বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে এবং অপরাধীদের বিচার শুরু করে এরপর নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের আগে দু-চারটা শীর্ষ অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা অবশ্যই আগামী বছরের প্রথমার্ধে করতে হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মরণে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
সমাবেশে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘মৌলিক সংস্কার না করে আগের মতো নির্বাচন হলে এটি জাতির জন্য আবারও দুঃখ ও বেদনার কারণ হবে। আমরা এটা চাই না এবং হতে দিতেও দেব না। নির্বাচনের আগে শীর্ষ অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সব বিচার এই সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। কিন্তু বিচারের ক্ষেত্রে আমরা সরকার ও বিচার বিভাগের আন্তরিকতা দেখতে চাই। অবশ্যই দৃশ্যমান কিছু দেখতে চাই। বিচারের এই ধারা চলমান থাকবে। যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব হবে বিচার চালিয়ে যাওয়া।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা। গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এবং মনের মতো দল বা ব্যক্তিকেও বাছাই করতে পারেনি। তাই আগামীর নির্বাচন এই জাতির অনেক প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি আমাদের সংস্কৃতি না। মানুষের ইজ্জতের ওপর হাত দেওয়া আমাদের সংস্কৃতি নয়। যে দল তার কর্মীদের এভাবে গড়ে তুলতে পেরেছে, সেই দলের হাতে দেশ আসলে তারা দেশও গড়ে তুলতে পারবে। যে দল তার কর্মীদের সামাল দিতে পারছে না বা পারবে না। সেই দলের হাতে দেশের একজন মানুষের জীবন নিরাপদ না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘একটা যুদ্ধ করেছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেকটা যুদ্ধ করবো দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের বিজয় হবে। রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা সেক্টর তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন অসহায় হয়ে পড়েছে। সব জায়গাতে সিন্ডিকেট, দ্রব্যমূলের সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে গেলে জিনিসপত্রের দাম ৪০ ভাগ কমে যাবে।’
অর্ন্তবর্তী সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের ভালো কাজে অবশ্যই আমাদের সমর্থন আছে। কিন্তু সরকারের যে জায়গায় দুর্বলতা, সেই জায়গায় আমরা ছাড় দিয়ে কথা বলার মানুষ নই। সত্য কথা আমাদের বলতে হবে।’
ডা. শফিক বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শহিদ পরিবারের সদস্যদের পাশেও সরকার ঠিকমতো দাঁড়ায়নি। আমরা সরকারে গেলে প্রথমেই আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার নিশ্চয়তাসহ শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়াবো।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আমির মখলিছুর রহমান, জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন, আবদুস সালাম আল মাদানী প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শাহজাহান আলী ও নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল। সভায় শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যুদ্ধারা বক্তব্য রাখেন।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























