শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবু জাহেল কি মহানবী (সা.)-এর চাচা ছিল?

ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের উচ্চারণেই নেমে আসে ঘৃণার এক ছায়া। আবার কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো আলো ছড়ায় চিরন্তন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। ইসলামের ইতিহাসে এমনই এক অন্ধকার নাম—আবু জাহেল। যে ছিল হক ও সত্যের চরম বিরোধী, যে ছিল আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি কঠিনতম শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তি।
আবু জাহেল শুধু ইসলামবিরোধিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সে ছিল মহানবী (সা.)-এর প্রতি এমন একজন ব্যক্তিগত বিদ্বেষী, যে মহানবী (সা.)-এর রক্তপাতকেই জীবনের উদ্দেশ্য করে নিয়েছিল। তার প্রতিটি ষড়যন্ত্র, প্রতিটি অপপ্রচার, এমনকি হত্যাচেষ্টাও ছিল শুধুই মহানবী (সা.)-এর দাওয়াত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় দেখা যায়- কেউ কেউ আবু জাহেলকে মহানবী (সা.)-এর আপন চাচা বলে মনে করেন। তারা আবু জাহেলকে মহানবী (সা.)-এর পিতা খাজা আব্দুল্লাহর ভাই আবু লাহাবের মতোই একজন মনে করেন।

কিন্তু এই ধারণা ভুল। কারণ আবু লাহাব ছিলেন মহানবী (সা.)-এর সম্মানিত পিতা আব্দুল্লাহর আপন ভাই- অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিবের সন্তান। কিন্তু আবু জাহেল কুরাইশ গোত্রভুক্ত একজন হলেও আবদুল মুত্তালিবের বংশধারাভুক্ত কেউ ছিল না।আবু জাহেলের পূর্ণ নাম ছিল আমর ইবনু হিশাম ইবনু মুগীরাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু মাখযুম।
অর্থাৎ সে ছিল বনি মাখযুম গোত্রের সদস্য। এই গোত্রটি কুরাইশদের একটি শাখা হলেও আবু জাহেল মহানবী (সা.)-এর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় নয়। আর এ কথা তো সবাই জানেন যে, কুরাইশ গোত্র তৎকালীন আরব্য সমাজের সর্ববৃহৎ গোত্রগুলোর একটি ছিল।এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ হাদিস-ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘উমদাতুল কারী’-তে (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ৮৪) বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে আবু জাহেল মহানবী (সা.)-এর চাচা নন, বরং এক কট্টর শত্রু—যার বিদ্বেষ ও অহংকারই তাকে ‘উম্মতের ফেরাউন’ বলে চিহ্নিত করেছে।আল্লাহ আমাদের সঠিক ইতিহাস জানার তাওফিক দিন এবং সত্যকে সত্যরূপে উপলব্ধি করার যোগ্যতা দান করুন।

আমিন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আবু জাহেল কি মহানবী (সা.)-এর চাচা ছিল?

প্রকাশিত সময় : ১১:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
ইতিহাসে কিছু নাম থাকে, যাদের উচ্চারণেই নেমে আসে ঘৃণার এক ছায়া। আবার কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো আলো ছড়ায় চিরন্তন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। ইসলামের ইতিহাসে এমনই এক অন্ধকার নাম—আবু জাহেল। যে ছিল হক ও সত্যের চরম বিরোধী, যে ছিল আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি কঠিনতম শত্রুতা পোষণকারী ব্যক্তি।
আবু জাহেল শুধু ইসলামবিরোধিতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সে ছিল মহানবী (সা.)-এর প্রতি এমন একজন ব্যক্তিগত বিদ্বেষী, যে মহানবী (সা.)-এর রক্তপাতকেই জীবনের উদ্দেশ্য করে নিয়েছিল। তার প্রতিটি ষড়যন্ত্র, প্রতিটি অপপ্রচার, এমনকি হত্যাচেষ্টাও ছিল শুধুই মহানবী (সা.)-এর দাওয়াত বন্ধ করার উদ্দেশ্যে।কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, অনেক সময় দেখা যায়- কেউ কেউ আবু জাহেলকে মহানবী (সা.)-এর আপন চাচা বলে মনে করেন। তারা আবু জাহেলকে মহানবী (সা.)-এর পিতা খাজা আব্দুল্লাহর ভাই আবু লাহাবের মতোই একজন মনে করেন।

কিন্তু এই ধারণা ভুল। কারণ আবু লাহাব ছিলেন মহানবী (সা.)-এর সম্মানিত পিতা আব্দুল্লাহর আপন ভাই- অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিবের সন্তান। কিন্তু আবু জাহেল কুরাইশ গোত্রভুক্ত একজন হলেও আবদুল মুত্তালিবের বংশধারাভুক্ত কেউ ছিল না।আবু জাহেলের পূর্ণ নাম ছিল আমর ইবনু হিশাম ইবনু মুগীরাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উমার ইবনু মাখযুম।
অর্থাৎ সে ছিল বনি মাখযুম গোত্রের সদস্য। এই গোত্রটি কুরাইশদের একটি শাখা হলেও আবু জাহেল মহানবী (সা.)-এর রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় নয়। আর এ কথা তো সবাই জানেন যে, কুরাইশ গোত্র তৎকালীন আরব্য সমাজের সর্ববৃহৎ গোত্রগুলোর একটি ছিল।এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ হাদিস-ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘উমদাতুল কারী’-তে (খণ্ড ১৭, পৃষ্ঠা ৮৪) বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে আবু জাহেল মহানবী (সা.)-এর চাচা নন, বরং এক কট্টর শত্রু—যার বিদ্বেষ ও অহংকারই তাকে ‘উম্মতের ফেরাউন’ বলে চিহ্নিত করেছে।আল্লাহ আমাদের সঠিক ইতিহাস জানার তাওফিক দিন এবং সত্যকে সত্যরূপে উপলব্ধি করার যোগ্যতা দান করুন।

আমিন।