আছে।

ওপরে আল্লাহ আছে। সত্য-মিথ্যা আল্লাহই জানে।’ রনি বলেন, ‘আমরা মুসলমান মরতে হবে। যদি অন্যায় করি, আল্লাহ বিচার করবে। ভালো থাকেন ভাই, দেখা হবে ইনশা আল্লাহ।’ রনির এই ফোনের পর অভিযান শেষ করে পুলিশ ও যুবদল নেতারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে যুবদল নেতা ডিকো বলেন, ‘রনি আমাকে ফোন করেছিল। যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা এখানে আছেন।

বুঝতে পারলাম, এই বাড়িতে অভিযান হওয়ায় তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছেন।’ রনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন দেশে সুবিচার নেই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন যেদিন বলবেন, সেদিনই দেশে ফিরব। যদি অন্যায় কোনো করে থাকি, সুশাসন ফিরলে শাস্তি হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই সবার সঙ্গে দেখা হবে।’