শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে অবিস্ফোরিত পুরনো গ্রেনেড উদ্ধার 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করার সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি পুরনো পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।পরে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে গ্রেনেডটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার ২নং পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য নোয়াগাঁও গ্রামের ওমর মিয়ার বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় এই ঘটনা ঘটে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাখতাবুর রহমানের জায়গায় তার পরিবারের একজন নারী সদস্য সবজির বীজ রোপণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন। এ সময় তিনি মাটির নিচে শক্ত বস্তুর অস্তিত্ব টের পান এবং পরে ছোট আকারের গ্রেনেডটি বেরিয়ে আসে। পাশে থাকা আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তি গ্রেনেডের ছবিটি তুলে স্থানীয়দের জানালে দ্রুতই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং কমলগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানটি সংরক্ষণ করে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করে। গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য সিলেট থেকে সেনাবাহিনীর ১৭ সিলেট পদাতিক ডিভিশনের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। পরে, এসআই মিল্টনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গ্রেনেডটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
স্থানীয়দের ধারণা, গ্রেনেডটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।এই এলাকার পাশেই শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট অবস্থিত, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়েই গ্রেনেডটি এখানে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যা এতদিন অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মৌলভীবাজারে অবিস্ফোরিত পুরনো গ্রেনেড উদ্ধার 

প্রকাশিত সময় : ১০:১১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করার সময় মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি পুরনো পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখে এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।পরে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে গ্রেনেডটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার ২নং পতনউষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য নোয়াগাঁও গ্রামের ওমর মিয়ার বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় এই ঘটনা ঘটে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাখতাবুর রহমানের জায়গায় তার পরিবারের একজন নারী সদস্য সবজির বীজ রোপণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন। এ সময় তিনি মাটির নিচে শক্ত বস্তুর অস্তিত্ব টের পান এবং পরে ছোট আকারের গ্রেনেডটি বেরিয়ে আসে। পাশে থাকা আবু বক্কর নামে এক ব্যক্তি গ্রেনেডের ছবিটি তুলে স্থানীয়দের জানালে দ্রুতই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং কমলগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানটি সংরক্ষণ করে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করে। গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য সিলেট থেকে সেনাবাহিনীর ১৭ সিলেট পদাতিক ডিভিশনের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। পরে, এসআই মিল্টনের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গ্রেনেডটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।
স্থানীয়দের ধারণা, গ্রেনেডটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।এই এলাকার পাশেই শমশেরনগর বিমান বাহিনী ইউনিট অবস্থিত, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়েই গ্রেনেডটি এখানে নিক্ষেপ করা হয়েছিল যা এতদিন অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল।