বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুই স্কুলের ২২ শিক্ষক পাস করাতে পারেননি ৩০ শিক্ষার্থীকে!

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি।

শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে এমপিওভুক্ত দুটি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। এর আগে, গতকাল এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়।

জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ২৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৪ জন। তবে, তাদের একজনও পাস করেনি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৭ জন। তার মধ্যে শিক্ষক ১২ জন।

অপরদিকে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে শিক্ষক ১০ জন। বিদ্যালয়টি থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মানবিক বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী। তবে সবাই ফেল করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহেদা বেগম এবং বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘‘গত ২ জুলাই আমি এখানে যোগদান করেছি। রেজাল্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী রবিবার বিস্তারিত বলতে পারব। তবে, জেলায় পাসের হার ৬২ শতাংশ এবং একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা দুটি।’’

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘প্রতি মাসে শিক্ষকদের এত টাকা বেতন দেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থী পাস করতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার। প্রতিষ্ঠান দুটিকে শতভাগ জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যেসব বিদ্যালয়ে ফেলের হার উদ্বেগজনক, তাদেরকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।’’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুই স্কুলের ২২ শিক্ষক পাস করাতে পারেননি ৩০ শিক্ষার্থীকে!

প্রকাশিত সময় : ১০:২৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি।

শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে এমপিওভুক্ত দুটি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান। এর আগে, গতকাল এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়।

জানা যায়, সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর ২৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৪ জন। তবে, তাদের একজনও পাস করেনি। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৭ জন। তার মধ্যে শিক্ষক ১২ জন।

অপরদিকে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে শিক্ষক ১০ জন। বিদ্যালয়টি থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মানবিক বিভাগের ৬ জন শিক্ষার্থী। তবে সবাই ফেল করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঘুরিদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শাহেদা বেগম এবং বিশ্বনাথপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘‘গত ২ জুলাই আমি এখানে যোগদান করেছি। রেজাল্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী রবিবার বিস্তারিত বলতে পারব। তবে, জেলায় পাসের হার ৬২ শতাংশ এবং একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা দুটি।’’

তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘‘প্রতি মাসে শিক্ষকদের এত টাকা বেতন দেওয়ার পরও একজন শিক্ষার্থী পাস করতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার। প্রতিষ্ঠান দুটিকে শতভাগ জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি যেসব বিদ্যালয়ে ফেলের হার উদ্বেগজনক, তাদেরকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।’’