রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১০ লাখ টাকার হেরোইন গায়েব, মাদক মামলা হয়ে গেল ছিনতাইয়ের মামলা

চাঞ্চল্যকর ‘মাদক গায়েব’ কাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ৬ মে রাতে থানা পুলিশের এক অভিযানে জেনেভা ক্যাম্প থেকে প্রায় ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ীকে। আটককৃত হেরোইনের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু থানার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এমন কোনো মাদক মামলা নথিভুক্ত হয়নি। এই ঘটনায় ওসি আলী ইফতেখার হাসান এবং এসআই মো. আলতাফসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ৩৫ বছর বয়সী সাদ্দাম ওরফে ম্যানেজার সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াটার পয়েন্ট ইউনিটের সেক্টর ৭-এর জি ব্লক থেকে। পুলিশ প্রথমে হেরোইনসহ তাকে আটকের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), জিডি, মামলার নম্বর ও চালান তৈরি করে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ৮(গ) উপধারায় ২৪ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এরপর অজানা কারণে মামলা গায়েব হয়ে যায় এবং সাদ্দামকে পুরোনো একটি মামলার ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

উল্লেখযোগ্য হলো, মামলার এফআইআর, চালান কপি, জিডির কাগজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে, যেখানে হেরোইনের অস্তিত্ব ও মামলার প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট। তবে পরবর্তীতে এসব কাগজের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। একই ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মোহাম্মদপুর থানা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এই মামলা নিয়ে অস্বচ্ছতা ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজু আহমেদ বলেন, তাকে মামলার তদন্তে নিয়োগ দেয়া হলেও পরে বলা হয় এটি মাদক মামলা নয়। থানার মুন্সী সাজেদুর জানান, প্রথমে হেরোইনের মামলা হলেও পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে সেটি বাতিল করা হয়। অন্যদিকে এসআই আলতাফ দাবি করেন, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো হেরোইন উদ্ধার করা হয়নি, তারা কেবল সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে থানায় এনেছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার একটি সিন্ডিকেট ওসির নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকের মামলায় টাকা লেনদেন করে। মাদক ব্যবসায়ী বুনিয়া সোহেল, চুয়া সেলিম এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মামলা এড়ানোর পথ করে দেন ওসি ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ২৬টির বেশি লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার বলেন, ঘটনার দিন ভুলবশত চালান লেখা হয়েছিল, যা পরে সংশোধন করা হয় এবং এখন তদন্ত চলছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা ও অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১০ লাখ টাকার হেরোইন গায়েব, মাদক মামলা হয়ে গেল ছিনতাইয়ের মামলা

প্রকাশিত সময় : ০৭:০৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

চাঞ্চল্যকর ‘মাদক গায়েব’ কাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ৬ মে রাতে থানা পুলিশের এক অভিযানে জেনেভা ক্যাম্প থেকে প্রায় ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ীকে। আটককৃত হেরোইনের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু থানার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এমন কোনো মাদক মামলা নথিভুক্ত হয়নি। এই ঘটনায় ওসি আলী ইফতেখার হাসান এবং এসআই মো. আলতাফসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, ৩৫ বছর বয়সী সাদ্দাম ওরফে ম্যানেজার সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াটার পয়েন্ট ইউনিটের সেক্টর ৭-এর জি ব্লক থেকে। পুলিশ প্রথমে হেরোইনসহ তাকে আটকের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), জিডি, মামলার নম্বর ও চালান তৈরি করে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ৮(গ) উপধারায় ২৪ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এরপর অজানা কারণে মামলা গায়েব হয়ে যায় এবং সাদ্দামকে পুরোনো একটি মামলার ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

উল্লেখযোগ্য হলো, মামলার এফআইআর, চালান কপি, জিডির কাগজসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সাংবাদিকদের হাতে এসেছে, যেখানে হেরোইনের অস্তিত্ব ও মামলার প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট। তবে পরবর্তীতে এসব কাগজের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। একই ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মোহাম্মদপুর থানা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এই মামলা নিয়ে অস্বচ্ছতা ছিল। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজু আহমেদ বলেন, তাকে মামলার তদন্তে নিয়োগ দেয়া হলেও পরে বলা হয় এটি মাদক মামলা নয়। থানার মুন্সী সাজেদুর জানান, প্রথমে হেরোইনের মামলা হলেও পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে সেটি বাতিল করা হয়। অন্যদিকে এসআই আলতাফ দাবি করেন, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো হেরোইন উদ্ধার করা হয়নি, তারা কেবল সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে থানায় এনেছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, থানার একটি সিন্ডিকেট ওসির নেতৃত্বে নিয়মিত মাদকের মামলায় টাকা লেনদেন করে। মাদক ব্যবসায়ী বুনিয়া সোহেল, চুয়া সেলিম এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে মামলা এড়ানোর পথ করে দেন ওসি ও তার সহযোগীরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ২৬টির বেশি লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার বলেন, ঘটনার দিন ভুলবশত চালান লেখা হয়েছিল, যা পরে সংশোধন করা হয় এবং এখন তদন্ত চলছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা ও অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট