মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তের গোলে মেসিদের রোমাঞ্চকর জয়

লিওনেল মেসি ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম পাস ফরওয়ার্ড লুইস সুয়ারেসকে দিলেন। সুয়ারেস ডিফেন্ডারদের অতিক্রম করে আবার আলতোভাবে বল ফিরিয়ে দিলেন অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া মেসিকে। আর্জেন্টাইন এই জাদুকরী যন্ত্র তার পিছনে এসে মার্সেলো ভাইগান্টের কাছে বল পৌঁছে দেন—ফাইনাল পাসে শুয়ে পড়ে মার্সেলো নিজেই বল পা বাড়িয়ে জালে পাঠালেন।

খুশিতে মেসিকে কোলে তুলে নেন সেই ডিফেন্ডারকে, মাঠ মাতায় বাকি সবাই। কিন্তু শীঘ্রই থামতে হয়—সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা বাতাসে উঁচু। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না! কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বারবার ভিএআর দেখার আবেদন করার পর, রিভিউ শেষে সিদ্ধান্ত আসে: গোল বৈধ ছিল।

এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইন্টার মায়ামি মেক্সিকোর আতলাস এফসিকে ২–১ গোলে হারিয়ে লিগস কাপ জয়ে শুরু করে। মেসি গোল না করলেও উভয় গোলেই ছিল তার অবিরাম অবদান।

এই ম্যাচে মায়ামির জার্সিতে অভিষেকের সুযোগ পান রদ্রিগো দে পোল—আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পুরো ম্যাচে নিজেকে যথেষ্টভাবে তুলে ধরেন।

সপ্তম মিনিটে তাদেও আইয়েন্দের ক্রস থেকে ভাইগান্টের কাছে গিয়েছিল বল, যা শেষ পর্যন্ত আতলাসের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে ছুটে যায়।

২২তম মিনিটে মেসি মাঠের মাঝন থেকে এক নিখুঁত থ্রু বল পৌঁছে দেন আইয়েন্দের কাছে; তার শট গোলকিপার কামিলো ভার্গাস থামিয়ে দেন।

২৫ মিনিটে আলফোন্সো গন্সালেসের ক্রস থেকে ফাঁকা থেকে হেডের চেষ্টা করেন এদুয়ার্দো আগিরে, কিন্তু গোলপোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সুয়ারেস একচেটিয়াভাবে গোলকিপারের সামনে অন্তত গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান, তবে পোস্টে লেগে ফিরে যায় তার শট।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই মেসির হেড গোল ব্যাসামানিকভাবে বাইরে। কিছু সময় পর সুয়ারেসের অন্য একটি গতিময় শট ভাঙা যায় ভার্গাসের দক্ষতায়।

৫৮তম মিনিটে আসে মায়ামির কাঙ্খিত গোলটি—যদি অফিসিয়ালি মেসির অ্যাসিস্ট করা হয়, তবে তাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সের্হিও বুসকেতসের। সেগোভিয়ার শট একটি আতলাস খেলোয়াড় ছুঁয়ে বাইরে গেলে বক্সের বাইরে থাকা বুসকেতস পেয়ে যান বলটি, আর তিনি ডিফেন্স কাটা এক পাস দিয়ে মেসিকে খুঁজে দেন। মেসি বক্সের ভিতর আলতোভাবে বল পাঠান আইয়েন্দেকে, কাটানো ডিফেন্ডারদের পাশ দিয়ে আইয়েন্দে তা জালে জড়ান।

পরের কয়েক মিনিটে সুয়ারেস আবার সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৮০তম মিনিটে আতলাস সমতায় ফেরে—রিভালদো লোসানো জটলার মাঝ থেকে গোল করেন।

তিন মিনিট পর আবার সুয়ারেসের শট ঠেকান ভার্গাস; সেটা ছিল দ্রুত রিফ্লেক্স দেখিয়ে বাইরে পাঠানো। এরপর আসে শেষ সময়ের নাটকীয় মুহূর্ত এবং মেসির দৌড়ে দলীয় উল্লাস।

লিগস কাপ হলো মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার সর্বোচ্চ দলগুলো নিয়ে আয়োজিত একটি উদ্বুদ্ধ টুর্নামেন্ট। এবারে এতে অংশ নিয়েছে মোট ৩৬টি দল—মেক্সিকো লিগের ১৮ ও যুক্তরাষ্ট্রের লিগের ১৮ দল। এই টুর্নামেন্ট প্রথম বড় আকারে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া পরই মায়ামি প্রথম শিরোপা জিতে, আর গত আসরে জয় করে কলম্বাস ক্রু।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শেষ মুহূর্তের গোলে মেসিদের রোমাঞ্চকর জয়

প্রকাশিত সময় : ১২:২৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

লিওনেল মেসি ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম পাস ফরওয়ার্ড লুইস সুয়ারেসকে দিলেন। সুয়ারেস ডিফেন্ডারদের অতিক্রম করে আবার আলতোভাবে বল ফিরিয়ে দিলেন অভ্যন্তরে ঢুকে পড়া মেসিকে। আর্জেন্টাইন এই জাদুকরী যন্ত্র তার পিছনে এসে মার্সেলো ভাইগান্টের কাছে বল পৌঁছে দেন—ফাইনাল পাসে শুয়ে পড়ে মার্সেলো নিজেই বল পা বাড়িয়ে জালে পাঠালেন।

খুশিতে মেসিকে কোলে তুলে নেন সেই ডিফেন্ডারকে, মাঠ মাতায় বাকি সবাই। কিন্তু শীঘ্রই থামতে হয়—সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা বাতাসে উঁচু। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিল না! কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো বারবার ভিএআর দেখার আবেদন করার পর, রিভিউ শেষে সিদ্ধান্ত আসে: গোল বৈধ ছিল।

এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইন্টার মায়ামি মেক্সিকোর আতলাস এফসিকে ২–১ গোলে হারিয়ে লিগস কাপ জয়ে শুরু করে। মেসি গোল না করলেও উভয় গোলেই ছিল তার অবিরাম অবদান।

এই ম্যাচে মায়ামির জার্সিতে অভিষেকের সুযোগ পান রদ্রিগো দে পোল—আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পুরো ম্যাচে নিজেকে যথেষ্টভাবে তুলে ধরেন।

সপ্তম মিনিটে তাদেও আইয়েন্দের ক্রস থেকে ভাইগান্টের কাছে গিয়েছিল বল, যা শেষ পর্যন্ত আতলাসের খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে ছুটে যায়।

২২তম মিনিটে মেসি মাঠের মাঝন থেকে এক নিখুঁত থ্রু বল পৌঁছে দেন আইয়েন্দের কাছে; তার শট গোলকিপার কামিলো ভার্গাস থামিয়ে দেন।

২৫ মিনিটে আলফোন্সো গন্সালেসের ক্রস থেকে ফাঁকা থেকে হেডের চেষ্টা করেন এদুয়ার্দো আগিরে, কিন্তু গোলপোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সুয়ারেস একচেটিয়াভাবে গোলকিপারের সামনে অন্তত গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান, তবে পোস্টে লেগে ফিরে যায় তার শট।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই মেসির হেড গোল ব্যাসামানিকভাবে বাইরে। কিছু সময় পর সুয়ারেসের অন্য একটি গতিময় শট ভাঙা যায় ভার্গাসের দক্ষতায়।

৫৮তম মিনিটে আসে মায়ামির কাঙ্খিত গোলটি—যদি অফিসিয়ালি মেসির অ্যাসিস্ট করা হয়, তবে তাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সের্হিও বুসকেতসের। সেগোভিয়ার শট একটি আতলাস খেলোয়াড় ছুঁয়ে বাইরে গেলে বক্সের বাইরে থাকা বুসকেতস পেয়ে যান বলটি, আর তিনি ডিফেন্স কাটা এক পাস দিয়ে মেসিকে খুঁজে দেন। মেসি বক্সের ভিতর আলতোভাবে বল পাঠান আইয়েন্দেকে, কাটানো ডিফেন্ডারদের পাশ দিয়ে আইয়েন্দে তা জালে জড়ান।

পরের কয়েক মিনিটে সুয়ারেস আবার সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৮০তম মিনিটে আতলাস সমতায় ফেরে—রিভালদো লোসানো জটলার মাঝ থেকে গোল করেন।

তিন মিনিট পর আবার সুয়ারেসের শট ঠেকান ভার্গাস; সেটা ছিল দ্রুত রিফ্লেক্স দেখিয়ে বাইরে পাঠানো। এরপর আসে শেষ সময়ের নাটকীয় মুহূর্ত এবং মেসির দৌড়ে দলীয় উল্লাস।

লিগস কাপ হলো মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার সর্বোচ্চ দলগুলো নিয়ে আয়োজিত একটি উদ্বুদ্ধ টুর্নামেন্ট। এবারে এতে অংশ নিয়েছে মোট ৩৬টি দল—মেক্সিকো লিগের ১৮ ও যুক্তরাষ্ট্রের লিগের ১৮ দল। এই টুর্নামেন্ট প্রথম বড় আকারে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া পরই মায়ামি প্রথম শিরোপা জিতে, আর গত আসরে জয় করে কলম্বাস ক্রু।